কলাম

‘হাত ধুলে বাঁচবে জীবন’ বলেছিলেন যিনি

আরফাতুন নাবিলা
ফ্লু ও ভাইরাস দূর করার সবচেয়ে ভালো উপায় হাত ধোয়া। করোনার মতো কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের সব মানুষকে নিয়মিত হাত ধোয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হাত পরিষ্কার সুস্থতার পরিচায়ক Ñ এ বিষয়টি প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন ইগনাজ সেমেলওয়েজ নামের হাঙ্গেরিয়ান এক চিকিৎসক। এ জন্য তিনি অনেক প্রচারও চালিয়েছেন। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি এর স্বীকৃতি তো পানইনি, উল্টো তাকে কুড়াতে হয়েছিল অনেক অপবাদ।

মরণঘর
করোনা ভাইরাসের কাছে পুরো বিশ্ব এখন একরকম জিম্মি। মৃত্যুহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সচেতন হয়ে উঠছে সবাই। নানা ধরনের জীবাণু, ফ্লু, ভাইরাস নিয়ে এখন মানুষ অনেক সচেতন। চিকিৎসকরা সাধারণ জনগণকে সাবধান করার পাশাপাশি নিজেরাও অপারেশন বা শবদেহ ব্যবচ্ছেদ করার সময়, রোগী দেখার সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করেন। এই সচেতনতা আগে ছিল না।
ঊনিশ শতকের দিকে সচেতনতা তো অনেক দূরের কথা, জীবাণু সম্পর্কে মানুষের সাধারণ ধারণাও ছিল না। হাসপাতালকে তখন মনে করা হতো ‘মরণঘর’। কারণ, রোগী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে এলে প্রায় সময়ই মারা যেতেন। বাড়ির চেয়ে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসার ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ছিল ৩ থেকে ৫ গুণ বেশি। এজন্য যতটুকু সম্ভব, বাড়িতেই নানা রোগের সমাধান খুঁজত তারা, আর চেষ্টা করত হাসপাতালকে এড়িয়ে চলতে।
সেই শতকে হাসপাতালগুলো ছিল সংক্রমণের মূল কেন্দ্রস্থল। হাসপাতালের পরিবেশ ছিল উৎকট। মানুষের শরীর থেকে নির্গত নানা তরল পদার্থ, বমি আর প্রস্রাব Ñ সব মিলিয়ে বাজে পরিবেশ তৈরি হতো। কর্মী ও চিকিৎসকদের নাকে-মুখে কাপড় বা রুমাল পরে চলাফেরা করতে হতো। অপারেশন বা শবদেহ ব্যবচ্ছেদ শেষে কখনোই কোনো উপকরণ ভালো করে ধোয়া হতো না।
চিকিৎসকরা নিজেরাও যেমন নোংরা আর অপরিষ্কার থাকতেন, অপারেশন আর ময়নাতদন্তের কক্ষগুলোও ছিল একই ধরনের নোংরা। এক লাশ সরানোর পর নতুন লাশ আসার আগে কখনোই সেগুলো পরিষ্কার করা হতো না। নোংরা থাকলে যে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে, সে বিষয়ে কেউ কখনো ভাবেনি। মৃত্যু তখন ছিল খুব সাধারণ একটি ঘটনা।

মৃত্যুকে যখন ডেকে আনা হতো
১৮৪০ থেকে ১৮৪৬ সালের দিকে মাতৃমৃত্যুর হার ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল। ধাত্রীদের হাতে বাচ্চা প্রসব করালে যেখানে মৃত্যুর হার হতো ১০০০-এ ৩৬ জন, সেখানে চিকিৎসকের হাতে মৃত্যু হতো ১০০০-এর মধ্যে ৯৮ জনের। বিশেষ করে, হাসপাতালে শিশুর জন্মদানের পর মায়েরা পিউপেরাল জ্বরে ভুগতেন। আর তাতেই মৃত্যু হতো বেশির ভাগ মায়ের। এই জ্বরটি বর্তমানে ‘স্ট্রেপটোকোকাল ইনফেকশন’ নামে পরিচিত।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিভাগে প্রায়ই একজন যাজক আসা-যাওয়া করতেন। কোনো নারী মৃত্যুশয্যায় গেলে তিনি হাসপাতালে একটি ঘণ্টা বাজাতেন। এর অর্থ ছিল, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ওই নারী মারা যাচ্ছেন। সবাই এই শব্দে সচকিত হয়ে পড়ত।
ব্যাপারটি এমন ছিল যে, কষ্ট সহ্য করে কোনো নারী যদি মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে এসে এই ঘণ্টার আওয়াজ শুনতেন, তবে তিনি শারীরিক কষ্টে নয়, মারা যেতেন মানসিক যন্ত্রণায়।
নারীদের এমন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে সবাই স্বাভাবিক চোখে দেখলেও বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না ভিয়েনা হাসপাতালের চিকিৎসক ইগনাজ সেমেলওয়েজ। তার হাসপাতাল থেকে ঘণ্টা বাজানোর এই পদ্ধতিটি তিনি বাতিল করে দেন। ভেবেছিলেন, এবার হয়তো মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে, মৃত্যুভয় কাটিয়ে নারীরা কিছুটা সুস্থির হবে। তবে তার ধারণা সঠিক ছিল না। এ কাজে মৃত্যুহার কমলো না, বরং আগের চেয়ে যেন কিছুটা বেড়ে গেল।

