প্রতিবেদন

দ্রুত এগিয়ে চলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের একক বৃহত্তম প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দ্রুত এগিয়ে চলেছে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া।
রূপপুর প্রকল্প দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য মাইলফলক। সময়মতো নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৩ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে।
৯ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর এর কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণে রাশিয়ার সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি খসড়া প্রটোকল নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। তাছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহায়তার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ও রাশিয়ান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে চুক্তির সংশোধনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২-৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের প্রথম কনক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এর পেছনে বার্ষিক খরচ হবে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে দেশের ৬ কোটি মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়ের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প।

একনজরে রূপপুর পারমাণবিক
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইতিবৃত্ত
১৯৬১: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ।
১৯৬২-১৯৬৮: পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদী-তীরবর্তী রূপপুরকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান হিসেবে নির্বাচন এবং প্রকল্পের জন্য ২৬০ একর ও আবাসিক এলাকার জন্য ৩২ একর জমি অধিগ্রহণ।
১৯৬৯-১৯৭০: ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাতিল করে দেয়।
১৯৭৭-১৯৮৬: একনেক কর্তৃক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (১২৫ মেগাওয়াট) নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন, কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম বাতিল।
১৯৮৭-১৯৮৮: জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের দুটি কোম্পানির দ্বিতীয়বার ফিজিবিলিটি স্টাডির আলোকে ৩০০-৫০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ।
১৯৯৭-২০০০: বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া কর্তৃক ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ।
২০০৯: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কার্যাবলি ও পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও রাশান ফেডারেশনের স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি করপোরেশনের (রোসাটোম) মধ্যে ‘পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার’ বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
২০১০: বাংলাদেশ ও রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি স্বাক্ষর। জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ।
২০১১: বাংলাদেশ ও রুশ সরকারের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর।
২০১৩: অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রথম পর্যায় কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।
২০১৬: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল পর্যায়ের কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে স্টেট ক্রেডিট চুক্তি স্বাক্ষর।
২০১৭: ৩০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের প্রথম কনক্রিট ঢালাই উদ্বোধন।