প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

বিশেষ পর্যটন উদ্যানের মাস্টার প্ল্যান অবলোকনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে পর্যটনবান্ধব অঞ্চল গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
পর্যটনবান্ধব অঞ্চল গড়ে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক এবং টেকনাফ উপজেলায় নাফ ট্যুরিজম পার্ক (এনএএফ) ও সাবরং ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন এই ৩টি স্পেশাল ট্যুরিজম পার্কের (বিশেষ পর্যটন উদ্যান) মাস্টার প্ল্যান অবলোকন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজ কার্যালয় থেকে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ৩টি স্পেশাল ট্যুরিজম পার্কের মাস্টার প্ল্যান অবলোকন করেন।
মাস্টার প্ল্যানগুলোর লক্ষ্য হলো বাস্তুসংস্থান সংক্রান্ত ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও পরম্পরা রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব অঞ্চল গড়ে তোলা এবং পাশাপাশি কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকার মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করা।
এ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার সমুদ্রের তীরে উচ্চ-স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমরা সমুদ্রের তীর ঘেঁষে উচ্চ-স্থাপনা নির্মাণের অনুমতি দেব না।’
প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ সহনশীল করে ট্যুরিজম পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রেখেই ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী সাবরং ট্যুরিজম পার্কটি কেবল বিদেশিদের জন্যই নির্মাণের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘এটি এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে অন্যান্য দেশের পর্যটকেরা এর প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসে।’
শেখ হাসিনা আগামী ৩ বছরের মধ্যে নাফ ট্যুরিজম পার্কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন, যাতে করে তিনি নিজে এর উদ্বোধন করতে পারেন। ৩টি ট্যুরিজম পার্কে প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক খায়রুল আনাম অনুষ্ঠানে সাবরং ও নাফ ট্যুরিজম পার্কের মাস্টার প্ল্যানের উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে বালাকৃষ্ণাণ সুরেশ মাহিন্দ্র ভিডিও প্রেজেন্টেশনের সাহায্যে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কের মাস্টার প্ল্যান তৈরির পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বাস প্রদান করে যে, আগামী ২৪ মাসের মধ্যেই এখানে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে পার্কটিকে সম্পূর্ণ রূপ দিতে ৯ বছর সময় লাগবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের বাস্তুগত ভারসাম্য সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে এই ট্যুরিজম পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সোনাদিয়ায় দেশের প্রথম ইকো ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বেজা মাহিন্দ্র কনসালটিং ইঞ্জিনিয়ার্স এবং ডেভকন কনসালটেন্টস লিমিটেডকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
কক্সবাজারের সাবরং ও নাফ ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালটেন্ট এবং কোরিয়ার দোহওয়া (ডিওএইচডব্লিউএ) কনসালটেন্ট লিমিটেডকে পরামর্শক সংস্থা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোনাদিয়ায় ৮ হাজার ৯৬৭ একর জমির ওপর সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্কটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ৯০৯ একর জমি কাজে লাগানো হবে এবং বাকি অংশ অটুট থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ৩টি মাস্টার প্ল্যানের বিশদ বর্ণনা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১ মাসের মধ্যে এই মাস্টার প্ল্যান চূড়ান্ত করা হবে।
নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং সাবরং ট্যুরিজম পার্কের নির্মাণকাজও ৩ বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাবরং ট্যুরিজম পার্ক হবে দেশের প্রথম বিশেষ পার্ক, টেকনাফ উপজেলার সাবরং ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৭ একর ভূমিজুড়ে হবে এর অবস্থান। সাবরং ইউনিয়নটি পাহাড় ও সমুদ্র সৈকতবেষ্টিত, বহুমুখী বিচিত্র ও প্রশংসনীয় সুন্দর এলাকা।

নাফ ট্যুরিজম পার্ক
নাফ ট্যুরিজম পার্ক যে জায়গায় গড়ে উঠছে সেটি অতীতে জালিয়ার দ্বীপ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম দ্বীপভিত্তিক ট্যুরিজম পার্ক। এর আয়তন হবে ২৭১ একর। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীর মাঝে জেগে ওঠা ডিম্বাকৃতির দ্বীপটিতেই নাফ ট্যুরিজম পার্কের অবস্থান।
জানা গেছে, নাফ ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে থাইল্যান্ডের সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকার সমান। এ বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে কোম্পানিটি।
