কলাম

শিশু নির্যাতন রোধে সামাজিক-পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থার বিকল্প নেই

দেশে নারী নির্যাতনের পাশাপাশি শিশুর প্রতি সহিংসতাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। শিশুর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি এখন সার্বিক উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে নিম্নবিত্ত Ñ কোনো অবস্থানে কোথাও নিরাপদে নেই শিশু। ট্রেনে বা রেলস্টেশনে, বাসের অভ্যন্তরে বা বাস স্টেশনে, রাজপথে অথবা গলিপথে, গ্রামে অথবা শহরে, নির্মাণাধীন ভবনে, সুরম্য অট্টালিকা অথবা জরাজীর্ণ বস্তিতে, বিদ্যালয়ে অথবা নিজের বাড়িতে Ñ কোথায়ও শিশুরা নিরাপদ নয়।
দেশে শিশু অধিকার সুরক্ষায় কঠোর আইন রয়েছে। এরপরও প্রতিনিয়তই দেশের কোথাও না কোথাও শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশই তাদের লালনকারীদের সহিংস আচরণের শিকার হচ্ছে। ১৫ বছরের নিচে প্রতি ১০ জনের ৯ শিশুই তাদের অভিভাবক বা সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে সহিংস আচরণ পাচ্ছে।
সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন ছাড়াও সংবাদপত্রের পাতায় অথবা স্যোশাল মিডিয়াতে শিশুকে পাশবিক নির্যাতন, হত্যা, গুম, অপহরণের খবর প্রতিনিয়ত থাকছে। শিশু অধিকার সংস্থাগুলো দৈনিক পত্রিকার সংবাদের ওপর ভিত্তি করে শিশুর প্রতি সহিংসতার যে পরিসংখ্যান তুলে ধরছে, তা এককথায় ভয়ঙ্কর।
তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যতসংখ্যক শিশুকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা আমরা দেখতে পাই, ততসংখ্যক বিচারের খবর পাওয়া যায় না। শিশু নির্যাতন হ্রাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে রাষ্ট্র। যদি নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে কেউ আর সাহস পাবে না।
রাষ্ট্রের পাশাপাশি এক্ষেত্রে সমাজ ও পরিবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য চাই সামাজিক জাগরণ। সামাজিক ও পারিবারিকপর্যায়ে কাউন্সেলিং। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, বড়দের মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি নজরদারির বিকল্প নেই।
সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশে শিশু নির্যাতন যেভাবে বেড়ে চলেছে তা রোধ করতে না পারলে আগামীতে সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নইলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ভয়াবহ রূপ নেবে।
নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি শিশুর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পাশাপাশি আমাদের প্রত্যেককে স্ব স্ব অবস্থানে থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। নিজে সচেতন থাকতে হবে এবং শিশুর প্রতি ছোট-বড় সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রতিবাদী হয়ে উঠলে দেশে শিশু নির্যাতন অনেকটাই কমে যাবে বলে আমরা মনে করি।