কলাম

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষকেই সচেতন হতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে

এ মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে আতঙ্ক ও নিরাশার দূতটি অবশ্যই করোনা ভাইরাস। জীবাণুটির সংহারমূর্তি পৃথিবীব্যাপী মানুষের ত্রাসের কারণ। ভাইরাস বনাম মানুষের যুদ্ধে মানুষ যেন এক পরাভূত ও অসহায় সৈনিক।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্যানডেমিক বা অতিমারী হিসেবে ঘোষিত হয়েছে, সাধারণ অর্থে আমরা যেটাকে বলছি বৈশ্বিক মহামারী। একশ বছর আগের মহামারীর মতো না হলেও, মানুষ এখনো ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধে যথেষ্ট অসহায়। এই ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিল, বিশ্বায়ন আমাদের বিশ্বকে কোথায় নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দুনিয়ায় এর আগে এপিডেমিক, প্যানডেমিক, নাইন-ইলেভেন কোনো কিছুতেই এমন দেখা যায়নি যে, গোটা পৃথিবীর সব লোক একই সঙ্গে একটি কথাই ভাবছে আর কিছুই ভাবছে না এবং সবাই একই পরিমাণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ব্যগ্র হয়ে উঠেছে। এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরাট ভূমিকা আছে নিশ্চয়ই।
বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে করোনা ভাইরাস নিয়ে উপেক্ষা, অবজ্ঞা, ঠাট্টা-তামাশার দিন আর নেই। এখন সিরিয়াস হতে হবে। সিরিয়াস হতে হবে সরকার ও রাজনৈতিক দলকে, একই সঙ্গে নাগরিকদেরও। কারণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনার বিস্তার আর মারণ থাবা। গোটা বিশ্ব আজ এই ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এর পরিণতি কী হবে, কবে, কোথায় গিয়ে থামবে, তা কেউই বলতে পারছে না।
করোনা ভাইরাস শুধু মানুষকেই নয়, অর্থনীতিকেও পর্যুদস্ত করে ফেলেছে। বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারের পতন বলছে, অর্থনীতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। অর্থনীতি নিয়ে বর্তমানে সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কারণ এই মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশে যে ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হচ্ছে, তার কোনোটিই অর্থনীতির পক্ষে ইতিবাচক নয়। বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে দোকান-বাজার বন্ধ; কলকারখানায় তালা ঝুলছে। অর্থাৎ, যে চাকাগুলোর ওপর ভর করে অর্থনীতির গাড়ি চলে, করোনা ভাইরাসের দাপটে সেগুলো অচল হয়েছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়, ভাইরাসের দাপট কমলেই যে অর্থনীতিও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেই নিশ্চয়তা নেই। ফলে, বাজারের প্রতিক্রিয়াটি স্বাভাবিক ও অনিবার্য।
সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদেরও এখন সিরিয়াস হওয়ার পালা। করোনা ভাইরাস নিয়ে এখনো এক শ্রেণির মানুষ রসিকতায় মত্ত রয়েছে। হাস্যরস নিশ্চয়ই খুব ভালো জিনিস, কিন্তু যেকোনো বিষয় নিয়ে কা-জ্ঞানহীন হাসাহাসি, আমাদের লঘু-গুরু জ্ঞান গুলিয়ে দেয়। তাই এ মুহূর্তে আমাদের মূল কর্তব্য সচেতনতা ও বিপদ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান।
বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব লালন করার প্রয়োজন অস্বাভাবিক ধরনের বেশি, কারণ আগামী দুই থেকে চার সপ্তাহ সংক্রমণের গতি রোধ করে রাখতে পারলে বড় বিপদ এড়ানোর সম্ভাবনা অনেকটা বাড়তে পারে। নিশ্চয়তা নয়, সম্ভাবনা। কিন্তু নিশ্চয়তা আপাতত অলীক স্বপ্ন, সম্ভাবনা যথাশক্তি বাড়ানোর চেষ্টাই একমাত্র করণীয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চাই আরও সতর্কতা ও নিরলস প্রচেষ্টা। রাষ্ট্র ও সমাজ, সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিক কা-জ্ঞানের নির্দেশ মেনে চললে এই যুদ্ধে জয়ী না হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আমরা মনে করি।