বেজা সূত্র জানায়, নাফ ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে দ্বীপের মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। চলছে দ্বীপের পশ্চিমাংশে ২১ দশমিক ১২ একর জমিতে সীমানা নির্মাণের কাজ। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। ৫ বছরের মধ্যে নাফ ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে বেজা। তবে প্রথম ধাপের কাজ শেষ করা হবে দেড় বছরের মধ্যে।
বেজার তথ্য অনুযায়ী, ২৭১ একর ভূমির ওপর পর্যটন কেন্দ্রটি নির্মিত হলে এটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। ইকোফ্রেন্ডলি এ পর্যটন কেন্দ্রটিতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বছরে ১০ লাখের মতো পর্যটক দ্বীপটিতে ভ্রমণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বেজা জানায়, সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল থাইল্যান্ডে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র, হোটেল, রিসোর্ট, বিনোদন কেন্দ্র, স্পা, ফিটনেস সেন্টারসহ পর্যটনের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। সিয়ামের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ফ্যান্টাসি কিংডম নির্মাণ, ফয়’স লেকে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি এবং কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নাফ নদীর বাংলাদেশ অংশে জালিয়ার দ্বীপের অবস্থান। এর পূর্বপাশে মিয়ানমার, দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। টেকনাফ শহর থেকে এটি ৬ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে জালিয়ার দ্বীপের দূরত্ব ৪৫৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে ১৮৫ কিলোমিটার। ২৭১ দশমিক ৯৩ একর আয়তনের এই দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা মাছের চাষ করতেন। ২০১৫ সালের দিকে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জালিয়ার দ্বীপে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। পরে দ্বীপটি দখলমুক্ত করা হয়। বেজার অনুকূলে ২৯৩ একর ভূমির দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত সম্পন্ন করা হয়।
নাফ ট্যুরিজম পার্কের অন্যতম আকর্ষণ হবে সাড়ে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার। এটি দ্বীপটিকে মূল ভূখ-ের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা নেটং পাহাড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (চুয়েট) পরামর্শক নিয়োগ করা হয়েছে। ক্যাবল কার স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা চালাবে চুয়েট। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে একটি স্ট্রাকচারাল ডিজাইনও প্রস্তুত করবেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা। এটা নির্মিত হলে তা হবে দেশের দীর্ঘতম এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ক্যাবল কার। ২০১৯ সালের মার্চে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেজার মধ্যে এ বিষয়ে একটি পরামর্শ পরিষেবা চুক্তি সই হয়।
নাফ ট্যুরিজম পার্কে আরও থাকবে ৫ ও ৩ তারকা হোটেল, জিমনেশিয়ামসহ অ্যাপার্টমেন্ট, রিসোর্ট, বিনোদন পার্ক, লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট থিয়েটার ও মিউজিয়াম, মেগা শপিং মল, সিনেমা হল, বোলিং সেন্টার, ঘূর্ণায়মান রেস্তোরাঁ, ওয়াটার স্পোর্টস বিচ, গলফ ক্লাব, ক্যাবল কার, নদীভ্রমণ, মিউজিক্যাল ওয়াটার ফাউন্টেইন, মসজিদ, অফিস ভবন, পাওয়ার প্ল্যান্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা।

সাবরং ট্যুরিজম পার্ক
টেকনাফে আন্তর্জাতিক মানের সাবরং ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ইন্টার এশিয়া গ্রুপ। টেকনাফের সাবরংয়ে এ পার্ক গড়ে তুলতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা (১৫০ কোটি ডলার) বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে এ কোম্পানি। এ পার্কে ক্যাসিনো, গলফ ক্লাব, আন্ডারওয়াটার অ্যাকুরিয়াম, নাইট সাফারি, সাংস্কৃতিক জাদুঘর ও ক্যাবল কারসহ সব ধরনের বিনোদন ব্যবস্থা থাকবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান সিকদার গ্রুপের মাধ্যমে এ বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে ইন্টার এশিয়া গ্রুপ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যৌথভাবে পার্কের উন্নয়ন করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে সিঙ্গাপুরের কোম্পানির প্রতিনিধিরা কয়েক দফা সাবরং পার্ক পরিদর্শন করেছেন। পর্যটন পার্ক করার জন্য ১ হাজার একর জমি চেয়েছেন তারা।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, সাবরংয়ে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা অনুযায়ী এরই মধ্যে বেজা জমি অধিগ্রহণ করেছে। উন্নয়নকাজের জন্য শিগগিরই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। ইতোমধ্যে এ পার্কের অবস্থান দেখে উন্নয়নের জন্য ইন্টার এশিয়া গ্রুপ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সবাইকে দরপত্রে অংশগ্রহণ করতে হবে। দরপত্র অনুযায়ী সেরা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হবে।
