প্রতিবেদন

করোনার প্রার্দুভাবের মধ্যেও পদ্মাসেতুর ২৭তম স্প্যান স্থাপন, ৪০৫০ মিটার দৃশ্যমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
পদ্মাসেতুর ২৭তম স্প্যান বসানো হয়েছে। এতে সেতুটির ৪ হাজার ৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়েছে।
২৮ মার্চ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ৫সি নম্বর স্প্যানটি ২৭ ও ২৮ নম্বর খুঁটির উপর বসিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতু আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।
করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ^ যখন লকডাউনে তখন পদ্মা সেতুতে ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি বসিয়ে দেয়া হয় খুঁটির ওপর। আর এর আগে ৫ নম্বর মডিউলের সি স্প্যানটি ২৭ মার্চ মাওয়ার ইয়ার্ড থেকে নিয়ে রওনা হয়।
৩ হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার তিয়ান ই ভাসমান ক্রেন সাড়ে ১০টার দিকে স্প্যান নিয়ে ২৮ নম্বর খুঁটির কাছে অ্যাংকর করে। ২৭ মার্চ স্প্যানটি ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই পিলার দুটির কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।
পদ্মা সেতুর উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. মুরাদ কাদের বলেন, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের সহায়তায় সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু হয়। নোঙর ক্রেনটি পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়। তারপর দুই পিলারের বেয়ারিংয়ের ওপর স্প্যানটিকে রাখা হয়।
খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এভাবেই স্প্যানটি বসিয়ে দেয়ার পর পদ্মা সেতু আরও ১৫০ মিটার বিস্তৃত হয়।
এর আগে গত ১০ মার্চ ২৬তম স্প্যানটি বসানো হয়। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের জানান, দেশে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক থাকলেও পদ্মা সেতুর কাজ থেমে নেই। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি আরও দুটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ নিয়ে প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল কাদের বলেন, ২৭ নম্বর স্প্যানটি উঠানোর কথা ছিল ৩১ মার্চ। তবে আগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় ৩ দিন আগেই এটি উঠানো হল। পদ্মা সেতুর মূল ভিতও এখন সম্পন্ন।
৪২টি খুঁটির ৪১টি সম্পন্ন এখন। বাকি শুধু এখন ২৬ নম্বর খুঁটি । খুঁটির সর্বশেষ প্রক্রিয়া ক্যাপ। এই খুঁটিরও ক্যাপের রড বাধাই হয়ে গেছে। এখন শুধু ঢালাই। কয়েক দিনের মধ্যেই এই ঢালাইটি সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে এই প্রকৌশলী জানান।
উল্লেখ্য গত ফেব্রুয়ারিতে ৩টি স্প্যান বসলেও মার্চে বসছে ২টি স্প্যান। গত ১০ মার্চ ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারে ৫ডি নম্বরের ২৬তম স্প্যানটি বসানো হয়। এতে সেতুর ৩ হাজার ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হয়।
২৭ তম স্প্যান স্থাপনের পর স্বপ্নের পদ্মাসেতু পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে আর মাত্র বাকী ১৪টি স্প্যান। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মাসেতুতে ৪১টি স্প্যান বসবে। এরই মধ্যে মাওয়ায় পৌঁছে গেছে ৩৯ স্প্যান। বাকী রয়েছে মাত্র ২ই ও ২এফ নম্বরের ২টি স্প্যান।
আব্দুল কাদের বলেন, চীনা নববর্ষের ছুটিতে চীনে গিয়ে যেসব কর্মীরা আটকে ছিলেন এদের অনেকে ফিরে এসে কোয়ারেন্টিন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর কাজে যোগ দিয়েছেন। এছাড়াও ওয়েল্ডিংয়ের কাজে ৬টি রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৮ মার্চ থেকে ৬টি রোবট সফলভাবে কাজ করছে। চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) নিজস্ব এই রোবটগুলো চীন থেকে নিয়ে আসে।
অন্যদিকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টের (সংযোগ সেতু) টি গার্ডার বসানো শুরু হয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে এই টি গার্ডার স্থাপন হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৮টি টি গার্ডার স্থাপন হয়েছে বলে দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। এর আগে জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সড়কে টি গার্ডার স্থান করা হয়। এই প্রান্তে টি গার্ডার স্থাপন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
স্বপ্নের পদ্মাসেতুতে যানবাহন উঠতে আর বেশি দিন বাকি নেই। প্রায় ৮৭ শতাংশ অগ্রগতির পর এখন স্বপ্ন বাস্তবায়নের শেষ প্রান্তে। ২০২০ সাল শেষ হলেই চালু হতে পারে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণ অবকাঠামো পদ্মা বহুমুখী
সেতু। এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলাকে যুক্ত করবে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে, যা দেশের অর্থনীতিতে আনবে ইতিবাচক পরিবর্তন।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
পদ্মাসেতু নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।