ফিচার

করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

ডাক্তার ফয়সল আলামীন
চীন থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাস এখন ১৬০টির মতো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দেশ থেকে করোনার নতুন আক্রমণ বা এর শিকার লোকদের মৃত্যুর খবর আসছে। চীনের পর দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। বাংলাদেশেও এর ঢেউ আছড়ে পড়েছে। দেশে ২২ মার্চ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের।
করোনা ভাইরাস এমন একটি জুনোটিক রোগ, যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্লু, কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, জ্বর, মাথাব্যথা, হাঁচি ও ক্লান্তি। সিরিয়াস ক্ষেত্রে লক্ষণগুলোর মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া থাকতে পারে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রাকৃতিক কারণে। সরকারি এবং বহু বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বিভিন্ন সুরক্ষা টিপস দিচ্ছে যাতে, ভাইরাসটি একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডঐঙ) দ্বারা ঘোষিত করোনা ভাইরাস সুরক্ষা টিপসগুলো একবার দেখুন এবং আপনার পরিবার ও বন্ধুদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দিন।
ষ প্রথমত, ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন। আপনার যদি ফ্লুর মতো লক্ষণ যেমন কাশি, জ্বর, সর্দি বা হাঁচির মতো সমস্যা থাকে, তবে যেকোনো ধরনের ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।
ষ জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলুন। এমনও হতে পারে যে, কোনো ব্যক্তির মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ নেই, সে স্বাভাবিক কিন্তু তার মধ্যেও এই রোগের জীবাণু থাকতে পারে। কারণ, এই সংক্রমণটি রোগীর মধ্যে ফুটে ওঠে ১৪ দিনের মধ্যে। সুতরাং, জনবহুল জায়গা এড়িয়ে চলুন। কারণ, আপনি নিজেও জানেন না যে, কার মধ্যে এই ভাইরাসটি আছে এবং আপনাকে সংক্রমিত করতে পারে।
ষ আপনি যদি করোনা ভাইরাস সংক্রমিত দেশ থেকে আসেন এবং ফ্লু-এর লক্ষণ ও শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
ষ যাদের ফ্লু বা সর্দির লক্ষণ রয়েছে তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার সময় ০.৫ থেকে ২ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে কথা বলুন।
ষ হাত পরিষ্কার রাখুন। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান এবং পানি বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন।
ষ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন। প্রতিদিন আপনার বাড়ির চারপাশ, টেবিল, টয়লেট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সুইচ ও স্টেশনারি জিনিস পরিষ্কার করার জন্য জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।
ষ সংক্রমিত হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করবেন না। যখন কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি কোনো মাস্ক ছাড়াই হাঁচি বা কাশি দেয়, তখন প্যাথোজেনগুলো ফোঁটা আকারে বেরিয়ে আসে এবং চেয়ার বা টেবিলের মতো জিনিসগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য কোনো ব্যক্তি যখন সেই জিনিসগুলোকে স্পর্শ করে এবং সেই হাত দিয়ে তার চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করে, তখন রোগের জীবাণুগুলো এর মাধ্যমে দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তাকে সংক্রমিত করে। প্যাথোজেন জিনিসগুলোতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে।
ষ প্রবীণদের বিশেষ যতœ নিতে হবে। বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে, যার কারণে বৃদ্ধ ও পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের বিশেষ যতœ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
ষ মুখ ও নাক ঢেকে রাখুন। আপনার যদি ফ্লু-এর মতো লক্ষণ থাকে এবং কাশি বা ঘন ঘন হাঁচি হয় তবে সর্বদা টিস্যু ব্যবহার করুন এবং ব্যবহারের সাথে সাথেই এটি ফেলে দিয়ে সাবান ও পানিতে হাত ধুয়ে নিন।
ষ মাস্ক স্পর্শ করবেন না। আপনি যদি মুখ ও নাক ঢাকতে মাস্ক পরে থাকেন তবে একবার এটি পরিধানের পরে খালি হাতে এটিকে স্পর্শ করবেন না। এছাড়া মাস্কটি ব্যবহারের পরে এটি নিরাপদে সরিয়ে ফেলুন বা একবার ব্যবহারের পর তা বাতিল করুন। সঙ্গে সঙ্গে হাত ধুয়ে ফেলুন।
ষ এক্সট্রা মাস্ক বহন করুন। কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে এমন আশঙ্কা সম্পর্কে অনেকেই সিরিয়াস নন। যদি আপনি এমন কাউকে দেখেন, যার মধ্যে ফ্লু-জাতীয় লক্ষণ আছে তবে তার মুখ ঢাকতে তাকে এক্সট্রা মাস্কটি দিন।
ষ কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলুন। কেবলমাত্র সঠিকভাবে রান্না করা খাবার খান এবং রান্না না করা বা অর্ধেক রান্না করা খাবার বা গোশতজাতীয় খাবার এড়ানো উচিত। এমনকি আপনি যদি কাঁচা মাংস বা মৃত প্রাণীর কোনো অংশ স্পর্শ করেন তবে অবিলম্বে হাত ধুয়ে ফেলুন।
ষ যেখানে-সেখানে থুতু ফেলবেন না। যখন জনসাধারণের মাঝে থাকবেন তখন থুতু ফেলা এড়িয়ে চলুন। কারণ, এর মাধ্যমেও কেউ সংক্রমিত হতে পারে।
ষ প্রাণীদের কাছাকাছি হওয়া এড়ান। খামার বা পশুর বাজারে বা যেখানে পশু জবাই হয় সেখানে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও অসুস্থ জীবিত প্রাণীদের কাছ থেকে দূরে থাকুন।
ষ কোনো ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ হলে দ্রুত ১৬২৬৩ অথবা ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে সহযোগিতা চাওয়া যেতে পারে। তাছাড়া এক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য নিম্নলিখিত মোবাইল নাম্বারে ফোন করা যেতে পারে।
০১৯৩৭ ১১০০১১
০১৯৩৭ ০০০০১১
০১৯২৭ ৭১১৭৮৪
০১৯২৭ ৭১১৭৮৫
০১৯৪৪ ৩৩৩২২২
০১৫৫০ ০৬৪৯০১-৫