প্রতিবেদন

দৃশ্যমান মেট্রোরেল, নমুনা কোচ ঢাকায়: খুশি মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেল। যানজটে অতিষ্ঠ মানুষের নির্বিঘœ চলাচলের ইচ্ছা পূরণের জন্য এই দুটি প্রকল্পে হাত দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২১ সাল নাগাদ প্রকল্প দু’টি শেষ হবে বলে আশাবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।
ইতোমধ্যে সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুর ৪ কিলোমিটারেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরেই দেশবাসী দেখছেন, মেট্রোরেলের পরিকাঠামো তৈরির কাজ। রাজধানী ঢাকার রাস্তায় মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের জন্য রাজপথে যানজট অনেক বেড়েছে, বেড়েছে মানুষের ভোগান্তিও। তারপরও মেট্রোরেল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ স্বস্তির কথা ভেবে সাময়িক কষ্ট হাসিমুখেই সহ্য করছে ঢাকার মানুষ।
জানা যায়, মেট্রোরেল তৈরির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। যদিও এই প্রকল্পের সমীক্ষা করতে এসে ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার শিকার হন ৭ জাপানী। তাদের স্মৃতিও দিয়াবাড়ির মেট্রোরেল অ্যাগজিবিশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারে স্থান পাবে।
পরিকাঠামো তৈরি হওয়ার পরও যে বগিতে করে মানুষ দ্রুততার সঙ্গে গন্তব্যে পৌঁছাবেন, সেই বগির দেখা মেলেনি এতদিন। তবে এখন সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের একটি নমুনা কোচ এসে পৌঁছেছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি মেট্রোরেল ডিপোর কন্টেইনার থেকে বের করা হয় কোচটি। এই কোচ দিয়েই জনগণকে মেট্রোরেলে চড়ানো শেখানো হবে। তবে নমুনা কোচ হওয়ায় মূল পরিবহন বহরে যুক্ত হবে না এটি।
উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেলের ডিপোর পাশে ভিজিটর সেন্টার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এমআরটি তথ্য ও প্রদর্শন কেন্দ্রের ভেতরেই রাখা হবে নমুনা ট্রেনটি। সেখানেই দর্শনার্থীদের টিকিট কাটা, ট্রেনে চড়া, দাঁড়ানো, ট্রেন থেকে নামা Ñ এসব বিষয়ে ধারণা দেয়া হবে।
জানা যায়, জাপানের মিৎসুবিশি ও কাওয়াসাকি থেকে তৈরি করিয়ে আনা নমুনা কোচটি দেখতে হুবহু মূল কোচগুলোর মতোই। মূল কোচগুলো আগামী ১৫ জুন বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে বলে জানা গেছে। জাপানে তৈরি কোচগুলো বাংলাদেশে আসার পর এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে মিল রেখে চলতে পারছে কি না, তা দেখতে ট্রায়াল রান চলবে। এভাবে একটি একটি করে ট্রেন আসবে এবং ট্রায়াল রানের মাধ্যমে প্রস্তুতি সারা হবে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ী থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল-৬ বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ২২ হাজার কোটি টাকা, যার ৭৫ শতাংশ ঋণ হিসেবে দিচ্ছে জাইকা।
মেট্রোরেল-৬ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পৌঁছা যাবে মাত্র ৩৮ মিনিটে। যানজটে অতিষ্ঠ নগরবাসীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে মেট্রোরেলের প্রথম প্রকল্পের বাস্তবায়ন। ইতোমধ্যে মেট্রোরেলের ভায়াডাক্ট বসানো হয়েছে ৯ কিলোমিটার আর রেললাইন বসানোর কাজও এগিয়ে গেছে ৩ কিলোমিটার। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ‘মেট্রোরেল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
জানা গেছে, এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত এ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪০ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০২৪ সালের মধ্যে এমআরটি লাইন-৬ নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে এ প্রকল্পে হাত দেয় সরকার। মোট ৮টি প্যাকেজে কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ধাপে ধাপে কাজ শুরু করে প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।
প্যাকেজ-১-এর আওতায় প্রথম ধাপে ডিপো নির্মাণে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। এটি নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগেই শেষ হয়ে যায়। এখান থেকে ৭০ কোটি টাকা সাশ্রয়ও হয়।
২০১৭ সালে প্যাকেজ-২-এর আওতায় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আগামী জুনে ডিপো এলাকার সমস্ত পূর্তকাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
প্যাকেজ-৩ ও ৪-এর আওতায় ২০১৭ সালের ১ আগস্ট উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
প্যাকেজ-৫-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ আগস্ট। একই সময়ে প্যাকেজ-৬-এর আওতায় কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ভায়াডাক্ট ও ৪টি স্টেশনের নির্মাণকাজও শুরু হয়।
প্যাকেজ-৭-এর আওতায় মেট্রোরেলের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণকাজ এবং প্যাকেজ-৮-এ রোলিং স্টক (রেল কোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে।