প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

করোনার কারণে সীমিত পরিসরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত: মুজিববর্ষ শুরু

বিশেষ প্রতিবেদক
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ১৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দিনটিকে দেশব্যাপী ‘জাতীয় শিশু দিবস’ হিসেবে উদযাপন করা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সীমিত পরিসরে উদযাপিত হয়।
একই সঙ্গে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে মুজিববর্ষ শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর দিন থেকে (১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মুজিববর্ষ উদযাপন করা হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ মার্চ ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়।
অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কেক কাটা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত, প্রার্থনা, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা, পুরস্কার বিতরণ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ ইত্যাদি।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মার্চ রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময়ে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল সঙ্গে ছিলেন।
জাতির পিতার প্রতিকৃতির বেদিতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের পর স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেলক হক ও মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়াসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক মোহম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে (পিএমও) কর্মকর্তাবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন।
পরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
এ সময় জাতির পিতার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি উপস্থিত ছিলেন।
একই সঙ্গে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, পুলিশের আইজিপি ড. মুহম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীনসহ আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দ এবং পদস্থ বেসামরিক এবং সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে, রাষ্ট্রপতি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গনে রক্ষিত পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি জাতির জনকের সমাধি প্রাঙ্গণে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান। শেখ রেহানা, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং শেখ হেলাল উদ্দিন এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরে দলের জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের ওপর দিয়ে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলোর লাল-সবুজ আবির ছড়িয়ে মনোজ্ঞ প্রদর্শনী করেছে। হেলিকপ্টারগুলোতে জাতীয় পতাকা এবং মুজিববর্ষের লোগো খচিত ছিল।
পরে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী সমাধি প্রাঙ্গণে মিলাদ এবং দোয়া মাহফিলেও অংশগ্রহণ করেন।
১৭ মার্চ ছিল সরকারি ছুটির দিন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সারাদেশের সকল সরকারি হাসপাতাল রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি আজিমপুরে এতিমখানায় শিশুদের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ মার্চ বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৮টায় তেজগাঁও গির্জায়, সকাল ৯টায় মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও দুপুর ১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বনানী করাইল বস্তিতে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এতিম ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
বাদ আসর রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে
রাষ্ট্রপতিকে পোস্ট কার্ড
দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরিত একটি স্মারক পোস্ট কার্ড পেয়েছেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত একটি শুভেচ্ছা পত্র এবং ‘মুজিব ১০০ বছর’ লোগোসহ পোস্ট কার্ডটি হস্তান্তর করেন।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্টপ্রধান প্রথম জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ‘শুভেচ্ছা পত্র’ পেলেন।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে ৫ কোটি পরিবার সারা দেশে এই কার্ড পাবেন।
রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মুজিববর্ষে উপহারসহ
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা নিদর্শনস্বরূপ অন্যান্য উপলক্ষের মতো এবারও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সারোয়ার-ই-আলম সরকার এবং প্রটোকল অফিসার আবু জাফর রাজু এসব উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ এবং পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় ও উৎসবের দিনে তাদেরকে স্মরণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

মুজিব জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টকার্ড
বিতরণ শুরু
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিন প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টকার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বাণী সম্বলিত এই পোস্টকার্ড হস্তান্তর করেন। এরই মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি পরিবারের প্রধানের হাতে এই পোস্টকার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু হলো।
প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত শুভেচ্ছা বাণী সম্বলিত এই পোস্টকার্ড ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ডাক বিভাগ দেশের ৫ কোটি পরিবারের প্রধানের হাতে পৌঁছে দেবে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন।

দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আজকের অঙ্গীকার: শেখ রেহানা
বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের সকল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশবাসীকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী আজ ১৭ মার্চ। এই দিনে আমরা সকলে মিলে অঙ্গীকার করি- আমাদের যা কিছু আছে, তাই দিয়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব।’
শেখ রেহানা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্তকালে একথা বলেন।
বাবা ‘আজ জীবিত না থাকলেও বাংলার কোটি মানুষের হদয়জুড়েই তিনি রয়েছেন’ উল্লেখ করে শেখ রেহানা বলেন, ‘সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়ব। সোনার বাংলাকে ভালোবাসব। পরশ্রীকাতরতা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখব।’
জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, ‘ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা’র অনুকরণে শেখ রেহানা বলেন, ‘ঘরে ঘরে মুজিবের আদর্শের দুর্গ তৈরি করে তার আলো ছড়িয়ে দিব। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’
তিনি জানান, বাবা বলতেন, ত্যাগ-তিতিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। একটা মানুষ দেশের জন্য, মানুষের জন্য কতখানি ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তা আমরা খুঁজে পাই তাঁরই লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে।
শেখ রেহানা বলেন, জাতির পিতা কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত ও আপোস করেননি এবং লোভ-লালসা ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রেখেছেন। কারণ মানব কল্যাণই ছিল তাঁর ধ্যান-ধারণায় এবং বিশ্বাসে-নিঃশ্বাসে।
তিনি বলেন, ‘এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আসেন। এলেও তাঁরা ক্ষণস্থায়ী হন।’
তাঁর মাতা এবং জাতির পিতার ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতা বেগম মুজিব এবং দাদা-দাদিকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন শেখ রেহানা।
শেখ রেহানা বলেন, ‘আজকের ( ১৭ মার্চ ২০২০) এই দিনে আমরা তাঁর (বঙ্গবন্ধু) আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আমরা সবাই মিলে হাত তুলে দোয়া করি সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।’

