প্রতিবেদন

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে প্রথমবারের মতো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে Ñ ৮ মার্চ ৩ জন এবং ১৪ মার্চ ২ জনসহ মোট ৫ জন। এর মধ্যে ৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। প্রবাসী ১ জনের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ জন বাংলাদেশি। সে হিসাবে বলা যায়, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে আক্রান্তের হার খুবই কম এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে ৫ হাজার ৮৩৯ জন মানুষের মৃত্যু ঘটলেও দেশে ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে কারো মৃত্যু ঘটেনি।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে বিশ্ববাসীকে বেশকিছু সাধারণ অথচ কার্যকর সতর্কতা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

করোনা যেভাবে ছড়ায়
বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী করোনার যে ভাইরাসটি বিস্তার লাভ করেছে তার নাম কোভিড-১৯। এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তির দেহে হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে।
কোনো সুস্থ ব্যক্তি যখন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির দেয়া হাঁচি বা কাশির সূক্ষ্মকণা শ্বাসপ্রশ্বাস বা হাতের স্পর্শের মাধ্যমে মুখে নেন, তখন নাসারন্ধ্রের মাধ্যমে তার দেহেও করোনা সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনের বেশকিছু হাসপাতাল কোনো ব্যক্তির মাঝে ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে হাঁচি বা কাশি দেয়ার লক্ষণ দেখা দিলে তাকে করোনা আক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেছে। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি ইতোমধ্যেই আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ৬ ফুটের মধ্যে থাকলে তাকেও উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকির কাতারে ফেলা হয়; অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রচুর লোকের জনসমাগম বা ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

পূর্বলক্ষণ দেখা না দেয়া ব্যক্তিদের
থেকেও ছড়াতে পারে
করোনায় আক্রান্ত অনেকের মাঝে রোগের উপসর্গ না-ও দেখা যেতে পারে। এসব রোগীর মাধ্যমেও ভাইরাসটি বিস্তার লাভ করতে পারে। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এখনো অনেক কিছুই অজানা থাকায় এই রোগীদের থেকে ভাইরাসটি সংক্রমণের ঝুঁকি ঠিক কতটা বেশি তা জানা যায়নি।

সামাজিক বিস্তার
এছাড়াও আক্রান্ত রোগীর লালা, থুতু বা সর্দির ফোঁটা থেকে কোনো বিদ্যালয়ের বেঞ্চ বা বাসের সিট সংক্রমিত হতে পারে। সেখান থেকে সহজেই তা অন্যদের দেহে ছড়াতে পারে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার কিছু উপায়ও বাৎলে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যেমন:

নিয়মিত হাত ধোয়া
নিজের দুই হাত মাঝে মধ্যেই পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর হাতে সাবান লাগিয়ে হাতের তালু এবং পৃষ্ঠতল ঘষে ফেনা তুলুন। আঙ্গুলগুলোর মাঝেও একইভাবে পরিষ্কার করুন। এরপর আবারও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ঢাকতে হবে। এরপর সেই টিস্যু ডাস্টবিনে ফেলে আবারও নিজের হাত পরিষ্কার করুন। হাঁচি বা কাশি আটকাতে কখনোই নিজের হাত ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে কনুইয়ের উপরের অংশ ব্যবহার করা যেতে পারে।

মুখে মাস্ক পরে সামান্য
সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে
করোনা ভাইরাসের তরল উৎস হাঁচি-কাশির ফোঁটা থেকে ফেস মাস্ক কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে। তবে এর মাধ্যমে ভাইরাসের অতি সূক্ষ্ম কণা আটকানো সম্ভব নয়। এছাড়া মাস্ক পরলেও চোখ খোলাই থাকে। ইতোমধ্যেই বেশকিছু ব্যক্তির দেহে চোখের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা নিন
আপনার যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনি সম্প্রতি কোথায় ভ্রমণ করেছেন, সেসব কথা চিকিৎসককে খুলে বলুন।

পশুবাজার পরিহার
ভাইরাস আক্রান্ত অঞ্চলে জীবন্ত পশুর বাজার এড়িয়ে চলুন এবং পশুপাখি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলুন
আক্রান্ত এলাকা থেকে ফিরে থাকলে ১৪ দিন নিজেকে জনসমাগম থেকে বিচ্ছিন্ন বা কোয়ারেন্টিনে রাখুন। এর মানে, এই সময় কর্মস্থল থেকে শুরু করে অন্যান্য জনসমাবেশস্থল এড়িয়ে চলতে হবে।

যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়ায়
বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।
লক্ষণসমূহ: ১. জ্বর ও কাশি। ২. শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। ৩. অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া। ৪. ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ৫ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ
যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস এবং এর ভয়াবহতা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানা এখনো সম্ভব হয়নি, তাই ভ্রমণকালীন বিশেষ করে বিদেশ থেকে দেশে এবং দেশ থেকে বিদেশে ভ্রমণকারীগণ সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাভাবিক শ্বাসতন্ত্রেও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বেশি জরুরি কিছু না হলে কিছুদিনের জন্য বিদেশ ভ্রমণে বিরত থাকাই ভালো।

ভাইরাস থেকে বাঁচতে
যা যা করতে হবে
১. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরে থাকতে হবে।
২. বারবার প্রয়োজনমতো সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমণস্থলে ভ্রমণ করলে।
৩. জীবিত অথবা মৃত গৃহপালিত/বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকা।
৪. ভ্রমণকারীগণ আক্রান্ত হলে কাশি শিষ্টাচার অনুশীলন করতে হবে (আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়া, যেখানে-সেখানে কফ না ফেলা)।