প্রতিবেদন

করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার: প্রতিরোধে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ

এম নিজাম উদ্দিন : বৈশ্বিক অসুখ করোনা ভাইরাসকে অনেকটাই জয় করেছে চীন। শুধু চীন নয়, বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ মহলের আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং দিকনির্দেশনামূলক হস্তক্ষেপের কারণে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা করোনা মোকাবিলায় সজাগ ও সচেষ্ট রয়েছে। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক প্রস্তুতির কারণে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে ২ জনই পুরোপুরি সুস্থ হয়েছেন। যদিও নতুন করে আরো ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তারপরও বলা চলে চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের ১৪৭টি দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ খুবই নগণ্য।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) সর্বশেষ (১৪ মার্চ) তথ্যে জানিয়েছে, দেশের করোনা আক্রান্ত ৩ জন রোগীর মধ্যে ২ জন এখন পুরোপুরি সুস্থ। তাদের দুটি পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী পর পর দুটি পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এলে তাদের সুস্থ বলা যাবে। নতুন করে ২ জন আক্রান্ত হয়েছে, যারা বিদেশফেরত। আর কোভিড-১৯ রোগের মতো উপসর্গ নিয়ে দেশে এখন আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ জন; এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪ জন।
বর্তমান সরকার ও সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বেশ সতর্কতার সাথে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় হাসপাতাল, ডাক্তারদের প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, মুজিববর্ষের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানমালা স্থগিত করে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা
প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য জনগণকে বলা হয়েছে। প্রথম সারির গণমাধ্যমের তথ্য ছাড়া তথাকথিত গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া ফেসবুকের তথ্যকে বিশ্বাস না করতে বলা হয়েছে। ফেসবুকের কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই-বাছাই করতে বলা হয়েছে। করোনা ভাইরাস বা এ নিয়ে বিশেষ কোনো তথ্য জানার প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে (১৬২৬৩ বা ০১৯৪৪৩৩৩৪৪৪) কল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইইডিসিআর পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, অসুস্থ কেউ যদি আইইডিসিআর-এর হটলাইনে যোগাযোগ করেন, তাহলে আইইডিসিআর-এর টিম বাড়ি থেকে তার নমুনা সংগ্রহ করবে।
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় করোনা প্রতিরোধে বেশকিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তাদের গৃহীত ব্যবস্থাদি হলো: ১. দেশের বিভিন্ন স্থল/নৌ ও বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য ডেস্কসমূহে সতর্কতা ও সার্ভিল্যান্স জোরদার করা। ২. হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে নতুন করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম গ্রহণ করা। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের ৭টি প্রবেশপথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আক্রান্ত দেশ থেকে আগত রোগীদের স্পর্শ না করে জ্বর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা। ৩. বিমানবন্দর স্ক্রিনিং কার্যক্রমে এই পর্যন্ত (১৪ মার্চ, ২০২০) ৪০ হাজার ৫৭০ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে, স্ক্রিনিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৪. নতুন ভাইরাস সম্পর্কে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ৫. চিকিৎসা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগপ্রতিরোধী পোশাক (চচঊ) মজুত রাখা হয়েছে। ৬. ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে নির্দিষ্ট রাখা হয়েছে। ৭. হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কোয়ারেন্টিন ওয়ার্ড হিসেবে আশকোনা হাজী ক্যাম্পকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, সেখানে ইতালিফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ৮. বিমানের ভেতরের আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য বিমানের ক্রুদের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে হেলথ ডিক্লারেশন ফর্ম ও প্যাসেঞ্জার লোকেটের ফর্ম বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ৯. ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত যোগাযোগের জন্য আইইডিসিআরে মোট ৪টি হটলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। (হট লাইন নাম্বারসমূহ: +৮৮০১৯৩৭০০০০১১/ +৮৮০১৯৩৭১১০০১১/ +৮৮০১৯২৭৭১১৭৮৪/ +৮৮০১৯২৭৭১১৭৮৫) ১০. গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মাধ্যমে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করা হচ্ছে। ১১. সব জেলার সিভিল সার্জনদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য এবং চিকিৎসার লক্ষ্যে প্রয়োজনে পৃথক ওয়ার্ড/বেডের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ১২. দেশের অন্তত ১২টি জেলায় হোম কোয়ারেন্টিন কার্যকর হয়েছে। ১৩. চীনসহ অন্তত ৭টি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসাব্যবস্থা স্থগিত করা হয়েছে।
চিকিৎসা এবং শনাক্তকরণের জন্য গৃহীত কার্যক্রম: ১. দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২. ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৩. আইইডিসিআর ল্যাবরেটরিতে এই ভাইরাস শনাক্তরকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৪. ডঐঙ এবং টঝ ঈউঈ-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চিকিৎসা সহায়তা নেয়া হচ্ছে। ৫. আইইডিসিআর-এ ঈড়ৎড়হধ ঈড়হঃৎড়ষ জড়ড়স খোলা হয়েছে।
এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্যতামূলক ছুটি দিতে নির্দেশ দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর সঙ্গনিরোধের (কোয়ারেন্টিন) ব্যবস্থা করে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে।
মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে সবার নিয়মিত বিরতিতে হাত ধোয়া, আইইডিসিআর নির্দেশিত পন্থায় হাঁচি-কাশি দেয়া, করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকা, জনসমাগম পরিহার করা, সর্বোপরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিষয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করা এবং সহযোগিতা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেয়া চিঠিতে এসব বিষয় দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং জরুরি সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টার হটলাইন ফোন নম্বরসহ কন্ট্রোল রুম চালুরও নির্দেশনা দেয়া হয় চিঠিতে।
এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালার মতো বাংলাদেশেও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তত ২ সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করার বিষয় নিয়েও ভাবছে সরকার। শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সব মিলিয়ে সরকারের তরফ থেকে সার্বক্ষণিক সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য জনগণকে পরামর্শ দিয়েছেন। তাছাড়া কাউকে আতঙ্কিত না হয়ে বরং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশমালা অনুসরণ করতে বলেছেন।
এদিকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ১৫ মার্চ জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় সারাদেশে ২ হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।
নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের ৮ বিভাগে ২ হাজার ৩১৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪ জন, আর আইসোলেশনে আছেন ১০ জন।
আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ‘আমরা ১৫ মার্চ পর্যন্ত ২৩১ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করেছি। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা ৫ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছি।’
নতুন আক্রান্ত দু’জন রোগী ইউরোপ থেকে এসেছেন বলেও জানান তিনি। তাদের এক ব্যক্তির বয়স ২৯ বছর, তিনি জার্মানি থেকে দেশে এসেছেন। অন্যজনের বয়স আনুমানিক ৪০ বছর, তিনি ইতালি থেকে এসেছেন। তারা উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেন। তবে তাদের দুজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
১৫ মার্চ ইতালি থেকে আরো ১৫২ জন বাংলাদেশি ঢাকায় এসেছেন। তাদের সবাইকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আশকোনার হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। এর আগে ১৪ মার্চ ইতালির রোম থেকে আসা ১৪২ জন বাংলাদেশিকেও কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস ইউরোপকে বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল বলেছেন। সে হিসেবে সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপ থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠাচ্ছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৪৪ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৮১ শতাংশের শরীরে হালকা লক্ষণ দেখা দেয়। ১৪ শতাংশের শরীরের লক্ষণ দেখা দেয় এর চেয়ে মাঝারি আকারে। অন্যদিকে মাত্র ৫ শতাংশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, বিশ্বে প্রতি বছর ১০০ কোটির মতো মানুষ ভাইরাসজনিত ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে ২ লাখ ৯০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ লাখ পর্যন্ত মানুষ মারা যায়। প্রতি বছরই এসব ভাইরাসের ভয়াবহতার মাত্রা পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে প্রথম ৩ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে খবরে একদল গুজব ছড়াচ্ছে, আরেক দল হুজুগে শুরু করেছে দৌঁড়ঝাপ! আর এ সুযোগে অন্য আরেক দল হেক্সাসল, মাস্ক, স্যানিটাইজারের দামই শুধু বাড়ায়নি; রীতিমতো বাজার থেকে উধাও করে দেয়ার অপচেষ্টায় আছে। এই শ্রেণির মানুষ যুগ-যুগ ধরে আছে এবং প্রকৃত শিক্ষা, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তারাও ভাইরাসের মতো দেশ ও জাতির জন্য বিপদজনক হয়ে উঠবে।
জানা গেছে, সরকার বিষয়টি নিয়ে সচেতন আছে। সরকারপ্রধান জনগণকে ‘গুজব’ এবং ‘হুজুগ’-এ মাতামাতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র মৃত্যুর ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে যে ছক দিয়েছে, তাতে দেখা যায়, মধ্যবয়সীদের চেয়ে বয়স্কদের মৃত্যুর সংখ্যা ১০ গুণ বেশি। ৩০-এর নিচে বয়স এমন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা অনেক কম ঘটেছে চীনে; এই বয়সী সাড়ে ৪ হাজার আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছে মাত্র ৮ জন। আর যেকোনো রোগে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও করোনা ভাইরাসে চীনে ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুরই মৃত্যু ঘটেনি।
চীনের এই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বয়স্কদের বিষয়ে অধিক সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। কোনো বয়স্ক ব্যক্তি, যিনি প্রবাসীদের সংস্পর্শে এসেছেন, তার মধ্যে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৪৭টি দেশ ও অঞ্চলে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাস থেকে সৃষ্ট প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৩৯ জনে।
অতীতের মার্স করোনা ভাইরাস (গঊজঝ-ঈড়ঠ) এবং সার্স করোনা ভাইরাস (ঝঅজঝ-ঈড়ঠ) থেকে বলা যায়, সামনের দিনগুলোতে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আরো মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে এই রোগ এরই মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাই দেশে রোগটি যাতে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রেখেছে সরকার।