সাহিত্য

কান কাটা মইন্না পাগলা

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
প্রায় সাড়ে ৬ ফুট লম্বা মনু মিয়াকে সবাই ডাকত কান কাটা মইন্না পাগলা। তার ডান কানের অর্ধেকটা ছিল কাটা। জন্মগত কাটা নয়, যৌবন বয়সে দূরন্ত আরেক যুবক ঘাস কাটার কাঁচি দিয়ে মনু মিয়ার কান কেটে দিয়েছিল। কেন কান কেটেছিল তা যে কেটেছিল এবং যার কেটেছিল Ñ কেউই সে রহস্য উন্মোচন করেনি। তবে যার সঙ্গেই দেখা হতো তাকেই মনু মিয়া বলতো, ‘আহামইদ্দার পুতে আমার কানডা কাইট্টা দিছে।’
জনশ্রুতি আছে, ব্রিটিশ পিরিয়ডের শেষ দিকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বাইরে মনু মিয়ার নগদ টাকাই নাকি ছিল এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার। দুই লাখপতি হওয়ার জন্য যখন মাত্র হাজার পাঁচেক বাকি তখনই ঘটে ঘটনা। মনু মিয়া পাঁচ হাজার পূরণের জন্য সে সময় লুঙ্গির টেঁকে টাকা জমাতেন। উদ্দেশ্য, উদ্দিষ্ট টাকাটা জমলেই নিজেকে দুই লাখপতি ঘোষণা করবেন।
কাটা কান ব্যান্ডেজ করার জন্য মনু মিয়া যখন সদর হাসপাতালে, তখনই চারদিকে রটে যায়, মনু মিয়ার টেঁকের টাকা নিতে না পেরে তার কানটাই কেটে নিয়েছে আহামইদ্দার পুতে। আরো রটে যায়, মনু মিয়ার যে সম্পদ তার বিন্দু পরিমাণ খরচ করলেই চৌদ্দ শিকের ভেতরে সারা জীবন কাটাতে হবে আহামইদ্দার পুতেরে। টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে কান ছিনতাইÑ খবর আছে আহামইদ্দার পুতের।
কিন্তু আহামইদ্দার পুত নিস্পৃহ। সে মনু মিয়ার কাটা কান উঁচিয়ে খানিকটা উল্লাস করে। একরাশ ঘৃণাভরে কাটা কানটিতে একদলা থুতু নিক্ষেপ করে দিঘীতে ছুড়ে ফেলে। গরুর জন্য কাটা ঘাস সেই দিঘীতেই যতœ করে ধোয়। নিজে গোসল সেরে দিঘী সংলগ্ন মসজিদে যোহর আদায় করে বাড়ি ফেরে।
বাড়িতে তখন সবার মুখ পাংশুবর্ণ। পুত্রের ভবিষ্যৎ শঙ্কায় আহামদ ও তার স্ত্রী শঙ্কিত। মনু মিয়া হাসপাতালে থাকায় সমস্ত ভিড় আহামদের বাড়ির উঠানে। কান কাটা মানুষ দেখার চেয়ে কান কেটে নেয়া মানুষটিকে দেখার আগ্রহ যেন সবার বেশি।
ফিসফাসকে পাত্তা না দিয়ে আহামইদ্দার পুতে পাটি বিছিয়ে ভাত খেতে বসে। তখনো সে বিয়ে করেনি। মা ভাত এগিয়ে দেয়। আরাম করে ভাত খায়। খাওয়া শেষে পান মুখে দিয়ে পাঞ্জাবি গায়ে চড়িয়ে যখন কাজকর্মের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়, তখনই হুঙ্কার শোনা যায় আহামদের:
হারামজাদা, গু-া কোথাকার, মনু মিয়ার কান কাটতে যাস! কামে যাইয়া কাম নাই, পলা। মনু মিয়া তোরে ছাড়ত না।
আব্বা, মনু মিয়া কিছুই করবো না। নিশ্চিন্ত থাকেন।
চুপ, কথা ক’বি না। আমারে জ্ঞান দেয়। মনু মিয়া তোর পাছা দিয়া আইক্কাঅলা বাঁশ ঢুকাইব। তুই আর বাড়িত আবি না। আইলে আমিই তোরে জুতাপেটা করমু।
এ কথার কোনো উত্তর দেয় না আহামইদ্দার পুতে। শুধু মাকে বলে, মা আব্বারে সামলাও। কাজে যাই, পাঁচটার সময় ফিরব।
সেদিন সাড়ে পাঁচটার সময় ঠিকই বাড়ি ফিরে এসেছিল আহামইদ্দার পুতে। তার আগেই হাসপাতাল থেকে ফিরে এসেছিল মনু মিয়া। তিনি কোনো থানা-পুলিশ করেননি। কোনো উচ্চবাচ্যও না। শুধু মনু মিয়ার আত্মীয়রা বলতে থাকেন, টাকা ছিনতাইয়ের জন্য একজন পাগলের কান কেটে নিয়েছে আহামইদ্দার পুতে। বদমাইশ!
