রাজনীতি

চট্টগ্রাম সিটি ও ৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল দেশের রাজনীতি। বিশেষ করে ১ ফেব্রুয়ারি সিটি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ-বিএনপি এখন আবার সরব চট্টগ্রাম সিটি ও ৫ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন নিয়ে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বলা হয়ে থাকে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের মতোই টানটান উত্তেজনা থাকে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অংশগ্রহণমূলক যেকোনো নির্বাচনেই। দলমত নির্বিশেষে সবার নজর থাকে বিএনপি-আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিকে। আর রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ-বিএনপির অংশগ্রহণ না থাকলে সেই নির্বাচন বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতাও পায় না।
আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এবার ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ মার্চ চসিক, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ হবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট হবে ইভিএমে এবং বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে ভোট হবে ব্যালটে।
এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ৫টি সংসদীয় আসনের ৩টিতে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে একই দিনে ভোট হবে আগামী ২১ মার্চ। ঢাকা-১০ আসনে ভোট হবে ইভিএমে এবং গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে ভোট হবে ব্যালটে।
এদিকে শূন্য হওয়া ৫টি সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দিলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে ২৩ ফেব্রুয়ারি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ১৫ ফেব্রুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত দলের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একই সভায় ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।
চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সেখানে বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ ২০ জন নৌকার টিকিট চেয়েছিলেন।
এদিকে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়তে আসনটি ছেড়ে দিয়েছিলেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। এ ছাড়া যশোর-৬ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার, বগুড়া-১ আসনে প্রয়াত সাংসদ আবদুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান, বাগেরহাট-৪ আসনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিরুল আলম মিলন এবং গাইবান্ধা-৩ আসনে কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি। ৫টি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ৭৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন।
অপরদিকে জাতীয় সংসদের শূন্য ৩টি আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম, বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন ও গাইবান্ধা-৩ আসনে ডা. সৈয়দ মাইনুল হাসান সাদিক। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপনের মনোনয়ন বাতিল করে দেয় রিটার্নিং অফিসার।
ঢাকা-১০ আসনের শেখ রবিউল আলম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বয়স ৪৮ বছর। ধানমন্ডি থানা বিএনপিরও সভাপতি তিনি। এই আসনে দলের মনোনয়ন পেতে শেখ রবিউল আলম ছাড়া অন্য কেউ আবেদন করেননি।
বাগেরহাট-৪ আসনে কাজী খায়রুজ্জামান শিপন জেলা বিএনপির সদস্য। তার আবেদনপত্রে বয়স লেখা হয়েছে ৪৬ বছর। ১৯৮৬ সালে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
গাইবান্ধা-৩ আসনে ডা. সৈয়দ মাইনুল হাসান সাদিক জেলা বিএনপির সভাপতি, বয়স ৬২ বছর। তিনি বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সদস্য।
উল্লেখ্য, ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস সাংসদ পদ ছেড়ে দেয়া, বাগেরহাট-৪ আসনে মোজাম্মেল হোসেন ও গাইবান্ধা-৩ আসনে ইউনুস আলী সরকারের মৃত্যুতে সংসদের এসব আসন শূন্য হয়।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে অন্তত ৫ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সহ-সভাপতি নিয়াজ মোহাম্মদ খান ও মোহাম্মদ আজম উদ্দীন এবং সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও ৫ সংসদীয় আসনে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভোটের প্রচারণায় বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। কারণ বিএনপি তাদের সকল প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। তারপরও দলীয় মনোনয়ন পেতে এবং জয়লাভের আশায় উভয় দলের প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এখন থেকেই যার যার নির্বাচনি এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।