প্রতিবেদন

বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর সুবিধা গ্রহণে নেপালের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর সুবিধা গ্রহণের জন্য নেপালের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গেওয়ালি ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সবসময়ই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।’ বৈঠকে তাঁরা দু’দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎখাতে সহযোগিতা এবং ব্যবসাবাণিজ্যের সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সৈয়দপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে। নেপাল ও ভুটান সৈয়দপুর বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে পারস্পরিক সুবিধার স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে।
এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং বিবিআইএন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সর্বদা নেপালকে ট্রানজিট দেয়ার পক্ষে ছিলাম।
বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে নেপালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ভারত থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সংস্থা জিএমআর নেপালে শিগগিরই একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করতে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ পেতে পারে।
বাংলাদেশ শীতকালে নেপালে তরিতরকারি ও মাছ রপ্তানি করতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নেপালের সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন।
বৈঠকে প্রদীপ কুমার গেওয়ালি বলেন, নেপাল বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি নতুন মাত্রা দিতে চায়।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের দ্রুত আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, নেপালও উন্নতি করছে। এ বছর দেশটি ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে গেওয়ালি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
নেপালী মন্ত্রী তাঁর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ বৈঠক সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশাফি বিনতে শামস এবং বাংলাদেশে নেপালের রাষ্ট্রদূত ড.বংশীধর মিশ্র এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে একই দিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গেওয়ালির দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য নেপাল একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এখন একটি কারিগরি কমিটি দেখবে যে, কী ধরনের বিমান এখানে ওঠানামা করতে পারবে। বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১২ থেকে ১৪টি ফ্লাইট সৈয়দপুর বিমানবন্দরে চলাচল করে। দুই প্রতিবেশী দেশ বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে এবং এই ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা অপসারণ করতেও একমত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করে সৈয়দপুর বিমানবন্দর। এটি ১৩৬.৫৯ একর জমির ওপর অবস্থিত। বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ এটি পরিচালনা করছে। বিমানবন্দরটি সৈয়দপুর শহর থেকে ২ কিলোমিটার এবং রাজধানী ঢাকা থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
৩টি বিমান পরিবহন সংস্থা Ñ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভো এয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বর্তমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে তাদের যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
এর আগের দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গেওয়ালি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সচিবালয়ে মতবিনিময় করেন। সেখানে গেওয়ালি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং পর্যটক বিনিময়ের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় দেশ এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হতে পারে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ভারতের সহযোগিতায় নেপাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা বাংলাদেশে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল (বিবিআইএন) প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সংশ্লিষ্ট সকল দেশ উপকৃত হবে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে একমত হয়েছে। বাংলাদেশ নেপালকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করেছে। উভয় দেশের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সড়ক, নৌ এবং আকাশপথ চালু করার বিষয়ে কাজ চলছে। আগামী ৩ ও ৪ মার্চ ঢাকায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে সচিব পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এফটিএ স্বাক্ষর ও উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।