আত্মীয়দের পরিবেশিত তথ্যটি মিথ্যা ছিল। আহামইদ্দার পুতে যখন মনু মিয়ার কানটি কেটে নিয়েছিল, তখন তিনি পাগল ছিলেন না। বড়জোর বলা যায় মাথা গরম ছিল এবং মাথা গরম হওয়ারও অন্য কারণ ছিল। তবে এটা ঠিক, কানটি কাটা না গেলেও মনু মিয়া পাগল হওয়ার দিকেই যাচ্ছিলেন। কান কাটার কারণে আত্মীয়রা একটি উপলক্ষ পেয়ে যায়। সব দোষ নিয়ে ফেলে আহামইদ্দার পুতের ঘাড়ে। মনু মিয়ার আচার-আচরণও অবশ্য এতে ভূমিকা রাখে।
আহামইদ্দার পুতে আমার কানটা কাইট্টা দিছে। সেই সঙ্গে যোগ হয় ‘একটা ডিম, তিনটা রোটা, এক কাপ চা’। এই দুই বাক্য ছাড়া মনু মিয়ার ধ্যান-জ্ঞান হয়ে ওঠে টাকার হিসাব রাখা। পোলাপানের দল পিছু নেয় তার। তাকে দেখলেই তারস্বরে চেঁচাতে থাকে ‘কান কাটা মইন্না পাগলা, এক কাপ চা, তিনটা রোটা’।
মনু মিয়া পোলাপানের দলকে দৌড়ানি দেয়। খিস্তি-খেউড় ছাড়ে এবং অবধারিতভাবে লুঙ্গি উঁচিয়ে পোলাপানের উদ্দেশে তার নতজানু শিশ্ন প্রদর্শন করে।
মনু মিয়া যখন এসব কা- করে, তখন পোলাপানের দলকে নিবৃত্ত করতে একমাত্র এগিয়ে আসেন তার একমাত্র ভাগ্নি ও তার ছেলেরা। মামার জন্য অন্তপ্রাণ ভাগ্নি। এর অবশ্য কারণও আছে। মনু মিয়া পাগল হয়ে যাওয়ায় তার সমস্ত সম্পত্তি এখন ভাগ্নির ছেলেদের দখলে। চিরকুমার মনু মিয়ার সম্পত্তি নেড়েচেড়েই তার ভাগ্নির ঘরের নাতিরা একেকজন কোটিপতি।
যে পোলাপানের দল মনু মিয়াকে ক্ষেপায়, সে দলে আহামইদ্দার পুতের পুত সরফুদ্দিনও আছে। সে দলে থাকে ঠিকই, কিন্তু পাগল ক্ষেপানোর কাজে কোনো সময়ই অংশ নেয় না। কারণ মনু মিয়ার কানটি কেটে তার বাপই যে তাকে মইন্না পাগলা বানিয়েছে, এজন্য সরফুদ্দিনকে অনেকের অনেক কথা শুনতে হয়। তার বাপ গু-া, কিন্তু কোনো গু-ামি সরফুদ্দিন দেখেনি। মনু মিয়ার কান কাটা ছাড়া তার বাপকে কারো সঙ্গে উঁচু গলায়ও কথা বলতে সে দেখেনি। তার মনে নানা প্রশ্ন জাগে, কেন মনু মিয়ার কান কেটে দিয়েছিল তার বাবা। টাকা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য? টাকা তো আরো অনেকেরই আছে, কই আর কারো টাকা তো বাবা ছিনিয়ে নিতে যায়নি!