শেখ হাসিনাকে মুজিববর্ষের
শুভেচ্ছা জানালেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ভুটানের জনগণ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছেন এবং এক হাজার ‘ঘি’ প্রদীপ জ্বালিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন।
লোটে শেরিং বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্য ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং সে দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী ভুটান ও সেদেশের জনগণের অব্যাহত শান্তি অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এদিকে, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ
মিশনে মুজিববর্ষ উদযাপন
নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশনের চ্যান্সরি ভবনে রক্ষিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধমে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর উৎসব উদযাপিত হয়েছে।
জাতির পিতার সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান দূতাবাসের সহকর্মীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের কর্মসূচির শুরু করেন।
এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়।
পতাকা উত্তোলনের পর দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
বাণীগুলো পাঠ করেন উপ-হাইকমিশনার এটিএম রকিবুল হক, ফরিদ হোসেন (প্রেস মিনিষ্টার), ইকোনমিকস কাউন্সিলর রাশেদুল আমিন ও কাউন্সিলর শফিকুল আলম।
হাই কমিশনার বলেন, ‘আমাদের শিশুরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনকের সম্পর্কে আরো জানতে পারবে। এর ফলে তারা দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।
মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সন্তানরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ওপর চিত্রাঙ্কন, রচনা লেখা ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপস্থাপন এবং সঠিকভাবে জাতীয় পতাকা অঙ্কন করে।

মুজিববর্ষের স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন করেছেন।
১৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি একই কভারে ইংরেজি এবং বাংলা উভয় ভাষায় স্যুভেনিরটি প্রকাশ করেছে।
এ সময় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণিকাটিতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী, বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার একটি কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বৃত্তান্ত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, অক্সফাম-এর সাবেক কর্মকর্তা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসানের নিবন্ধ ও স্মৃতিচারণমূলক লেখা রয়েছে স্যুভেনিরে।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর স্মরণীয় বার্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মরণীয় উদ্ধৃতি, ছয় দফা দাবি, বাঙালির স্বাধীনতার সনদ; স্বাধীনতার ঘোষণা, জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, বঙ্গবন্ধু রচিত বইয়ের ভূমিকা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী জাতীয় কমিটি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের তালিকা স্যুভেনিরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি গভীর রাতে আতশবাজি ও লেজার শো প্রত্যক্ষ করলেন
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনের অংশ হিসাবে ১৭ মার্চ দিনগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত আতশবাজি, ফিক্সেল ম্যাফিং, ভিডিও স্ক্রিন এবং লেজার শো প্রত্যক্ষ
করেন।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং হাতিরঝিলে মুজিববর্ষ উদযাপনের স্পটগুলো পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রপতি প্রথমে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে যান। এখানে ‘মুক্তির মহানায়ক’ শিরোনামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী রাষ্ট্রপতিকে অর্ভ্যথনা জানান।
রাষ্ট্রপতি তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট সচিবগণকে সঙ্গে নিয়ে মুজিববর্ষের লেজার শো ও মুজিববর্ষের থিম সঙ্গীত উপভোগ করেন। এতে বাংলাদেশের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও বঙ্গবন্ধু’র ছোট কন্যা শেখ রেহানা অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি পরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং জাতীয় সংসদের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান।
পরে রাষ্ট্রপতি নগরীর হাতিরঝিলে আতশবাজি, পিক্সেল ম্যাপিং, ভিডিও স্ক্রিনিং এবং লেজার শো উপভোগ করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম এখানে রাষ্ট্রপতিকে অর্ভ্যথনা জানান। রাষ্ট্রপতি সুন্দর ও আধুনিক লেকের দক্ষিণাংশে ডিএনসিসি আয়োজিত চোখ ধাধাঁনো আতশবাজি উপভোগ করেন।
রাষ্ট্রপতির সচিব সম্পদ বড়–য়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল শামিম-উজ-জামান এবং প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন এ সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং অন্যান্য টিভি চ্যানেলে প্রচারিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ‘মুক্তির মহানায়ক’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্ম নেয়ার সময়ে দু’ঘন্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে আতশবাজি ফোটানো শুরু হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শত শিশু জাতির পিতাকে উৎসর্গ করে জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘ধন্য মুজিব ধন্য’ সঙ্গীত পরিবেশন করে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত স্মারক ডাকচিহ্ন প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্র ডাক বিভাগের
যুক্তরাষ্ট্র ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৭ মার্চকে আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু দিবস আখ্যায়িত করে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত একটি বিশেষ সচিত্র ডাকচিহ্ন (পিকটোরিয়াল পোস্ট মার্ক) প্রকাশ
করেছে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আবেদনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চ নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস পোস্ট অফিস থেকে এই স্মারক ডাকচিহ্ন প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা, নিউইয়র্কস্থ কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসাসহ বিশিষ্টজনদের পোস্টাল কার্ড প্রেরণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্মারক ডাকচিহ্ন প্রকাশিত হয়।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটস পোস্ট অফিসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শুরু হয় এই কর্মসূচি।
নিউইর্য়ক কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা ভিডিও ফোন কলের মাধ্যমে নিউইর্য়কের বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস পোস্ট অফিসে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত সীল মোহর প্রকাশের উদ্বোধন করেন।
এসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র পোস্টাল বিভাগ ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনকে এ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তাঁর বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মের দিনটিকে একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেন। এরপর জ্যাকসন হাইটস পোস্ট অফিসের সুপারভাইজার ফাতিমা সালাজার তাঁর বক্তব্যে বলেন, কমিউনিটির সেবা প্রদান করতে পেরে তাঁরা গৌরবান্বিত।