ফিচার

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দময় করে তুলবেন যেভাবে

ফারজানা সুমি : একজন মানুষ যদি গড়ে ৬০ বছর বাঁচেন, তার জীবনে আনন্দময় ও স্মরণীয় মুহূর্ত থাকে হয়ত সব মিলিয়ে ৫ বছর। বাকি ৫৫ বছর তার জীবন থেকে এমনিই হারিয়ে গেছে। সে সময়ে তার জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটেনি।
অথচ আমরা চাইলে জীবনের প্রতিটা মুহূর্তকেই আনন্দময় করে তুলতে পারি। সেজন্য প্রতিটি মুহূর্তই বাঁচার মতো বাঁচতে হবে। জীবনটা কিন্তু খুবই অল্প সময়ের। এই স্বল্প সময়ে নিজের পাশাপাশি এই পৃথিবীর জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য কিংবা পাশের মানুষগুলোর জন্য কোনো কিছু রেখে যেতে পেরেছি কিনা তা-ই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। সেজন্য কিছু পরিকল্পনা থাকতে হবে। যেমনÑ

নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন
যত দিন নিজেকে ভালোবাসতে না শিখবেন ততদিন জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে পারবেন না। নিজেকে ভালোবাসলে আপনি এমন কোনো কাজ করবেন না যেটা পরবর্তী জীবনে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে বা আপনাকে কষ্ট দেবে। নিজেকে ভালোবাসলে সব সময় আপনি নিজের স্বাস্থ্য, পড়াশোনা ও জীবনের প্রতি আরো বেশি যতœশীল হবেন। নিজেকে ভালোবাসার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস রাখুন। তাহলে পাহাড়সম বাধা-বিপত্তিও আপনাকে টলাতে পারবে না।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্য দিন
আমাদের সবার জীবনেই প্রতিটি মুহূর্ত অনেক বেশি মূল্যবান। কেউ জানি না আর কতদিন বাঁচব আমরা। আজ যে সময়টা চলে যাচ্ছে সেটা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। ধরুন, এখন আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাকেই কিন্তু একদিন ভীষণ মিস করবেন। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকেই মূল্য দিন এবং প্রতিটি মুহূর্তকেই আনন্দময় করে তোলার চেষ্টা করুন।

আনন্দ ও কষ্ট দু’টিকেই আপেক্ষিক ভাবুন
আনন্দ ও কষ্ট Ñ এই বিষয়গুলো একেবারেই আপেক্ষিক। কারো কাছে আনন্দে থাকা মানে কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতে বসে সূর্যাস্ত দেখা, আবার কারো কাছে সারাদিনের পরিশ্রমের পর উপার্জিত টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য খাবার কিনে নিয়ে বাড়ি ফেরাটাই অনেক আনন্দের। ঠিক তেমনি কষ্টও আপেক্ষিক। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো আনন্দে থাকার পোস্ট বা ছবি দেখে হতাশ হওয়া যাবে না।
খেয়াল করে দেখুন, আপনি রোজ রোজ বাসায় খাবার খাচ্ছেন, সেই ছবি কি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিচ্ছেন? না। কিন্তু একদিন কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে সেই ছবিটা কিন্তু ঠিকই দিচ্ছেন। ঠিক তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যাদের আনন্দে থাকতে দেখছেন তারাও সবসময় আনন্দে আছে Ñ এমনটা ভাবার কারণ নেই। সবার জীবনে আনন্দ ও কষ্ট দুই-ই আছে। এই পৃথিবীতে সবাইকেই কষ্টের সময় পার করতে হয়। হয়ত আমরা অন্যের সেই কষ্টটাকে বুঝি না বা অনুভব করি না।

আত্মসন্তুষ্টিকে আনন্দে থাকার
মূলমন্ত্র মনে করুন
আপনার যা আছে তা-ই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। হয়তো আপনার এক বন্ধু আইফোন কিনেছে, কিন্তু আপনার আইফোন কেনার সামর্থ্য নেই। সে কারণে মন খারাপ করে আছেন। কিন্তু আপনার আশপাশেই একটু তাকিয়ে দেখুন, অনেকে মোবাইল ফোন কেনা তো দূরের কথা, মৌলিক চাহিদাগুলোই পূরণ করতে পারছে না।
তাই আপনি যা পেয়েছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। সবসময় মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে আপনার চেয়েও অনেকে খারাপ অবস্থায় আছে।

শক্তিশালী অস্ত্র হাসি প্রয়োগ করুন
এক টুকরো হাসিই অনেক সমস্যার সমাধান করে আপনার মাঝে শান্তি বয়ে আনতে পারে। ধরুন, আপনাকে কেউ বিদ্রুপ করছে, তাতে উত্তেজিত না হয়ে হাসতে শিখুন। হ্যাঁ, এটাই সহনশীলতার বহিঃপ্রকাশ।
হাসি দুর্বলতা প্রকাশ করে না, বরং মহানুভবতার পরিচয় দেয়। তাই উত্তেজিত না হয়ে হাসি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে শিখুন এবং সহনশীল হোন।

পরিবারকে বেশি সময় দিন
এই পৃথিবীতে নিজে ব্যতীত আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে পরিবার। তাই সেই মানুষগুলোকে বেশি করে সময় দিন। সারাদিনের কাজ শেষে পরিবারই সঠিক জায়গা, যেখানে সারাদিনের ক্লান্তি-অবসাদ ভুলে থাকা যায়।
বাবা-মা, ভাই বোনদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এতে জীবনের যেকোনো সমস্যা আপনি পরিবারের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। নিজেকে একা মনে হবে না, সবসময় মনে হবে আপনার পাশে পরিবার আছে।

বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখুন
পৃথিবীতে কে আমাদের বাবা-মা বা ভাই-বোন হবেন সেটা নির্বাচন করার সুযোগ আমাদের নেই। জন্মের আগেই সেটা স্রষ্টা ঠিক করে দিয়েছেন। কিন্তু বন্ধু নির্বাচনে সে সুযোগ আমাদের আছে। জীবনে প্রতিটি মুহূর্তেই বন্ধুর প্রয়োজন হবে। এই পৃথিবীতে যেকোনো লড়াই একা লড়া সম্ভব নয়, পাশে বন্ধুর প্রয়োজন।
তাই সবসময় বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করুন। বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে তাকে আরো সাধুবাদ জানান। তাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করুন। দেখবেন, সেও আপনাকে জীবনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।

তিন বিষয়ে ‘না’
হিংসা, ঘৃণা ও অহঙ্কার Ñ এই তিনটিকে ‘না’ বলুন। কারো সফলতায় হিংসা না করে বরং তাকে আরো উৎসাহ দিন। সমাজের যে শ্রেণির মানুষই হোক, কাউকে ঘৃণা করবেন না। সবাইকে ভালোবাসুন। আপনি সমাজে প্রতিষ্ঠিত, সে জন্য অহংকার করবেন না। যে আপনার মতো হতে পারেনি, হয়ত আপনার মতো সুযোগ পায়নি। তাই হিংসা, ঘৃণা ও অহংকারকে জীবন থেকে মুছে দিয়ে সকল মানুষের সাথে এককাতারে মিশে যান। দেখবেন জীবনটা কত সুন্দর!