কলাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. মেহেদী মাসুদ
বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
আপনাকে ধন্যবাদ।
বহু বছরের পুঞ্জীভূত আকাক্সক্ষাকে হাসিমুখে ত্যাগ করেছেন কেবলমাত্র বাংলাদেশের কোটি মানুষের কথা চিন্তা করে। যেই মহানুভবতার পরিচয় আপনি দিয়েছেন তা জাতি নিশ্চয়ই শ্রদ্ধাভরে চিরদিন মনে রাখবে।
বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত হতে পারেনি। ইতোমধ্যে ২২ মার্চ পর্যন্ত ২৭ জন ব্যক্তির মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং ৩ জন মারা গেছেন।
১৭ মার্চ মহা ধূমধামের মধ্য দিয়ে জাতি স্মরণ করতে চেয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে। সেই লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল পুরো জাতি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচি এমনভাবে উদযাপিত হবে যাতে করোনা ভাইরাসের কারণে জনগণ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে না পড়ে। তাই জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেগা কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এককথায় দারুণ একটি সিদ্ধান্ত। প্রশংসা করার মতো একটি সিদ্ধান্ত আপনি দিয়েছেন জনগণের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে। মানুষের জীবনের চেয়ে তো আর উৎসব বড় হতে পারে না Ñ তা আপনার এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। আপনাকে স্যালুট।
সর্বক্ষেত্রেই আপনার এই ধরনের সিদ্ধান্ত থাকবে এটাই আশা করছি। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশ গঠনে সকলকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাবেন এটাই প্রত্যাশা। আমার বিশ্বাস, এই মনমানসিকতা আপনার রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে যে অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল তা দিয়ে প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা যাবে, যা মানবকল্যাণে হবে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আপনি উঠে যাবেন অনন্য এক উচ্চতায়। আপনার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কঠোরভাবে নির্দেশনা প্রদান করুন, যাতে যে যার মতো করে অন্তত নিজ নিজ দায়িত্বটুকু এসময়ে সঠিকভাবে পালন করে। তাহলেই প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমরা অনেকাংশে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ। সেই সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের দিকেও একটু নজর বাড়াতে হবে তারা যাতে বেশি মুনাফার জন্য অন্যায় সিদ্ধান্ত না নিতে পারে।
সকলের উচিৎ আপনাকে এর জন্য ধন্যবাদ প্রদান করা। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেলাম এই কর্মসূচি বাতিলের জন্য অনেকে খুব পুলকিত হয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্বাধীনতাবিরোধী কতিপয় সাংবাদিকও তাদের মনের নোংরা ভাব প্রকাশ করেছেন বিভিন্নভাবে, যা সত্যি দুঃখজনক। তবে কিছু লোক তো থাকবেই বিনা কারণে নেতিবাচক ও উস্কানিমূলক কথা বলার জন্য। এতে আপনার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই পাল্টাবেন না আশা রাখছি।
গত ৯ মার্চ সন্ধ্যায় গণভবনে আপনি বলেছেন, ‘প্রাণঘাতী ভাইরাস যেহেতু বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, কাজেই জনগণের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যের প্রতি মনোনিবেশ করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। সে কারণেই আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কর্মসূচি পুনরায় সাজিয়েছি।’
আপনি আরো বলেছেন, ‘আমরা চাই জনগণ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করেই আমরা কর্মসূচি (জন্মশতবর্ষ উদযাপন) নতুন করে সাজিয়েছি, যদিও এটা আমাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক ছিল।’
আপনার মনের ভাষা আমরা বুঝতে পেরেছি বলেই আপনাকে অনেকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারো উস্কানিমূলক কথা এবং প্ররোচনা যাতে আপনার এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেই দিকে দয়া করে একটু নজর দেবেন Ñ এটাই কায়মনে প্রত্যাশা রাখি।
লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও গবেষক