কলাম

ভাষাসৈনিকদের মর্যাদা রক্ষায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন

একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার দাবিতে বীর বাঙালি রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। ভাষাসৈনিকদের সেদিনের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে স্মরণ করতে নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনার, শহীদ মিনারে নিবেদন করা হয় শ্রদ্ধার্ঘ। কিন্তু দীর্ঘ ৬৮ বছরেও সারাদেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়নি। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলেও অযতœ-অবহেলার কারণে নোংরা-আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে পবিত্র এ স্থানটি।
জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের ৩৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাড়ে ২২ হাজারটিতেই শহীদ মিনার নেই, আর নেই ৬৩ হাজার ৬০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০ হাজারটিতে। অথচ দেশের উচ্চ আদালত শহীদ মিনার সম্পর্কে তার মূল্যায়নে বলেছে, শহীদ মিনার সংগ্রামের প্রতীক, সৃষ্টির প্রতীক, সব জাতির মাতৃভাষার প্রতীক।
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, দেশের যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১০ সালের ২৫ আগস্ট হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনার আলোকে সরকার ২০১১ সালের প্রথমার্ধে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাস্তবতা হলো, সেই সিদ্ধান্ত এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রথম মেয়াদের সরকার ২১ শে ফেব্রুয়ারি বা শহীদ দিবসকে বিশ্বের দরবারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে। সেই সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে ভাষা আন্দোলনের মর্যাদা রক্ষা ও স্মৃতি উজ্জ্বল করতে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টরা কেন পুরোপুরি কার্যকর করেনি, তার যথাযথ তদন্ত করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি বা শিক্ষা বিভাগের একার পক্ষে তা বাস্তবায়নে আর্থিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের একার পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা কঠিন হলে জেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কেবল প্রয়োজন হবে সমন্বিত প্রচেষ্টার।
আমরা আশা করব, সরকার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুত সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করবে এবং সেই সাথে আগামী অর্থবছরের মধ্যে সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ নিশ্চিত করবে। এতে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবে এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার প্রতিও শ্রদ্ধা প্রদর্শিত হবে।