প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১তম বার্ষিকীতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় নিহতদের স্মরণ : বাহিনী পুনর্গঠনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা ও হত্যাকা-ে জড়িতদের বিচারে বিজিবিতে স্বস্তি

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানা ট্র্যাজেডির ১১তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তদানীন্তন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর কতিপয় বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সদস্য তথাকথিত দাবি-দাওয়া আদায় না হওয়ার অভিযোগে বিদ্রোহ করে এবং পিলখানাস্থ বিডিআর সদর দপ্তরে নিরস্ত্র সেনাকর্মকর্তা ও সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করে।
হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক সেই ঘটনার ১১তম বার্ষিকী গভীর শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় দলমত নির্বিশেষে পালন করলো পুরো জাতি।
যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন উপলক্ষে সকল সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কোরআন খতম এবং শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম শামীম উজ জামান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী-প্রধান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
এছাড়া এদিন সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করা হয় এবং শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সর্বস্তরের সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পিলখানার ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজিবি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। বনানীতে সামরিক কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য বিজিবি সজাগ রয়েছে বলে জানান সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।

পিলখানা হত্যামামলার রায়
দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা পিলখানা হত্যাকা-ের পর দু’টি মামলা করা হয় Ñ সেনা কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় দ-বিধি আইনে করা হয় হত্যামামলা। অপর মামলাটি হয় বিস্ফোরক আইনে। এর মধ্যে হত্যামামলার বিচারকাজ শেষ। ইতোমধ্যে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ কপিও প্রকাশ হয়েছে। রায়ে সেদিনের বিদ্রোহে নেতৃত্বদানকারী ডিএডি তৌহিদসহ (মৃত) ১৩৯ আসামির ফাঁসি, ১৮৫ জনের যাবজ্জীবন ছাড়াও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়েছে।
হত্যামামলার রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১৩৯ জনের মধ্যে ৩ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত ১৮৫ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৩ বছর সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে ২ জনকে। ১৫৭ জনকে ১০ বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে ২ জন মারা গেছে। ১৩ জনকে ৭ বছর, ১৪ জনকে ৩ বছর, ১ বছর কারাদ- দেয়া হয়েছে ২ জনকে, মোট ৫৬৮ জনকে সাজা এবং ২৭৮ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন আছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি। এ মামলায় ৮৩৪ জন আসামির মধ্যে ১ জন অসামরিক ব্যক্তি ছাড়া বাকিরা বিডিআরের জওয়ান। এ মামলার আসামিদের মধ্যে ২৪ জন মারা গেছেন। জীবিত আসামি ৭৯০ জন। পলাতক ২০ জন। মামলাটিতে ১৪৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রায় ১ হাজার ২০০ সাক্ষী রয়েছে। আগামী ৮ মার্চ পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এ মামলার আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ বাহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে এ মামলার রায় দেয়া সম্ভব হবে।’
এ ঘটনায় এরই মধ্যে বাহিনীর নিজস্ব আইনে করা মামলার বিচার শেষ হয়েছে। তাছাড়া পিলখানায় নারকীয় হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদ- প্রদান করে। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রাখা হয়। সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি বিডিআর হত্যা মামলার ডেথরেফারেন্স এবং আসামিদের আপিলের ওপর দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। রায়ের দৈর্ঘ ও মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায়।
দীর্ঘ দিন পরও এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনদের চোখের পানি শুকায়নি। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ-িতদের রায় কার্যকরের অপেক্ষাতেই আছেন সেদিন প্রাণে বেঁচে যাওয়া কর্মকর্তারা এবং যেসব কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের স্বজনরা। রায় কার্যকর হলে তা হবে তাদের চিরকালীন সে ক্ষতে সান্ত¡নার প্রলেপের মতো। তাই এতদিন পেরিয়ে এসে আজও চলছে সেই প্রতীক্ষা।