হাত ধোয়া যেভাবে
পরিচিতি পেল
ইগনাজ সেমেলওয়েজ নামে হাঙ্গেরিয়ান এই চিকিৎসক ১৮৪৪ থেকে ১৮৪৮ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন ভিয়েনা জেনারেল হাসপাতালে। এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম বড় হাসপাতাল। এর মাতৃভবন এত বড় ছিল যে, এটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। এক ভাগ ছিল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের জন্য, অন্যভাগ ছিল ধাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত এবং তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য। হাসপাতাল এত বড় হলেও চিকিৎসাপদ্ধতির কোন বিষয়ের কমতির কারণে নারীদের মৃত্যু হচ্ছে, সেটি বুঝতে পারছিল না কেউই।
১৮৪৭ সালে সেমেলওয়েজ তার সহকর্মী জ্যাকব কলেসকার মৃত্যুতে মুষড়ে পড়েন। এক রোগীকে অপারেশনের সময় ছুরিতে হাতের একটি আঙুল কেটে গেলে সেখান থেকে ইনফেকশন হয়ে মৃত্যু হয় কলেসকার। সেমেলওয়েজ ধারণা করেন, এমন কোনো ইনফেকশনের কারণেই হয়তো নারীদের বিভাগে অসুস্থতা বাড়ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুসংখ্যা।
হাসপাতালের একটি অংশে, যেখানে নারী বিভাগে ধাত্রীদের হাতে সন্তান জন্ম দেয়া হতো, সেখানে অপারেশনের প্রয়োজন হলে পুরুষ চিকিৎসকরা যেতেন। জীবাণুর কোনো ধারণা না থাকা সত্ত্বেও সেমেলওয়েজ বুঝতে পারলেন, কলেসকার শরীরে জখম থেকে এমন কিছু তৈরি হয়েছিল, যার কারণে সে মারা গেছে। তাহলে নারীদের বিভাগে চিকিৎসকরা যখন যান তখন তাদের শরীর থেকেই হয়তো অপারেশনের সময় নারীদের শরীরে কোনোভাবে মারা যাওয়ার উপকরণটি প্রবেশ করে। ঠিক কী কারণে এমন হচ্ছে, তা না বুঝলেও তিনি যা ধারণা করেছিলেন, সেটি ভুল ছিল না।
প্রসূতি বিভাগে শবদেহ ব্যবচ্ছেদের বিষয়টি ছিল না। এখান থেকেই যে জীবাণুর সংক্রমণ হচ্ছে, এ বিষয়টি সেমেলওয়েজ বুঝতে পারলেও হাসপাতালগুলোর অপরিচ্ছন্নতা দূর করা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। মানুষকে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রসূতি বিশেষজ্ঞ জেমস ওয়াই সিম্পসন (মানবদেহের ওপর ক্লোরোফর্মের চেতনানাশক প্রভাবের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা প্রথম ব্যক্তি) বলেছিলেন, যদি অপরিচ্ছন্নতা বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে হাসপাতালগুলো একে একে ভেঙে নতুন করে গড়তে হবে।
তবে সেমেলওয়েজ এত কঠিন পদক্ষেপের পক্ষপাতী ছিলেন না। তিনি শুধু গুরুত্ব দিলেন ভালো করে হাত ধোয়ার ওপর। মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের পর সেখানে ব্যবহৃত উপকরণ থেকে পিউপেরাল জ্বরের ঘটনা ঘটছে, এমনটি বোঝার পর তিনি হাসপাতালে ক্লোরিনের সাহায্যে হাত ধোয়া ও উপকরণ জীবাণুমুক্ত করার জন্য আলাদা বেসিন চালু করেন। ময়নাতদন্ত কক্ষ থেকে বের হয়ে প্রসবকক্ষে যে চিকিৎসকরা যেতেন, তাদের রোগীদের সেবা দেয়ার আগে অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন ব্যবহার করার নির্দেশনা দেয়া হলো। অবিশ্বাস্যভাবে ১৮৪৮ থেকে ১৮৫৯ সালের মধ্যে প্রসূতি বিভাগে নারী মৃত্যুর হার ১ হাজারে ১২ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসে।