মনু মিয়ার যখন থেকে মাথা গরম হতে শুরু করে, তখন তিনি ছাব্বিশ বছরের টগবগে যুবক। ব্রিটিশ তখন যাই-যাই করছে। ব্রিটিশরাজের তাবেদারি আর পাটের কারবার করে মনু মিয়ার পিতা তখন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। সব সম্পদের উত্তরাধিকারী একমাত্র পুত্র মনু মিয়া। তিনি তখন সুদর্শন যুবক। মনু মিয়া যখন ঘোড়ায় চড়ে পিতার গড়া লেজার্স কোম্পানিতে যেতেন, চারিদিকে সাড়া পড়ে যেত। ব্রিটিশদের মতোই সাহেবি পোশাক পরতেন মনু মিয়া। তার জন্য সুগন্ধি আসতো প্যারিস থেকে, জুতা ইতালি থেকে। লন্ডন থেকে আসতো পোশাক। লন্ডন থেকে মনু মিয়ার জন্য পোশাকের পাশাপাশি এসেছিল এক ব্রিটিশ তন্বী সুন্দরীও।
ব্রিটিশ সুন্দরী মনু মিয়ার প্রেমে পড়েছিল, না মনু মিয়া সে সুন্দরীর প্রেমে তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে তাদের প্রেম ছিল আলোচিত। এক ব্রিটিশ কর্মকর্তার শ্যালিকা ছিল মার্গারেট। ব্রিটিশদের ঘরোয়া পার্টিতে নিয়মিত দাওয়াত পেত মনু মিয়া ও তার বাপ। তেমনি এক পার্টিতে মার্গারেটের সঙ্গে পরিচয় হয় মনু মিয়ার। তারপর প্রেম।
মার্গারেট-মনু মিয়া প্রণয়ে বাধা হয়ে দাঁড়ান মনু মিয়ার মা। তিনি কিছুতেই তার একমাত্র পুত্রের জন্য ইহুদি বউ ঘরে আনবেন না। সম্পদ আহরণ নিরবচ্ছিন্ন করতে মনু মিয়ার পিতার যদিও ইহুদি বউ ঘরে আনতে আপত্তি ছিল না, কিন্তু স্ত্রীর কান্নাকাটিতে তিনিও শেষে বেঁকে বসেন। মনু মিয়ার জন্য জমিদার শ্রেণির বাঙালি পাত্রী খুঁজতে থাকেন।
কিন্তু মনু মিয়ার এক কথা, তিনি মার্গারেটকেই বিয়ে করবেন। মনু মিয়ার বাপ ছেলেকে ত্যাজ্য করার হুমকি দেন। এতে মনু মিয়া আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। সিদ্ধান্ত নেন, পিতা-মাতার অসম্মতিতেই মার্গারেটকে বিয়ে করে ঘরে তুলবেন।
সিদ্ধান্ত যখন পাকা, তখন দুইটি ঘটনা ঘটে। উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশরাজের বিদায়ঘণ্টা বেজে ওঠে। মার্গারেটকে ফিরে যেতে হয় ব্রিটেনে। মার্গারেট ফিরে যাওয়ার আগেই অবশ্য মনু মিয়াকে মুক্ত করে দিয়ে যান তার পিতা-মাতা। কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক দিনের ব্যবধানে পরপারে পাড়ি দেন তারা।
মার্গারেট চলে গেলে মনু মিয়ার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে তার মৃত পিতা-মাতার ওপর। তারা জীবিতাবস্থায় বিয়ের অনুমতি দিলে মার্গারেটকে ব্রিটেনে ফিরে যেতে হতো না Ñ এই ছিল মনু মিয়ার ধারণা। মার্গারেটকে হারিয়ে মনু মিয়া উচ্চকণ্ঠে মৃত পিতা-মাতাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। একদিন গালিগালাজ তুঙ্গে ওঠে। ব্রিটিশ স্যুট-টাই আর ইতালিয়ান জুতা পরে মনু মিয়া গিয়ে দাঁড়ান পিতা-মাতার কবরে। আত্মীয়-স্বজনরা উত্তেজিত মনু মিয়ার পিছু নেন। সবার সামনেই মনু মিয়া এক দুর্বিনীত কা- করে বসেন। প্যান্টে জিপার খুলে পিতা-মাতার কবরের উপরে দাঁড়িয়ে ছড়ছড় করে প্রস্রাব করতে থাকেন।
মনু মিয়ার মাথা গরমের শুরু তখন থেকেই। মা-বাবাকে গালিগালাজের পাশাপাশি তিনি বিড়বিড় করে কথা বলতে থাকেন। যখন যা খান, নতুন কিছু না খাওয়া পর্যন্ত তার হিসাব রাখতে থাকেন। টাকা-পয়সার হিসাবও চলতে থাকে। সতেরশ তেতাল্লিশ। মন্নান পাডারির কাছে পাওনা দুইশ তেইশ। মোট ঊনিশশ ছেষট্টি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি টেঁকের টাকার হিসাব এভাবেই করে গেছেন। এই টেঁকের টাকার জন্যই মাথা গরমের কয়েক মাস পর আহামইদ্দার পুতে কচ করে মনু মিয়ার কানটি কেটে নেয়।