তিনি জানান, সাবরং পর্যটন পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার দোহওয়া ইঞ্জিনিয়ারিংকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
ইন্টার এশিয়া গ্রুপের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পার্ক করার জন্য প্রায় ১ হাজার একর জমির প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ৭০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে অ্যাকোয়া সিটি। সেখানে ১৭টি আবাসিক ভবনে ৪ হাজার ১৪৮টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ৪ লাখ ৮৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করা হবে।
সাবরংয়ের পর্যটন কেন্দ্রে ৭টি বিশ্বখ্যাত হোটেল ব্র্যান্ডকে নিয়ে আসবে তারা। এর মধ্যে থাকবে ব্যানিয়ান ট্রি, র‌্যাডিসন, শেরাটন, হিলটন, প্যানপ্যাসিফিক, মুভেনপিক ও রিজেন্ট। এছাড়া সমুদ্র তীর ঘেঁষে একটি রিসোর্ট তৈরির কথাও প্রস্তাবে বলা হয়েছে। তাছাড়া সুন্দরবন থিম পার্ক নাইট সাফারি, আন্ডারওয়াটার অ্যাকুরিয়াম, বেঙ্গল গ্লোরি নামের জাদুঘর ও হেরিটেজ কমপ্লেক্স, ইউনিভার্সাল স্টুডিও, ডিজনি ল্যান্ড, গোল্ডেন স্যান্ড ক্যাসিনো, রয়্যাল সাবরং ম্যারিনা, সাবরং গলফ ক্লাব, ৩টি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ও ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে।
ইন্টার এশিয়া গ্রুপ বলেছে, টেকনাফকে আঞ্চলিক পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে আধুনিক বিনোদনের সব সুবিধা থাকবে। এর ফলে ভারত, চীন, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য এশীয় দেশসহ বিশ্বের নানা দেশের পর্যটকরা আসবেন।

সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক
কক্সবাজারের সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কটি মহেশখালি উপজেলার সোনাদিয়া, বিজয় একাত্তর ও সমুদ্রবিলাস মৌজায় অবস্থিত। পার্কটি মোট ৯ হাজার ৪৬৭ একর জায়গার ওপর গড়ে উঠবে।
পার্কটি নির্মাণের জন্য বেজা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে সমীক্ষার কাজ হাতে নিয়েছে। পার্কটি পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাথমিকভাবে মোট জমির ৩০ শতাংশ জায়গা ব্যবহারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব না পড়ে।
জানা গেছে, এখানে অবৈধভাবে বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধভাবে ঘের নির্মাণ করে মাছ চাষ করছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। ইকো-ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন অবৈধ ঘের বন্ধ হবে অন্যদিকে পরিকল্পিত ট্যুরিজমের ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্কের মোট বালুকাময় সমুদ্র তীরের দৈর্ঘ ১৯ দশমিক ২ কিলোমিটার। কক্সবাজারের ২ দশমিক ৬ কিলোমিটারের মধ্যে পার্কটির অবস্থান। এখানে থাকছে ঝাউবনের মনমাতানো ঝিরিঝিরি শব্দ, দৃষ্টিনন্দন লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ।
সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তোলার জন্য সেখানে বসবাসরত ৩৩৩টি পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বেজা কর্তৃপক্ষ। সোনাদিয়া দ্বীপে নতুন করে যাতে মৎস্যঘের ও অবৈধ বসতি গড়ে না ওঠে সে বিষয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন।
সোনাদিয়া দ্বীপে বিদ্যুৎ সাবস্টেশন স্থাপনে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় কাজ করছে। দ্বীপ রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দ্বীপের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। সেখানে তাদের স্থাপনার জন্য জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দ্বীপের জীববৈচিত্র্য বজায় রেখে পরিবেশবান্ধব ট্যুরিজম পার্ক গড়ে তুলতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। দ্বীপের উপকূলীয় অংশে ঝাউবন সৃজনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া দ্বীপের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ টার্মিনাল স্থাপনে কাজ করছে। সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী স্বদেশ খবরকে বলেন, আমাদের দেশের মতো সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকত, সুন্দরবন, পর্বত ও নদী পৃথিবীর কম দেশেই আছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বিদেশি পর্যটক আসে না বললেই চলে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও বিপুলসংখ্যক পর্যটক রয়েছে। বছরে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ ভ্রমণে বের হয়। আবার বাংলাদেশ থেকে শুধু ভারতেই ২০ লাখ পর্যটক যায়। এই পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা দরকার। সরকার সেজন্য অনেকগুলো এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী আরো বলেন, সরকার কক্সবাজারে বড় ধরনের ট্যুরিজম সিটির কাজে হাত দিয়েছে। মাস্টার প্ল্যান করা হয়েছে এবং সমুদ্র থেকে যাতে সেগুলোকে রক্ষা করা যায় এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাইও চলছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি পর্যটন সেক্টরের গুণগত মানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে।