প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

যথাযোগ্য মর্যাদায় ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত মাতৃভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
বায়ান্নর একুশের চেতনাকে ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে একাত্তরে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে অমর একুশে পালিত হচ্ছে ১৯৫২ সালের পর থেকেই। ভাষার জন্য আত্মত্যাগের যে এক অনন্য নজির ১৯৫২ সালে স্থাপিত হয়েছিল, তার বলে বলীয়ান এখন শুধু বাংলাদেশই নয়, পুরো বিশ্বেই একুশে ফেব্রুয়ারি সাড়ম্বরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে ভাষার জন্য আত্মত্যাগ নজিরবিহীন। শুধু বাংলার দামাল ছেলেদেরই অর্জন Ñ রক্তে অর্জিত মাতৃভাষা।
জাতির জীবনে ২১ ফেব্রুয়ারি এক গৌরবময় দিন, যেমন গৌরবোজ্জ্বল দিন একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর। ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বর Ñ এ ২ মাসের ২টি দিন বাঙালি জাতি কোনো দিন ভুলতে পারবে না। একটিতে এ জাতির সূচনা আর অন্যটিতে জাতির পূর্ণতা।
জাতির কাক্সিক্ষত এ সূচনালগ্ন ও পূর্ণতা এসেছে একজন মানুষের হাত ধরে। তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মহানায়কের হাত ধরে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবাদের কৃষ্ণচূড়ার যে চারাটি রোপিত হয়েছিল, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে তা পূর্ণতা লাভ করে রক্তরঞ্জিত লাল জাতীয় পতাকায়।
একই চেতনায় এরপর জাতির পিতার নেতৃত্বে শুরু হয় সোনার বাংলা গড়ার কাজ। পঁচাত্তরের বিয়োগান্ত ঘটনায় সোনার বাংলা গড়ার কাজ স্তিমিত হয়ে যায়। দীর্ঘ ২১ বছর সোনার বাংলার উন্নয়ন মুখ থুবড়ে থাকে অপশাসনের নাগপাশে। জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা রূপায়ণের কাজ শুরু হয়। মাঝখানে ৫ বছর বাদ দিয়ে ২০০৯ সাল থেকে আবারো উন্নয়নের ধারায় চলছে বাংলাদেশ।
বায়ান্নতে বঙ্গবন্ধু জাতির মধ্যে যে চেতনার বীজ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর তা পূর্ণতা পায়। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিম-লেও বিস্তৃতি লাভ করেছে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভের কারণে। ফলে এখন জাতিসংঘ সদরদপ্তরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় প্রতিবারের মতো এবারও সর্বস্তরের মানুষ একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভাষার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকারের পাশাপাশি দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি
ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
প্রতিবারের মতো এবারও একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে দলের সংসদ সদস্যরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মেয়র সাঈদ খোকন এবং এরপর উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শহীদ বেদীতে।
এরপর শহীদ বেদীতে সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে মহাপুলিশ পরিদর্শক ড. জাবেদ পাটওয়ারি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। র‌্যাবের পক্ষ থেকে মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, বিদেশি সংস্থার প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দও একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বিশিষ্টজনদের শ্রদ্ধা জানানোর পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ফুলে ফুলে ভরে উঠে বাঙালির শোক আর অহংকারের এই মিনার।