পিলখানা হত্যাকা-ের কুশীলবদের
খুঁজে বের করে বিচার দাবি
পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার কুশীলবদের খুঁজে বের করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াক) আয়োজিত ‘পিলখানা হত্যাকা-, হত্যাকা-ের বিচার ও আমাদের অনুভূতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ দাবি করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যক্ষ অপরাধীদের বিচার হলেও এর পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে বা নির্দেশনা দিয়েছে তাদের স্বরূপ উন্মোচন করতে হবে। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে এ ঘটনার পেছনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় এসব ষড়যন্ত্রকারী ষড়যন্ত্র করতেই থাকবে।
বক্তারা আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি বিএনপি-জামায়াত যে সূত্রে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেই শক্তি আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পিলখানা হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব, বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার কারণে ঘটনার ভয়াবহতা কিছুটা হলেও এড়ানো গেছে। তাছাড়া সরকারের দৃঢ়তা ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে প্রত্যক্ষ হত্যাকারীদের বিচার হলেও এর পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে তারা এখনও আড়ালে রয়ে গেছে। এ ঘটনার হোতাদের পরিচয় দেশের মানুষ জানতে চায়, তদন্ত করে এসব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হোতাদের জাতির সামনে তুলে ধরার দাবিও জানান তারা।

শহীদ অফিসারদের পরিবারবর্গকে
দেয়া বিভিন্ন সহায়তা
মৃত্যুর বিনিময় বা ক্ষতিপূরণ হয় না। তারপরও শহীদ কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আর্থিক সহায়তায় সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পিলখানা হত্যাকা-ে শহীদ অফিসারদের পরিবারবর্গকে গত ১১ বছরে দেয়া হয়েছে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকে ৬১টি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদান। সকল শহীদ পরিবারের পেনশন কম্যুটেশন বেনিফিট প্রাপ্তি। সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে সকল পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান। সেনাবাহিনী পরিবার নিরাপত্তা প্রকল্প তহবিল থেকে সকল পরিবার ৮ লক্ষ টাকা (সৈনিক পরিবার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা) করে পেয়েছেন। আবার বিডিআর তহবিল থেকে সকল পরিবার (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক প্রত্যেক পরিবারকে (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) মাসিক ৪০ হাজার টাকা করে (বার্ষিক ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা) ১০ বছর পর্যন্ত মোট ৪৮ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। সৈনিক পরিবারকে সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল থেকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে (বার্ষিক ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা) মোট ১০ বছর পর্যন্ত ১২ লক্ষ টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। ২ লক্ষ টাকার ট্রাস্ট ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড প্লেসমেন্ট শেয়ার গ্রহণ করেছেন ৫৬টি পরিবার। প্রত্যেক পরিবার সিএসডি থেকে এককালীন ২১ হাজার ৩০০ টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সিএসডি ডিসকাউন্ট কার্ড পেয়েছেন।
কেবল আর্থিক সুবিধা নয়, শহীদ পরিবারবর্গ অন্যান্য সুবিধাও প্রাপ্ত হয়েছেন। যেমন শহীদ পরিবারের ৪ জন সদস্য ভর্তি/টিউশন ফি ব্যতীত বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন। সেনাবাহিনীর অধীন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত শহীদ পরিবারের মোট ৪৫ জন শিশুর ভর্তি ও টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অধীন নয় এমন স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত (পিটারপেন, রাজউক, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, শাহীন স্কুল) শহীদ পরিবারের মোট ৩২ জন শিশুরও ভর্তি ও টিউশন ফি দিতে হয়নি। শহীদ পরিবারের মোট ১১ জন ছেলে-মেয়ে বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে বিনা বেতনে পড়ছে।

