প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

৭টি জেলা ও ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : মুজিববর্ষে বাংলাদেশের সকল ঘরে আলো জ্বালানোর অঙ্গীকার

বিশেষ প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৭টি জেলা ও ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এসব উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে নতুন ৭টি জেলাসহ দেশের ৬৪টি জেলার ৪০টিতে শতভাগ বিদ্যুতায়ন হলো। একইভাবে ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের মধ্য দিয়ে মোট ৪১০টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এলো। এখন শতভাগ বিদ্যুতায়নের বাইরে রয়েছে ২৪টি জেলার ৫১টি উপজেলা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২০ সালে চলমান মুজিববর্ষের মধ্যেই বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মোট ৪৬১টি উপজেলাই শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে।
শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসা নতুন ৭টি জেলা হলো ঢাকা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, জয়পুরহাট ও মেহেরপুর।
শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসা নতুন ২৩টি উপজেলা হলো বাগেরহাট সদর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নাসিরনগর, মেহেরপুরের আলমডাঙ্গা, কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মনোহরগঞ্জ, দিনাজপুরের খানসামা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, যশোরের সদর ও মণিরামপুর, খুলনার তেরখাদা, কুষ্টিয়ার মিরপুর, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও জুড়ী, নওগাঁর বাদলগাছী ও পতœীতলা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, নীলফামারীর জলঢাকা, শেরপুরের নকলা ও ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল এবং সুনামগঞ্জের ছাতক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এম তাজুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ও ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, শহীদুজ্জামান সরকার এমপি এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বিদ্যুৎসচিব
ড. সুলতান আহমেদ বিদ্যুৎ খাতের
উন্নয়নের ওপর পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।
বর্তমানে দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের একটি ঘরও আর অন্ধকারে থাকবে না। ইনশাআল্লাহ এই মুজিববর্ষে আমরা বাংলাদেশের সকল ঘরে আলো জ্বালাবো। এ ল্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রেখে যাওয়া ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতাকে বিগত ১০ বছরে ৭ গুণ বাড়িয়ে প্রায় ২২ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া সারাদেশে এখন আরও ৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যে কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনমতা ১৬ হাজার ১৩৮ মেগাওয়াট। ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার মোট উৎপাদনমতা ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে ১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিকল্পনায় রয়েছে, যে কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনমতা ১৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনা করেই সরকার বিদ্যুৎ উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়াধীন বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে মুজিববর্ষে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। গ্রাহক ভোগান্তি হ্রাস করতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ হয়ে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে কার্যক্রম জোরদার করেছে সেবাধর্মী সংস্থা আরইবি।
আরইবি সূত্র বলছে, গত ৫ বছরে আরইবির বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার ছিল প্রায় শতভাগ। দেশের ৩ কোটি ৫৩ লাখ গ্রাহকের মধ্যে আরইবির গ্রাহক ২ কোটি ৭৫ লাখ। ‘মুজিববর্ষে’ আরইবির ভৌগোলিক এলাকার শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করবে। এভাবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কাজ সম্পন্ন হওয়ার দিকে এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশের ৮৪ হাজার ৫০০টি গ্রামের মধ্যে ৭৪ হাজার ৩৬০টি গ্রাম, যা মোট গ্রামের ৮৮ ভাগ, ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ৪১০টি উপজেলা, যা মোট উপজেলার ৮৯ ভাগ, ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টি জেলা, যা মোট জেলার ৬১ ভাগ ইতোমধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ বিদ্যুতায়িত ৪০টি জেলা ও ৪১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন। অবশিষ্ট ১০ হাজার ১৪০টি গ্রাম, ৫১টি উপজেলা ও ২৪টি জেলায় ৭০ থেকে ৯৫ ভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে, যা ২০২০ সালে মুজিববর্ষের মধ্যে শতভাগ হবে।