ফিচার

সুন্দর থাকার সহজ টিপস

আফরোজা আক্তার
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই সুন্দর থাকতে পছন্দ করেন। এ জন্য পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাজ চাই।
সাজের যেমন বিভিন্ন দিক রয়েছে তেমনি উপলক্ষভেদে সাজের পার্থক্যটাও গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, বসন্ত উৎসব থেকে শুরু করে ঘরোয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান বা বিয়ের সাজে এই বৈচিত্র্য আনতে হয়। সাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আগে থাকে উৎসব ও ঋতু। স্বাচ্ছন্দ্যের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটাও সাজের উল্লেখযোগ্য দিক। সাজতে গিয়ে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকলে সাজ হয়ে ওঠে আরও আনন্দদায়ক।
বিয়েতে যাচ্ছেন, কী রঙের শাড়ি পরবেন? বর্ষায় ভেজা দিন, আজ কোন পোশাকটি পরলে ভালো হবে? এই গরমে কেমন মেকআপ নেবেন? রাতের পার্টিতে বেরুচ্ছেন, লিপস্টিকের রঙ কেমন হলে ভালো হবে? সাজতে গিয়ে চোখের দিকে তাকালেন। চোখজোড়া মায়াময় করে তুলতে কাজলের ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।
সাজগোজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় চুল বাঁধার ক্ষেত্রে। মুখের সাজগোজের পর চুল বাঁধতে গিয়ে অনেকেই ঝামেলায় পড়েন। কোনো অনুষ্ঠান বা উপলক্ষের জন্য বিভিন্নভাবে চুল বাঁধা যেতে পারে। যেমন বিয়ের অনুষ্ঠানে শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে আপনি বাঁধতে পারেন খোঁপা। আবার ফতুয়া ও জিন্সের সঙ্গে খোঁপা মানানসই হবে না। তখন কী করবেন?
পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে খুলে দিন চুল অথবা সামনের দিকে ব্যাককম্ব করে একটু ফুলিয়ে দিতে পারেন। বড় বা মাঝারি চুলও সম্ভব হলে ছেড়ে দিতে পারেন। যদি ঘরোয়া কোনো উৎসব থাকে, তবে ছোট বা মাঝারি চুল হলে সাইডে সিঁথি করে বাকি চুল ছেড়ে দিন। চাইলে কানের গোড়ায় গুঁজতে পারেন বর্ষার কোনো ফুল।
বর্ষার কথা এলে বর্ষার সাজ নিয়ে আগ্রহ জাগতেই পারে। বর্ষা মানেই উজ্জ্বল রঙ। দিনে হোক বা রাতে, যেকোনো সময়ই আপনি উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা মেকআপ ব্যবহার করতে পারেন। বর্ষা হলো নিওন রঙের সেরা সময়। এ সময় পোশাকে স্মার্ট মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করুন নিউট্রাল শেডের সঙ্গে। ফুলেল প্রিন্ট বা হাল্কা রঙের পোশাক পরলে রঙের ছোঁয়া আনুন রঙিন জুতো বা ব্যাগে। গয়না পরুন জমকালো, সুন্দর দেখাবে।
তবে এসব হিসেব তখনই যখন সাজসজ্জা কিংবা এ সংক্রান্ত প্রাথমিক জ্ঞানগুলো আপনার জানা থাকে। ত্বকের যতœ, চুলের যতœ, হাত ও পায়ের যতœসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রূপচর্চায় স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য দেয়া হলো কয়েকটি টিপস।
ক্স প্রতিদিন অন্তত দু’বার মুখ পরিষ্কার করুন। এ জন্য মাঝে মাঝে এলোভেরা ব্যবহার করতে পারেন। কখনো গরম অথবা অতিরিক্ত ঠা-া পানি দিয়ে মুখ ধোবেন না। এক রকম পানি সব সময় ব্যবহার করুন।
ক্স গরমের সময় হালকা মেকআপই শ্রেয়। এতে আপনাকে যেমন স্নিগ্ধ দেখাবে তেমনি আপনি নিজের কাছেও কোনো প্রকার অস্বস্তি বোধ করবেন না।
ক্স গরমে কালার করা চুলের রঙ রক্ষা করতে সতর্ক থাকুন। এ জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত একবার কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন।
ক্স ব্লাশন নিয়ে অনেক সময় দ্বিধায় ভুগতে হয়। আসলে মুখের কোন অংশটিতে ব্লাশন লাগালে সুন্দর দেখাবে, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। নাকের ২ আঙ্গুল দূর থেকে ব্লাশন লাগানো শুরু করা উচিত।
ক্স চুল ব্লো ড্রাই করার আগে ভালো মানের ভলিউমাইজিং স্প্রে অথবা হালকা জেল ব্যবহার করুন। এতে চুল ঘন দেখাবে।
ক্স মেনিকিউর করার পর নখের সৌন্দর্য বজায় রাখতে অন্তত ২ দিন পর পর নখে ক্লিয়ার নেইল পলিশ লাগান।
ক্স চোখের সাজ সুন্দর করতে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। চোখের পাতার বেইজ হিসেবে কন্সিলার লাগাতে পারেন।
ক্স আপনার ঠোঁট যদি বেশি পাতলা হয় তাহলে লিপস্টিক লাগানোর আগে স্কিন কালারের কোনো লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁটের বাইরে আউটলাইন করুন।
ক্স গরমের সময় পায়ের ত্বকে কালচে আবরণ দেখা দিতে পারে। ত্বককেও সূর্যের ক্ষতিকর এই প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভুলবেন না। এ জন্য বের হওয়ার আগে পায়েও এসপিএফ ৫০ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন লাগাবেন।
ক্স ক্লিন ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক এসিড সমৃদ্ধ ক্লিনজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বক ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত থাকবে এবং সহজেই ক্লিন দেখাবে।
ক্স অনেকেরই চুলের আগা ফেটে যায়। এ সমস্যার রোধ করার জন্য প্রথমে হেয়ার আয়রন দিয়ে চুল স্ট্রেইট করে নিন। এরপর হেয়ার রিপেয়ার ক্রিম লাগান।
ক্স মুখে ক্রিম লাগালে তা লক করে রাখার জন্য এর ওপর ট্রান্সলুসেন্ট পাউডার বুলিয়ে দিন।
ক্স যখন কোনো অর্গানিক বিউটি প্রোডাক্ট কিনবেন তার আগে দেখে নিন এটি এফডিএ সার্টিফায়েড অর্গানিক কি না।
ক্স গরমের দিনে ফাউন্ডেশনের বদলে টিনটেড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এতে ত্বকে অস্বস্তি আসবে না।
ক্স চুল কালো করে যদি অনেকক্ষণ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে চান তবে চুল সম্পূর্ণ শুকানোর পরই কেবল চুলে কারলিং মেশিন ব্যবহার করবেন।
ক্স সালফেটবিহীন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। কেননা সালফেট চুলকে রাফ করে দেয় এবং চুলের কিউক্যালকে নষ্ট করে দেয়।
ক্স যদি নেলপলিশ রিমুভার না থাকে তবে ক্লিয়ার কালারের নেইলপলিশ লাগিয়ে নিন। এরপর তুলা দিয়ে তুলে ফেলুন। দেখবেন, পুরনো নেইল পলিশ উঠে গেছে।