বিতর্ক
জীবাণুর কারণে নারীদের মৃত্যু হচ্ছে এবং হাত ধোয়ার মাধ্যমে সে মৃত্যুহার কমিয়ে আনার বিষয়টি পরীক্ষিত হওয়ার পরও এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। গবেষকদের অনেকেই বলেন, সেমেলওয়েজ তার নিজস্ব পদ্ধতি অন্য হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন। তাদের অপরিচ্ছন্নতার কারণে নারীদের মৃত্যু হচ্ছে Ñ এ সত্যটি চিকিৎসকরা আসলে মানতে পারছিলেন না।
শিশুদের জন্মের পর ‘চাইল্ডবেড ফিভার’ নিয়ে তিনি বইও লিখেছিলেন। তবে সে বই সাড়া জাগাতে পারেনি। জেদি স্বভাবের হওয়ায় নিজের যুক্তি সব সময় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে যারা সমালোচনা করেছিলেন, তাদের প্রতি বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন সেমেলওয়েজ। যে চিকিৎসকরা হাত না ধুয়ে অপারেশন করতেন বা অপারেশন শেষেও ভালো করে হাত পরিষ্কার করতেন না, তাদের তিনি ‘ঘাতক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
বেশ কিছু সময় পার হয়ে যাওয়ার পর ভিয়েনা হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যায় সেমেলওয়েজের। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় তিনি ফিরে যান নিজ দেশ হাঙ্গেরিতে। বুদাপেস্টের একটি হাসপাতালে প্রসূতিবিদ্যা বিভাগে অবৈতনিক পদে যোগ দেন। সেই হাসপাতালের পাশাপাশি কাজ করতে থাকেন ইউনিভার্সিটি অব পেস্টের মেটার্নিটি বিভাগেও। সেখানে পিউপেরাল জ্বর নিয়ে শিক্ষা দিতেন।
কিন্তু তাকে নিয়ে সমালোচনা বন্ধ হলো না। তার প্রবর্তিত পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়ে সহকর্মীদের অনীহা দিন দিন বাড়তে লাগল। এতে সেমেলওয়েজের ক্রোধ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
তার লেখা বই নিয়ে বিদেশি লেখকদের নেতিবাচক মন্তব্য তাকে আরো হতাশায় ডুবিয়ে দিচ্ছিল। এরপর সেমেলওয়েজ ইউরোপের কয়েকজন সুপরিচিত গাইনি বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে খোলা চিঠি লেখা শুরু করেন। তাতে থাকত প্রচুর তিক্ততা, বেপরোয়াভাব ও ক্ষিপ্ততা। চিকিৎসকদের তিনি সরাসরি ‘দায়িত্বহীন খুনি’ বলে অভিহিত করেন। ১৮৬৫ সালের দিকে তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনগণও। এমন অবস্থায় তীব্র হতাশা থেকে অতিরিক্ত মদপানে আসক্ত হয়ে পড়েন সেমেলওয়েজ, দূরত্ব বাড়তে থাকে পরিবারের সঙ্গেও। প্রচ- হতাশায় ভুগতে ভুগতে আলঝেইমার্সে আক্রান্ত হন তিনি।

