খেলা

বিসিবির নতুন চুক্তিতে যে খেলোয়াড় যত বেতন পাবেন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন লিটন দাস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় স্কোর করা এই তারকাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবার রেখেছে লাল ও সাদা দুই বলের চুক্তিতে। কিন্তু বেতনকাঠামোয় তিনি পড়েছেন ‘বি’ শ্রেণিতে। অন্যদিকে ২ বছর পর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরা সৌম্য সরকার এক লাফে চলে গেছেন ‘এ প্লাস’ শ্রেণিতে। ফলে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক, ক্রিকেটারদের বেতনকাঠামো আসলে তৈরি হয় কোন মানদ-ে?
জানা গেছে, খেলোয়াড়দের কেন্দ্রীয় চুক্তি ও বেতনের গ্রেড ঠিক করার প্রধান দুটি মানদ- হচ্ছে পারফরম্যান্স ও ম্যাচসংখ্যা। কেন্দ্রীয় চুক্তিতে কাকে বাদ দেয়া হবে, কাকে কোন গ্রেডে রাখা হবে, সেটি ঠিক করার জন্য ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ দায়িত্ব দেয় নির্বাচকদের। নির্বাচকেরা প্রথম দেখেন সর্বশেষ বছরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স। পারফরম্যান্সের বিচারে ঠিক করেন কারা বাদ পড়বেন আর কারা থাকবেন। ঠিক করেন কারা থাকবেন লাল বলের চুক্তিতে, কারা সাদা বলে।
এই মানদ-ে ১৭ ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করেছে বিসিবি। চুক্তিতে সর্বোচ্চ বেতনের স্তরে রয়েছেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সৌম্য সরকার। এ ৪ জনই আছেন এ প্লাস ক্যাটাগরিতে। তবে ‘লাল বল’ ও ‘সাদা বল’ দুই চুক্তিতেই রয়েছেন তামিম ও মুশফিক। আর মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য আছেন শুধু ‘সাদা বলের’ চুক্তিতে। সর্বোচ্চ বেতন স্তরে থাকার কারণে তারা মাসে বেতন পাবেন ৪ লাখ টাকা করে।
এর আগে বিসিবি যে তালিকা প্রকাশ করে সেখানে সৌম্যর নাম ছিল না। পরে বোর্ডের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানান, ব্যাটিং অলরাউন্ডারের নাম ভুলে বাদ পড়েছে।
‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন শুধু মমিনুল হক। তিনি মাসে পাবেন ৩ লাখ টাকা। কেবল ‘লাল বলের’ চুক্তিতে রয়েছেন মমিনুল।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে আছেন লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল ইসলাম। তবে তাইজুল সাদা বলের চুক্তিতে রয়েছেন ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে। এ ৪ জন ক্রিকেটারের প্রতিজন প্রতি মাসে বেতন পাবেন ২ লাখ টাকা করে।
‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটাররা প্রতি মাসে পাবেন দেড় লাখ টাকা করে। এই ক্যাটাগরিতে আছেন ‘সাদা বলের’ চুক্তিতে থাকা মোহাম্মদ মিঠুন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
‘ডি’ ক্যাটাগরিতে আছেন সাদা বলের চুক্তিতে থাকা নাইম শেখ, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নাজমুল হোসেন শান্ত। আর লাল বলের চুক্তিতে থাকা নাইম হাসান, এবাদত হোসেন, আবু জায়েদ রাহী ও মোহাম্মদ মিথুন।
এর মধ্যে লাল ও সাদা বল উভয় ক্ষেত্রেই ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে আছেন শান্ত। এ ক্যাটাগরির সবাই মাসে ১ লাখ টাকা করে বেতন পাবেন।
চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি নিজেই বিসিবির কাছে অনুরোধ করেন এবারের চুক্তিতে নাম না রাখার জন্য। আরও বাদ পড়েছেন সাকিব আল হাসান। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় সব ধরনের ক্রিকেটে বর্তমানে নিষিদ্ধ তিনি।
এছাড়া ইমরুল কায়েস, আবু হায়দার রনি, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, রুবেল হোসেন ও সাদমান ইসলাম চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন। চুক্তিতে জায়গা করে নিয়েছেন সৌম্য, শান্ত, মিঠুন, এবাদত, আফিফ ও নাইম।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সব ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়। টেস্ট সংস্করণে প্রতি ম্যাচে একজন ক্রিকেটার এখন থেকে পাবেন ৬ লাখ টাকা করে, আগে যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বেড়েছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ম্যাচ ফি। ওয়ানডেতে এর আগে ম্যাচ ফি ছিল ২ লাখ টাকা করে। তবে এখন থেকে ক্রিকেটাররা পাবেন ৩ লাখ টাকা করে।
টি-টোয়েন্টিতে ২০১৭ সাল থেকে ক্রিকেটাররা পেতেন ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে। এখন থেকে পাবেন ২ লাখ টাকা করে। তবে এ অর্থ গ্রেড অনুযায়ী পাবেন ক্রিকেটাররা।
আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ক্রিকেটে যে পয়েন্ট সিস্টেম, সেটির ভিত্তিতে ক্রিকেটারদের বেতন বাড়তে পারে।
ম্যাচ রেটিংয়ের হিসাবমতে, তামিম ২০১৯ সালে ৬ লাখ ৩০ হাজার এবং মুশফিক ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনও পেয়েছেন প্রতি মাসে।
নির্বাচকেরা জানান, যারা চুক্তিতে আছেন, তাদের বেতনকাঠামো বিন্যাস করা হয়েছে ক্যারিয়ারের মোট ম্যাচ সংখ্যা দিয়ে। যিনি ৩ সংস্করণে যত বেশি ম্যাচ খেলবেন, তার তত বেশি পয়েন্ট। এক টেস্ট খেললে ২ পয়েন্ট। সীমিত ওভারের ম্যাচপ্রতি ১ পয়েন্ট। যিনি যত খেলবেন, তার পয়েন্ট তত বেশি। যেমন ৩ সংস্করণে লিটন খেলেছেন ৮৪ ম্যাচ। সৌম্য সেখানে ১১৯ ম্যাচ। স্বাভাবিকভাবেই লিটনের চেয়ে সৌম্য এগিয়ে আছেন।
এছাড়া সর্বশেষ ২ বছর যারা যত বেশি ম্যাচ খেলেছেন তাদের পয়েন্ট বেশি হবে। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১০০-এর বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটাররাই সাধারণত থাকেন এ প্লাস শ্রেণিতে।
তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা এ প্লাস শ্রেণিতে থাকেন এ মানদ-ে। একই নিয়মে বেতনকাঠামো ঠিক হয় বাকি ক্রিকেটারদেরও।