মাতৃভাষার মর্যাদাকে সমুন্নত
রাখার অঙ্গীকার
কোনো অশুভ শক্তিই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষাকে ধ্বংস করতে পারবে না বলে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জনগণ বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে বাঁচার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমাদের যা কিছু অর্জন তার সবই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। পাকিস্তানি ও ’৭৫-পরবর্তী শাসকেরা বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল। ভবিষ্যতেও কেউ বাংলার জনগণকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই পকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র রচনা করা হয় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়। লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের ভাষার দাবি আদায় করতে পেরেছি। মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। মাতৃভাষা বাংলার পরিবর্তে পাকিস্তানের একটি গোষ্ঠীর ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পাকিস্তানি শাসকেরা বহু খেলা খেলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এভাবে নতুন নতুন চেষ্টা আর ফর্মুলা বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। প্রতিবারই বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবাদ করেছে। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগের জন্ম, কাজেই এসকল প্রতিবাদে সংগঠনটি শুরু থেকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কাজেই এই বাঙালি জাতির যা কিছু অর্জন তার সবই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। একুশ শিখিয়েছে আত্মমর্যাদাবোধ। একুশের এই রক্তের অক্ষরেই লিখে রাখা হয়েছিল আগামী দিনে আমাদের স্বাধীনতা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমরা চাই এই গৌরবের ইতিহাস আমাদের দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন জানতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃভাষা আন্দোলন শুধু মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন ছিল না, পক্ষান্তরে এটা ছিল স্বাধীকার আদায়ের, স্বাধীনতার আন্দোলন।’
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতার অংশবিশেষ উল্লেখ করেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগ
বায়ান্নর একুশে ছিল সচেতন জনতার সরব প্রতিবাদ; যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি অদম্য এক প্রাণশক্তিতে একুশের চেতনাকে রূপান্তরিত করেন মুক্তিযুদ্ধের মহাপ্লাবনে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর তারই সার্থক রূপ। এ জাতি জানে বঙ্গবন্ধু, একুশের শহীদ ও মহান মুক্তিযোদ্ধারা এ অগ্রযাত্রার প্রথম অগ্রপথিক। জাতীয়তাবাদী চেতনার বীর সেনানী। বঙ্গবন্ধু এ জাতির তরেই শহীদ হয়েছিলেন। তাই বঙ্গবন্ধু এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধুর সেনা হিসেবে একুশের শহীদ আর মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধারাও এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধু, একুশের শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগ এ জাতি কোনো দিনই ভুলবে না। অমর একুশের প্রত্যুষে জাতি তাই তাঁদের প্রতি জানিয়েছে বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা।

মহান একুশে এখন সারা বিশ্বের
মহান একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আর শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান-সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো তার প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে ২০০০ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি সমগ্র বিশ্বে উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে আর সর্বত্র উচ্চারিত হচ্ছে একুশে ফেব্রুয়ারির মহানায়কদের কথা। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ভাষাশহীদ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিকসহ মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদকে। তাদের আত্মদানের অমর কাহিনি সমগ্র বিশ্বে প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো পাকিস্তানকেও ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে, যে পাকিস্তান আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, বুলেট চালিয়ে স্তব্ধ করতে চেয়েছিল আমাদের ভাষাপ্রেমকে। নিয়তির নির্মম পরিহাস, সেই পাকিস্তানকেই এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করতে হয়।

ভাষার চেতনায় উন্নত দেশ গড়ার প্রত্যয়
অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মাথা নত না করার চেতনাস্নাত মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এবারের দিবসটিতে সকাল থেকে রাত অবধি একুশের মর্মবাণী প্রতিধ্বনিত হয়েছে বাঙালির হৃদয়ের গহিনে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়েছে বর্ণমালার জন্য প্রাণ সঁপে দেয়া অমর শহীদদের। ভাষার স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়েছিল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে আসা জনস্রোত। রাজধানীর সব পথ এসে মিশে গিয়েছিল এই স্মৃতির মিনারে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি চেতনার বিচ্ছুরণে উচ্চারিত হয়েছে জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়। উন্নয়নের রোল মডেল ধরে রাখার দৃপ্ত শপথ। ব্যক্ত হয়েছে উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকার। একুশের নানা আনুষ্ঠানিকতায় প্রকাশিত হয়েছে দারিদ্র্যমুক্ত স্বনির্ভর স্বদেশ বিনির্মাণের আকাক্সক্ষা। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার দিনটিতে উচ্চারিত হয়েছে বিশ্বদরবারে মর্যাদাসম্পন্ন জাতির পরিচয় গড়ে নেয়ার কথা। শহীদদের প্রতি ভালোবাসা ও আগামীর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের ভাবনায় সারাদেশে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
এদিন শহীদদের স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সবখানে উড়েছে শোকের কালো পতাকা। একুশকে স্মরণ করা মানুষেরা ধারণ করেছেন কালো ব্যাজ। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশকে নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন ও নিবন্ধ। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দিনভর প্রচার করেছে একুশের অনুষ্ঠানমালা। সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো পালন করেছে বিশেষ কর্মসূচি। পাড়া-মহল্লায় উদযাপিত হয়েছে একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজধানীর সব স্কুলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং গান ও কবিতায় সাজানো বর্ণিল নানা অনুষ্ঠান। আর শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পাশাপাশি অফিস-আদালতসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবিটিও উচ্চারিত হয়েছে।