কলাম

করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও দায়িত্ব পালনে সকলকে সজাগ হতে হবে

করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা যেভাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তার বাইরে নেই এখন বাংলাদেশও। ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে ৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ২ জনই বিদেশফেরত। ২২ মার্চ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭-এ, যাদের বেশিরভাগই বিদেশফেরত। তাদের সাহচর্যে এসে ৮ থেকে ২১ মার্চের মধ্যে মৃত্যু ঘটে ২ জন দেশীয় রোগীর। এই পরিসংখ্যানে সহজেই বুঝা যায়, রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে বাংলাদেশে এবং তা বিদেশফেরতদের মাধ্যমেই। বিদেশফেরতদের মধ্যে এগিয়ে আছেন ইতালিফেরত প্রবাসীরা। তাদের কারণে ইতোমধ্যে লকডাউন হয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা।
গত ১ মাসে শিবচরের ৬৮৪ জন ইতালিপ্রবাসী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে কোয়ারেন্টিনে গেছেন মাত্র ২১৩ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিবচরের বাসিন্দা। ইতালিতে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। সেদেশ থেকে শুধু শিবচরের লোকই আসেনি, অল্পবিস্তর সব জেলার মানুষই এসেছেন এবং তারা একপ্রকার বিনা বাধায় বিমানবন্দর দিয়ে বেরিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছেন। এ কারণেই অত্যন্ত ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার আগ্রাসনকে ‘মহামারি’ বলে উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশে এখনো তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও জাতিসংঘের ‘অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় রয়েছি আমরা।
করোনার আগ্রাসন রোধে এখন প্রবাসীরাই বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের শরীরে করোনার জীবাণু আছে কী নেই, সেই বিতর্কে না গিয়ে এখনই এই মুহূর্তে প্রত্যেককে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যেতে হবে। এটা করতে হবে তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বার্থেই। শুধু হোম কোয়ারেন্টিনে গেলেই হবে না, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে। করোনার লক্ষণ শরীরে দেখা গেলে সরাসরি হাসপাতালে চলে যেতে হবে।
প্রবাসীদের মনে রাখতে হবে, করোনার জন্ম বাংলাদেশে হয়নি, কোনো না কোনো প্রবাসীর মাধ্যমে এটা বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে। তাই তাদেরকে স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে। প্রবাসীদের পাশাপাশি এদেশীয়দেরও উচিত ‘ব্যক্তিগত কোয়ারেন্টিনে’ চলে যাওয়া। যথাসম্ভব নিজেকে অন্যজনের কাছ থেকে দূরে রাখা। জনসমাগম থেকে দূরে থাকা। গণপরিবহন ব্যবহার পরিহার করা। একান্তই ব্যবহার করতে হলে বাড়ি ফিরে হাত-মুখ ধোয়ার পাশাপাশি গোসলও করে ফেলতে হবে। পরিধানকৃত পোশাক ধুয়ে অন্য পোশাক পরতে হবে। অথচ সর্দি-কাশি নিয়ে অনেক মানুষ এখনও রাস্তায় নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়াচ্ছে; অথচ এ সময়ে তাদের ঘরে থাকারই কথা। কিন্তু কেউই কারো কথা শুনছে না Ñ এটাও আমাদের অনেক বড় সমস্যা।
তাই এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সচেতনতাকে আমাদের সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। করোনা প্রতিরোধের নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুশীলন করতে হবে। আর মিডিয়াসহ করোনা প্রতিরোধের কাজে রাষ্ট্রীয় যেসব সংস্থা জড়িত, তাদেরও এ দুর্যোগময় মুহূর্তে অধিক দায়িত্বশীল হতে হবে।