রাজনীতি

খালেদা জিয়ার মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কে এম জহিরুল হকের যুগ্ম-বেঞ্চের আদেশে হতাশ বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা। এতে সহজেই খালেদা জিয়ার কারামুক্তির সম্ভাবনা দেখছে না বিএনপি। আদালতের আদেশে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার প্রতিবেদন চেয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২৭ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি এ জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি মামলায় দ-িত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আবেদন করা হয়। স্বাস্থ্যগত কারণ এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে এ আবেদন করা হয়েছে।
শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আদালতকে বলেছি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেয়া প্রয়োজন। আমরা এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কথা বলেছি।’
গত বছর ১২ ডিসেম্বর এ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জামিনের আবেদন খারিজ হলে ২ মাসের কিছু বেশি সময় পর আবারও জামিনের আবেদন করলেন তিনি। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ মামলায় জামিন পাওয়ার পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়াকে জামিন পেতে হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালত তাকে ৭ বছরের কারাদ- দিয়েছিল। এ সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছর ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৭ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
হাইকোর্ট কর্তৃক ২৭ ফেব্রুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করার দিন ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া ‘হক’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একই ধরনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মহীউদ্দিন খান আলমগীর জামিনে আছেন। খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার কোনো আইনি বিধান নেই। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। যেই মানুষটি জাতির প্রয়োজনে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন, আজকে সেই নেত্রী কারাগারে বন্দি।
এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য আইনগতভাবে ৩টি পথ খোলা আছে। একটি হলো আদালতের জামিন আদেশের মাধ্যমে। দ্বিতীয়টি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সরকার মুক্তি দিলে। সে ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। আর তৃতীয় পথ হলো প্যারোল (শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি)। প্রথম দুটি ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
তাছাড়া প্যারোলের বিষয়ে সরকার গত বছর নতুন নীতিমালা করেছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে সরকার কিছু সময়ের জন্য মুক্তি দিতে পারে কারাবন্দিকে। তবে প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। আইনজীবীরা বলছেন, আপাতত খালেদা জিয়ার প্যারোলের সুযোগ নেই। সে ক্ষেত্রে জামিনে কিংবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি মিলতে পারে। সে ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারা অনুযায়ী মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের সদস্যদের। আবেদন করা হলে সাজা স্থগিত বা পুরো মওকুফ বা আংশিক মওকুফ করতে পারে সরকার। এ ধারায় সরকারকে সে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ৪০১ (১) ধারার সুযোগ নিতে হলে খালেদা জিয়া বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার কোনো আবেদন থাকলেও সরকার সরাসরি মুক্তি দিতে পারবে না। যে আদালত খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন সেই আদালতের মতামত নিতে হবে সরকারকে। আদালতের মতামত পাওয়ার পর সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রহর গোনা ছাড়া বিএনপির সামনে অন্য পথ খোলা নেই। মুক্তির জন্য সরকারের ওপরই তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। সরকারের নির্বাহী আদেশবলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। সময়ই বলে দেবে সরকার নির্বাহী আদেশের দিকে যাবে কি না? ততদিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মুক্তিপ্রশ্নে বিএনপিকে সরকারের অনুকম্পার দিকেই চেয়ে থাকতে হবে।