সবাই বিশ্বাস করলেও আহামইদ্দার পুতের পুত সরফুদ্দিন কিছুতেই বিশ্বাস করতে চায় না, তার বাপ শুধু টাকার জন্য মনু মিয়ার কানটি কেটে দিয়েছে। মেট্রিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার মাসখানেক আগে সরফুদ্দিন তার বাবার কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিল। তার বাবা গম্ভীর স্বরে বলেছিলেন, মনু মিয়ার কান আমি কাটছি, এটা সত্য। তবে কেন কাটছি, তা এখন বলবো না। কারণ, মনু মিয়া এখনো জীবীত। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার জীবদ্দশায় তার কান কাটার কারণ কাউকে বলবো না। মনু মিয়ার মৃত্যুর পর যদি আমি জীবিত থাকি, তাহলে অবশ্যই তোমাকে বলবো। আর যদি তার আগেই আমি মরে যাই, তাহলে বিশ্বাস রেখো, টাকা ছিনিয়ে নেয়ার জন্য আমি মনু মিয়ার কান কাটিনি।
সরফুদ্দিন এই প্রশ্ন আর কোনোদিন তার বাবাকে করেনি। এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। সরফুদ্দিনের বাবা এখন অশীতিপর বৃদ্ধ। মনু মিয়া মারা গেছেন অনেক আগেই। সরফুদ্দিন ও তার বাবা মনু মিয়ার জানাজায় অংশ নিয়েছিল। অবাক করা বিষয় হলো, মনু মিয়ার লাশ গোসল দিয়েছিল তার বাবা। সামান্য দূরে অনেকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল সরফুদ্দিন। সে অবাক হয়ে দেখেছে, কী পরম মমতায় তার বাবা মনু মিয়ার কাটা কানটি সাবান ডলে পরিষ্কার করে দিচ্ছেন।
সরফুদ্দিন এখন দুই ছেলের বাপ। তার বাপ বয়সের ভারে আরো ন্যূব্জ হয়েছেন। তার কথাবার্তা ক্রমেই জড়িয়ে যাচ্ছে। সরফুদ্দিন আশায় থাকেন, তার বৃদ্ধ বাবা মনু মিয়ার কান কাটার গল্পটি বলবেন। পিতা মেট্রিক পরীক্ষার আগে তাকে বলেছিলেন, মনু মিয়ার মৃত্যুর পর তিনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই ঘটনা বলে যাবেন। মনু মিয়ার মৃত্যু হয়েছে বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু সরফুদ্দিনের বাবার সময় হয়নি মনু মিয়ার কান কাটার গল্প বলার।
একদিন সরফুদ্দিন তার বাবার বুকে তেল মালিশ করে দিচ্ছিল। লম্বা হয়ে শুয়ে আছেন তার বাবা। নিঃশ্বাস ফেলছেন ঘন-ঘন। হঠাৎ তিনি চোখ খুলে পুত্রের দিকে তাকালেন। বললেন, মনু মিয়ার কান কেন কেটেছি, সে ঘটনাটি বলবো। এই ঘটনার কথা তুমি কাউকেই বলবা না, তোমার মাকেও না। তুমি চলে যাওয়ার আগে তোমার পুত্রদের বলে যেও। কারণ, তাদেরও জানার অধিকার আছে, তাদের দাদা কেন একজন মানুষের কান কেটে দিয়েছিল।
সেদিন ছিল সোমবার। কাছারি ঘরের পাশে আমি গরুর জন্য ঘাস কাটছিলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম গোঙানির শব্দ। কান খাড়া করে বুঝলাম, শব্দটা কাছারি ঘর থেকেই আসছে। কাছারি ঘরের ছিল দুই দরজা। দুইটাই বন্ধ। পেছনের দরজায় জোরে লাথি মারলাম। ভেঙে গেল। ভেতরে ঢুকে দেখি, একটা বারো-তোরো বছরের প্রতিবন্ধী ছেলের উপর উপগত হয়ে আছে মনু মিয়া। ছেলেটি গোঙাচ্ছে। ছাড়া পাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। মনু মিয়ার এই বদভ্যাসের কথা আগেও আমার কানে এসেছিল। মা-বাবার কবরে প্রস্রাব করার পর থেকেই এই দুষ্কর্ম শুরু হয় তার। বারো-চৌদ্দ বছরের কোনো ছেলেই তার হাত থেকে রেহাই পায়নি। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি, হাতেনাতে ধরতে পারলে…।
মনু মিয়ার এই কা- দেখে মাথায় রক্ত উঠে গেল। নিজেকে সামলাতে পারিনি। হাতে ছিল ঘাস কাটার কাঁচি। তা দিয়ে কেটে দিলাম মনু মিয়ার কান। বলৎকারের শাস্তি আমি তাকে দিয়েছি। আল্লাহ এই কাজটিকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করেন। আমি মনে করি, আমার হাত দিয়ে তিনি নিজেই এ কাজটি করেছিলেন। ফলে কখনোই আমার মধ্যে এ বিষয়ে কোনো অনুশোচনা কাজ করেনি। আজও আমি অনুতপ্ত নই।