শহীদ অফিসারদের পরিবারবর্গকে
দেয়া আবাসন সুবিধা
পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য আবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। কেবল আবাসন নয়, চাকরি ও স্বাস্থ্যসেবাও দরকার ছিল তাদের। এজন্যই ৪৬টি আগ্রহী শহীদ পরিবারকে বিভিন্ন সেনানিবাসে সরকারি বাসস্থানে অবস্থানের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি শহীদ পরিবার অদ্যাবধি সেনানিবাসে (সরকারি বাসা, স্বপ্নচূড়া অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে) বসবাস করছেন। মোট ৬০টি পরিবারের মধ্যে (১ জন অবসরপ্রাপ্তসহ) ১২ জন অফিসার পূর্বেই ডিওএইচএস/রাজউকের প্লট পেয়েছিলেন। বাকি ৪৭ জনকে চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় প্লট/ফ্ল্যাট প্রদান করা হয়েছে; যেমন ৩৮টি শহীদ পরিবারকে ডিওএইচএস মিরপুর, মহাখালী ও চট্টগ্রামে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৬টি শহীদ পরিবারকে ডিওএইচএস মিরপুরে ২টি করে ফ্ল্যাট প্রদান করা হয়েছে (১৮ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় প্লটপ্রাপ্ত হননি)। ৪টি শহীদ পরিবার যারা পুনর্বিবাহ করেছেন তাদেরকে ডিওএইচএস মিরপুর ১টি করে ফ্ল্যাট প্রদান করা হয়েছে (১৮ বছর চাকরি পূর্ণ না হওয়ায় প্লটপ্রাপ্ত হননি)। সৈনিক পরিবারকে সাভার খেজুরটেক সেনাপল্লী আবাসন প্রকল্পে ১টি করে ফ্ল্যাট প্রদান করা হয়েছে। সকল শহীদ পরিবারকে এএইচএসে প্লট (সৈনিক পরিবার ব্যতীত) প্রদান করা হয়েছে, যা ডিওএইচএসে প্রাপ্ত প্লটের অতিরিক্ত। শহীদ একজন সৈনিকের পরিবারকে সাভার খেজুরটেক সেনাপল্লী আবাসন প্রকল্পে বিনামূল্যে ১টি ফ্ল্যাট প্রদান করা হয়েছে। শহীদ পরিবারের মোট ৩১ জন সদস্যকে বিভিন্ন চাকরি দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন বিদেশে চাকরি পেয়েছেন (২ জন লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং ১ জন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে)। সকল শহীদ পরিবার সিএমএইচে বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। সকল শহীদ পরিবারের সেনানিবাসের বাসায় সামরিক টেলিফোন সংযোগ প্রদান ও ১৫টি শহীদ পরিবারের হাউজ বিল্ডিং লোন (মূলসহ) মওকুফ এবং সেনানিবাসে অবস্থানরত সকল শহীদ পরিবারকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুগ্ধ কার্ড এবং ঘি প্রদান করা হয়েছে। ৩টি শহীদ পরিবারের কম্পিউটার লোন মওকুফ এবং আর্থিক অসচ্ছলতার জন্য ৫ জন শহীদ অফিসারের পিতা-মাতাকে সেনাবাহিনী কল্যাণ তহবিল হতে ২০১৬ সালে ১৫ লক্ষ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানেও শহীদ পরিবারবর্গকে চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

শেষ কথা
বিদ্রোহের পর বিডিআর আইন, নাম, পোশাক, পতাকা ও মনোগ্রামসহ অনেক কিছুতেই পরিবর্তন আনা হয়। বাহিনীর অভ্যন্তরে নানামুখী পদক্ষেপ ও সংস্কারের ফলে দুঃসহ সময় পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। পুনর্গঠিত বিজিবি এখন একটি আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
যারা পিলখানা হত্যাকা-ে জড়িত ছিল, তাদের বিচার হয়েছে। বিস্ফোরক মামলার বিচারের রায় হবে চলতি বছরেই। পিলখানা হত্যাকা-ে বিচারের রায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়ার কারণে খুশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। পাশাপাশি স্বস্তি ফিরে অনেকটা কলঙ্কমুক্ত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। ফলে বর্তমান ডিজি মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি।