প্রতিবেদন

দ্রুত এগিয়ে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং যানজটমুক্ত ঢাকা গড়তে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। ফ্লাইওভার, ওভারপাস, আন্ডারপাস ও মেট্রোরেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার (র‌্যাম্পসহ) দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করছে সেতু বিভাগ। সম্প্রতি নতুন করে প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংকের হাতিরঝিল অংশের পুনঃঅ্যালাইনমেন্ট অবলোকন করেন। প্রধানমন্ত্রী নতুনভাবে করা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নকশায় সম্মতি প্রদান করেন, যা পলাশী থেকে কাঁটাবন হয়ে বিয়াম (বিআইএএম) ভবনের দক্ষিণ অংশে হাতিরঝিল লেকের প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
পূর্ববর্তী প্রস্তাবে হাতিরঝিল লেক ও পান্থকুঞ্জের মাঝামাঝি বরাবর এই লিংকের অ্যালাইনমেন্টের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাতিরঝিল লেক ও পান্থকুঞ্জকে সুরক্ষা করে নকশা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলে নতুন অ্যালাইনমেন্ট গ্রহণ করা হয়।
এই সংযোগের ফলে পুরান ঢাকা ও ধানমন্ডির বাসিন্দারা উপকৃত হবেন এবং এটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ যানবাহন প্রবেশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি পিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৮ হাজার ৯৪০ দশমিক ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ ৫৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রকল্পের সার্বিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে ১৮ শতাংশ। তিন ধাপে প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-
কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-মগবাজার-কমলাপুর-সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ি হয়ে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক (কুতুবখালী) পর্যন্ত।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁ-বুয়েট লিংকের হাতিরঝিল অংশের পুনঃঅ্যালাইনমেন্ট প্রকল্পের প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শামসুল হক। প্রকল্প বিশেষজ্ঞ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং প্রকল্পের স্থপতি সদস্য ইকবাল হাবিব এ সময় প্রকল্প সম্পর্কে তাদের অভিমত দেন।
জানা গেছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি শুরুর পর গত ৭ বছরে কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। তবে এখন কাজে গতি এসেছে। গত ১ বছরে আরো ৯ শতাংশ অগ্রগতি হয়ে প্রকল্পের সার্বিক কাজ ১৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম অংশ (বিমানবন্দর-বনানী) দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এই অংশের ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্বিতীয় অংশ (বনানী-তেজগাঁও) এবং তৃতীয় অংশ (মগবাজার-কুতুবখালী) দৃশ্যমান করতে সব কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। ২০২০-২১ অর্থবছরের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায় সেতু কর্তৃপক্ষ।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) এ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও নির্মাণকাজের দায়িত্বে আছে ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত যাবে এ এক্সপ্রেসওয়ে। মূল লাইনের দৈর্ঘ ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ৭টি ইন্টারচেঞ্জসহ র‌্যাম্প করতে হবে আরো ২৭ কিলোমিটার। র‌্যাম্পসহ মোট দৈর্ঘ ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। প্রকল্প এলাকাকে ৩ অংশে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম অংশ বিমানবন্দর থেকে বনানী পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার, দ্বিতীয় অংশ বনানী থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার এবং তৃতীয় অংশ মগবাজার থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার।
চালুর পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। পুরো এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে ১১টি টোলপ্লাজা, এর মধ্যে ৫টি হবে এক্সপ্রেসওয়ের উপরে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার যোগান দিচ্ছে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা বিনিয়োগ করছে ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি। নির্মাণকালীন ৩ বছরসহ মোট ২৫ বছর টোল আদায়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে নেবে থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানটি। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয় নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে প্রথম চুক্তি করে সেতু বিভাগ। সে বছর ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় কাজ আটকে থাকে ২ বছর। নকশা পরিবর্তন ও মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করে সেতু বিভাগ। চুক্তি সংশোধনের পর ওই বছরই শুরু হয় ভূমি জরিপ। ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর এবং ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট দুই দফা এ নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
উল্লেখ্য, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।