ফিচার

সৌন্দর্য ধরে রাখতে যেসব খাবার খাবেন

আফরোজা সুলতানা
কেবল ত্বকের যতœ নিলেই কি সৌন্দর্য ধরে রাখা যায়? সৌন্দর্য রক্ষা পায় দেহের ভেতর থেকে। আর রূপ ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। বেশিরভাগ মানুষ পুষ্টিকর খাবারের দিকে নজর না দিয়ে মেকআপকে গুরুত্ব দিয়ে রূপচর্চা করতে চান। বিষয়টি ভুল। আপনার শরীর যদি সতেজ না থাকে, তাহলে যতই মেকআপ নিন, চেহারায় সতেজতা আসবে না।
আবার কোন খাবার কোন সময়ে খাবেন, কতটুকু খাবেন তার ওপরও নির্ভর করে রূপÑলাবণ্যের বিষয়টি। ডায়েট কন্ট্রোল বা জিরো ফিগারের জন্য অনেকে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ এড়িয়ে চলতে চান। এতে হিতে বিপরীত হয় অনেক সময়। দেখা যায়, জিরো ফিগার পাওয়া গেছে ঠিকই, কিন্তু চেহারায় রূপ-লাবণ্যের কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই খাবার খেতে হবে হিসেব করে নয়, নিয়ম মেনে। চলুন জেনে নেয়া যাক, কোন কোন খাবার গ্রহণে সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব।

পানি
ত্বক ভালো রাখতে হলে নিয়মিত বেশি করে পানি পান করতে হবে। কারণ, পানি ইলেকট্রোলাইটের সমতা রক্ষা করে। নিয়মিত পানি পানে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। ফলে ত্বক ভালো থাকে। এছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধেও চিকিৎসকরা প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন।

টক দই
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে টক দইয়ের কার্যকারিতা অনেক বেশি। নিয়মিত সালাদের সাথে টক দই খেতে পারেন। এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-বি ২ ও বি-১২ এবং মিনারেলস আছে।

গ্রিন টি
গ্রিন টি সতেজতা এনে দেয় এবং চোখের ক্লান্ত ভাব দূর করে। এতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ত্বকের লাবণ্য বাড়ায় গ্রিন টি।

কাঠবাদাম
কাঠবাদামে ওমেগা ৩ ও ৬, ভিটামিন-ই ও বায়োটিন আছে। নিয়মিত সকালে কাঠবাদাম খেলে ত্বকের সৌন্দর্য বজায় থাকে।

সালাদ
টমেটো ও শসার সালাদ ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিনস, মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা তারুণ্য বজায় রাখে।

অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েলে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন-ই, যা সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রহণ করলে ত্বক সুন্দর থাকে এবং চুলপড়া বন্ধ হয়।

শাকসবজি
যেকোনো শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে। বিশেষ করে রঙিন শাকসবজিতে বিটা ক্যারোটিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যেমন- গাজর, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া। সবুজ শাকসবজিতে থাকে ক্লোরোফিল নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেমন- বরবটি, শিম। এগুলো ত্বকের লাবণ্য বাড়িয়ে দেয় এবং তারুণ্য বজায় রাখে।
ফলমূল
যেকোনো ফল-মূল ত্বকের জন্য ভালো। যেমন- মালটা, পাকা পেঁপে, কলা, আমলকি ইত্যাদি। টকজাতীয় ফলে ভিটামিন-সি আছে, যা ত্বকের কালো দাগ, ব্রন ও বলিরেখা সারিয়ে দেয়।

ডিম
ডিম সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এতে বায়োটিন, ভিটামিন এ, ডি ও ই আছে, যা ত্বকের কোমলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চুলের বৃদ্ধি ঘটায়।

কাঁচা হলুদ
কাঁচা হলুদ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। দুধের সাথে কাঁচা হলুদ নিয়মিত সপ্তাহে দুই-তিন দিন পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।

চিরতা
বনাজি ওষুধের দোকানে পাওয়া যায় চিরতা। কিনে এনে বিশুদ্ধ পানিতে পরিষ্কার করে এক জগ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন চিরতা। সকালে খালি পেটে এক মগ পানি খেয়ে ফেলুন। তেতো লাগলেও এতে সারা দিন শরীর ঝরঝরে মনে হবে। ত্বকও থাকবে ফ্রেশ।
এছাড়াও কিছু খাবার আছে যেগুলো ত্বক নষ্ট করে যেমন- দুধ চা, অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মশলাজাতীয় খাবার, চিনিজাতীয় খাবার, লাল মাংস, অতিরিক্ত ঘি, ফুটপাতের খাবার, অতিরিক্ত কোল্ড ড্রিংকস ইত্যাদি। এসব খাবার পরিহার করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খান। দেখবেন আপনার ত্বক হয়ে উঠবে লাবণ্যময়। লাবণ্য বাড়ানোর জন্য আপনাকে বাড়তি মেকআপ নিতে হবে না, যদি আপনি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করেন।