প্রতিবেদন

করোনা মোকাবিলায় পুরোদমে কাজ শুরু করেছে সশস্ত্র বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং সন্দেহভাজনদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে প্রশাসনকে সহায়তা করতে ২৫ মার্চ থেকে পুরোদমে দায়িত্ব পালন শুরু করেছে সশস্ত্র বাহিনী। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পরিধান করে তারা দায়িত্বপালন করবেন।
২৩ মার্চ করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্র বাহিনীÑ সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সরকারের এ নির্দেশনা পেয়ে ২৪ মার্চ সকল জেলায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা এরই মধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সভা করেছেন। সেনা সদস্যরা ২৫ মার্চ থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।
তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের তালিকা তৈরি এবং বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা নিশ্চিত করার কাজে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। প্রয়োজনে সকল বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবাও দেবে সেনাবাহিনী।
একইভাবে নৌবাহিনীর সদস্যরা উপকূলীয় এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করছে। আর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী এবং জরুরি পরিবহনের ক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে।
আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করার দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পিপিই পরিধান করবেন। আইএসপিআর পরিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২৪ মার্চ থেকে ৬ উপকূলীয় এলাকার ১৯ উপজেলায় বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলাগুলো
হলো : ভোলা জেলায় সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, চরফ্যাশন, মনপুরা, লালমোহন ও তাজমুদ্দিন; চট্টগ্রামের সন্দীপ, নোয়াখালীর হাতিয়া ও সুবর্ণচর; কক্সবাজারের টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী; বাগেরহাট সদর ও মোংলা এবং বরগুনার আমতলী, বেতাগি, বামনা, পাথরঘাটা ও তালতলী। এসব উপকূলীয় উপজেলায় এরই মধ্যে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করা শুরু করেছে নৌ বাহিনীর সদস্যরা। নতুন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত টহল দেয়া অব্যাহত রেখেছেন তারা।
২৪ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চতুর্থ রোগীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এদিন নতুন করে আরও ৬ জন এ রোগে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে মোট সংখ্যা ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ৫ জন রোগী আরোগ্য লাভ করায় বর্তমানে দেশে ৩০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী রয়েছে।
এদিকে, করোনা ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণে দেশের সকল জেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাইরাসটির বাংলাদেশে সংক্রমণ ও বিস্তৃতির ঝুঁকি রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মোতাবেক ২৪ মার্চ থেকে সারাদেশের প্রতিটি জেলায় সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তৃতি ঠেকাতে সরকার সারাদেশে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৪ মার্চ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্দেশনা মোতাবেক ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দেশের সকল জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে এবং সমন্বয় করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রস্তুত ও বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের নেয়া উদ্যোগ বা গৃহীত পদক্ষেপে সহায়তা ও সমন্বয় করছে। এছাড়াও সেনাবাহিনী বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করছে।
২৩ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানান, করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে নামছে সশস্ত্র বাহিনী। নৌবাহিনী উপকূলীয় এলাকায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কাজ করবে। বিমান বাহিনী হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকবে। বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত হচ্ছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় শহরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। সেনাবাহিনী বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কেউ নির্ধারিত কোয়ারেন্টিনে বাধ্যতামূলক সময় অবস্থান করতে ত্রুটি বা অবহেলা করছে কিনা, তা পর্যালোচনা করবে।
এদিকে, বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমণ ও বিস্তৃতির সম্ভাব্যতা এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংক্রমণরোধে কোয়ারেন্টিন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
১৯ মার্চ আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুটি কোয়ারেন্টিন সেন্টার পরিচালনা করার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বিমান বন্দর সংলগ্ন হাজী ক্যাম্প এবং উত্তরার দিয়াবাড়ী (সেক্টর-১৮) সংলগ্ন রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ দুটি কোয়ারেন্টিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদেশ হতে আগত যাত্রীদের প্রয়োজনীয় স্ক্রিনিংকরতঃ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্বাচিত ব্যক্তিবর্গকে বিমান বন্দরে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তরের পর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ সকল যাত্রীদের বিমান বন্দর হতে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে স্থানান্তর, ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন, কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকাকালীন সময়ে আহার, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনীকে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়/সংস্থা/অধিদপ্তর/বাহিনী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।