প্রতিবেদন

করোনা মোকাবিলায় সরকার যে ১৪টি পদক্ষেপ নিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনা ভাইরাস প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ বেশি জরুরি। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ২০ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য সরকারের গৃহীত ১৪টি পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
ষ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পৃথক বেড রাখা হয়েছে। করোনার লক্ষণ দেখা দিলে হট লাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য নির্ধারিত নম্বর দেয়া হয়েছে।
ষ রাজধানীতে করোনা রোগীদের জন্য ৪টি হাসপাতাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা হাসপাতাল।
ষ করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য আগামী ২ দিনের মধ্যেই আসছে আরো ২ হাজার কিট। এছাড়া চীন সরকার কাছ থেকে আসছে আরো ১০ হাজার কিট, ১৫ হাজার সার্জিকেল মেডিকেল মাস্ক, ১০ হাজার মেডিকেল প্রটেকটিভ ড্রেস এবং ১ হাজার ইনফ্রারেড থার্মোমিটার।
ষ বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের ঠিকানাসহ তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন আগত প্রবাসীদেরকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করছেন। যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার আইন ভঙ্গ করছেন তাদেরকে জরিমানাও করা হচ্ছে। টাঙ্গাইল মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় এ পর্যন্ত ৩৫ প্রবাসীকে জরিমানা করা হয়েছে।
ষ যাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদেরকে আশকোনা হাজিক্যাম্পসহ নিরাপদ স্থানগুলোতে রাখার ব্যবস্থা করেছে।
ষ স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
ষ ইউরোপিয়ান দেশগুলোর সব ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছে।
ষ সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়াতে গাইডলাইন এবং জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
ষ পতেঙ্গা ও কক্সবাজারসহ পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ষ কোনো আবাসিক হোটেলে বিদেশি থাকলে সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ষ যাদের হাঁচি, কাশি, জ্বর আছে, তাদের জুমা’র নামাজে শামিল না হওয়ার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ষ চাল, ডালসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকরা ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। কেউ যেন নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ষ জেলা-উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে তৎপর রাখা হয়েছে।
ষ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মনিটরিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্কুল ও কোচিং বন্ধ রাখা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার নিমিত্তে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টাস্কফোর্স টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

করোনা নিয়ে যোগাযোগে
আইইডিসিআরের নতুন ই-মেইল
ফেসবুক পেজ ও হটলাইন
করোনা ভাইরাস বিষয়ে যোগাযোগ করতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) নতুন আরও একটি হটলাইন, ই-মেইল ও ফেসবুক পেজ চালু করেছে।
মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ কোভিড-১৯ বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের বেশ কয়েকটি হটলাইন নম্বর রয়েছে। আইইডিসিআরের ১৭টি। কিন্তু এই নম্বরগুলোয় আইভিআর যুক্ত না থাকায় অনেকেরই যোগাযোগ করতে অসুবিধা হচ্ছিল। সে জন্য করোনা ভাইরাস বিষয়ে আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ই-মেইল ও ফেসবুকের মাধ্যমে।
করোনা ভাইরাস বিষয়ে যোগাযোগ করতে আইইডিসিআরের ফেসবুক পেজ-ওবফপৎ, ঈঙঠওউ১৯ ঈড়হঃৎড়ষ জড়ড়স, এছাড়া
ই-মেইল ঠিকানা-রবফপৎপড়ারফ১৯ @মসধরষ.পড়স
আইইডিসিআর আরও একটি হটলাইন নম্বর চালু করেছে: ০১৯৪৪৩৩৩২২২।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, আইইডিসিআরের হটলাইন ছাড়াও করোনা বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টার ৬২৬৩, ১৬২৬৩ ও ৩৩৩-এ যোগাযোগ করা যাবে।