মৃত্যু
১৮৬১ সালের দিকে তার আচরণে অসঙ্গতি দেখা দেয়। ভুগতে থাকেন নানা ধরনের স্নায়ুর সমস্যায়। ৪ বছর পর সেমেলওয়েজকে লাজারেটগেজের মানসিক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগে সেমেলওয়েজকে জানানো হয়নি। একজন সহকর্মী নতুন মেডিকেল ইনস্টিটিউট দেখানোর নাম করে তাকে নিয়ে যান। সেমেলওয়েজ যতক্ষণে বিষয়টি বুঝতে পারেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কারারক্ষীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনাও ঘটে। পরে কারারক্ষীরা তাকে স্ট্রেট জ্যাকেট (অপরাধী বা মানসিক রোগী যেন অন্যকে আঘাত করতে না পারে সেজন্য বিশেষ এক ধরনের পোশাক) পরিয়ে দেয়। তাকে আটকে রাখা হয় অন্ধকার একটি ঘরে। গরম পানিতে নামিয়ে রাখার মতো অত্যাচারও তাকে সহ্য করতে হয়েছে। একে তো আচরণে অসঙ্গতি, এরপর অন্ধকার ঘরে নানা অত্যাচারের মধ্যে একা জীবন কাটানো Ñ সব মিলিয়ে ভীষণ মুষড়ে পড়েন সেমেলওয়েজ। ডান হাতে তৈরি হয় গ্যাংগ্রিনের ক্ষত। সেই ক্ষত থেকে পুরো শরীরে সংক্রমণ শুরু হয়। এর দুই সপ্তাহ পর ১৮৬৫ সালের ১৩ আগস্ট মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান সেমেলওয়েজ। ১৫ আগস্ট তাকে ভিয়েনায় দাফন করা হয়। মাত্র কয়েকজন মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিল। তার মৃত্যুর খবরটি জানানো হয় শুধু ভিয়েনা ও বুদাপেস্টের হাসপাতালগুলো থেকে প্রকাশিত সাময়িকীতে। হাঙ্গেরিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস এবং ন্যাচারাল সায়েন্টিস্টের পক্ষ থেকে যে সেমেলওয়েজকে সদস্য করা হয়েছিল, মৃত্যুর পর তার কথা সেখান থেকেও প্রকাশ করা হয়নি।
সেমেলওয়েজের মৃত্যুর পর পেস্ট ইউনিভার্সিটির মেটার্নিটি ক্লিনিকে দায়িত্ব পান জ্যানোস ডিয়েশার। এরপর মাতৃমৃত্যুর হার আবার ৬ শতাংশ বেড়ে যায়। কিন্তু তা নিয়ে বুদাপেস্টের কোনো চিকিৎসক কিছু বলেননি, কোনো তদন্ত হয়নি, এমনকি কোনো আন্দোলনও না। মনে হচ্ছিল, ভিয়েনা আর বুদাপেস্টের সবাই যেন নীরবে সেমেলওয়েজের বলা কথাগুলো বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল।

মৃত্যুর পর সম্মান
মানসম্মত ও নিরাপদ থাকার জন্য সেমেলওয়েজ যে পদ্ধতিগুলো আবিষ্কার করেছিলেন, সেগুলোর আরও উন্নতির জন্য দরকার ছিল সুযোগ। কিন্তু আবিষ্কারে সফল হলেও সুযোগের কাছে তিনি হেরে যান। আগে নায়ক হয়ে পরে মৃত্যু Ñ এমনটি স্বাভাবিক হলেও সেমেলওয়েজ আগে মারা গিয়েছিলেন, এরপর হয়েছেন নায়ক। বর্তমানে তার পরিচয় ‘মায়েদের জীবনদানকারী’ হিসেবে। জীবদ্দশায় যে মানুষটি অন্যের কাছে সম্মান পাননি, মৃত্যুর পর তাকে স্মরণীয় রাখতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
সেমেলওয়েজের মৃত্যুর শততম দিবসে হাঙ্গেরি তার স্মরণে একটি ডাকটিকিট বানায়। বুদাপেস্টের যে মেডিকেল স্কুলে তিনি পড়াতেন, তার নাম বর্তমানে সেমেলওয়েজ ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন।
জন্মস্থান বুদাপেস্টে যে বাড়িতে তিনি জন্মেছিলেন, সেটিকে ইগনাজ সেমেলওয়েজের স্মরণে মিউজিয়াম ও লাইব্রেরি বানানো হয়েছে। বর্তমানে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহারের পথিকৃৎও বলা হয় তাকে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় নারীদের জন্য ‘সেমেলওয়েজ ক্লিনিক’ নামে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে অস্ট্রিয়ার ‘কয়েনে’ সেমেলওয়েজের ছবি স্থান পেয়েছে।
লেখক: সাংবাদিক