প্রতিবেদন

চীনে করোনা ভাইরাসে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের উহান শহর ও অন্যান্য স্থানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করে আক্রান্তদের দুর্দশা লাঘবে যেকোনো ধরনের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের কাছে ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এক চিঠিতে এই শোক প্রকাশ করেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে চীন সরকার সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী চিঠিতে আরো বলেন, সংকট নিরসনে একটি টাস্কফোর্স গঠন এবং জরুরি হাসপাতাল স্থাপন সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ সরকার আক্রান্তদের দুর্দশা লাঘবে যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এই ভাইরাসের সংক্রমণে মারা যাওয়া ও আক্রান্তদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের এই সংকটজনক মুহূর্তে চীনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সুরক্ষা দেয়ায় চীনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান।
শেখ হাসিনা প্রশংসা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট সি’র গতিশীল নেতৃত্বের কারণে চীন উন্নয়নের বিশ্ব মডেল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে এশীয় অঞ্চলে আপনার অবদান সত্যই প্রশংসার দাবিদার।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ মার্চ অনুষ্ঠেয় ‘মুজিববর্ষ’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রতি তার আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশে চলমান মেগা প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে-চীনা রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি চিমিং বলেছেন, নতুন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে চলমান মেগা প্রকল্পে প্রায় ৮ হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। আর সব মিলিয়ে মোট ১০ হাজার চীনা নাগরিক এখানে রয়েছেন। তাদের প্রায় ১০ শতাংশ চীনা নববর্ষের ছুটিতে দেশে গেছেন। তারা এখনই ফিরতে পারছেন না। এ কারণে এসব প্রকল্প শেষ হতে একটু দেরি হবে।
এ সময় তিনি চীনে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফেরত আনা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন।
করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে চীনের বিকল্প হিসেবে অন্য দেশে ব্যবসা স্থানান্তর না করতেও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনা করে অন্য দেশে ব্যবসা স্থানান্তর হবে ব্যয়বহুল, অসম্ভব ও অপ্রয়োজনীয়।
চীনের হুবেই প্রদেশে অবস্থানরত ১৭২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে এখনই ফিরিয়ে না আনার পরামর্শ দিয়ে রাষ্ট্রদূত লি চিমিং বলেন, তাদের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। আমি চাই না বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়–ক। বাংলাদেশের স্বার্থেই এটা উচিত হবে না। চীন থেকে জাপানে একজন নাগরিক ফিরে যাওয়ায় দেশটিতে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে সবার শিক্ষা নিতে হবে।

প্রকাশ্যে জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল জাপান সম্রাটের

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্কের কারণে প্রকাশ্যে জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন জাপানের নতুন সম্রাট নারুহিতো। ১৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রাসাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে সাধারণ জনতার সমাগমের মাধ্যমে ২৩ ফেব্রুয়ারি সম্রাটের জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বছর সম্রাট হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর এটিই প্রথম জন্মদিন ছিল নারুহিতোর।
১৬ ফেব্রুয়ারি জাপান সরকার এক বিবৃতিতে সবাইকে সতর্ক করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লোক সমাগম এড়ানোর আহ্বান জানায়। জাপানে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ৬০ জন।
এর আগে ১৯৯৬ সালে সর্বশেষ জাপানের সম্রাটের জন্মদিনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছিল। যখন পেরুতে জাপান দূতাবাসে জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে লোকদের জিম্মি করা হয়েছিল।