রাজনীতি

ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে শফিউল ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮১৭ ভোট।
ঢাকা-১০ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ২৭৫ জন।
২১ মার্চ রাতে এ ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির হাজি মো. শাহজাহান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৯৭ ভোট। এছাড়া কাজী মুহাম্মদ আবদুর রহিম (বাঘ) পেয়েছেন ৬৩ ভোট, নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী (হারিকেন) পেয়েছেন ১৫ ভোট এবং মো. মিজানুর রহমান (ডাব) পেয়েছেন ১৮ ভোট।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন।
প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিস্থ ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে স্থানীয় সময় সকাল ৯টার সময় ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং কোনো বিরতি ছাড়াই তা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।
নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১০ আসনে ইভিএম ব্যবহার করে। অপর দুই আসনে ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়।
গত ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস পদত্যাগ করলে ঢাকা-১০ নির্বাচনি আসন শূন্য হয়।
ঢাকা-১০ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা জি এম শাহতাব উদ্দিন জানান, ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি’র শেখ রবিউল আলম, জাতীয় পার্টির হাজী মো. শাহজাহান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের নবাব খাজা আলী আহসান আসকারি, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান চৌধুরী এবং পিডিপি’র আবদুর রহিম।
ঢাকা-১০ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার ২৮১ জন। এখানে ভোট কেন্দ্র ছিল ১১৭টি ও ভোট কক্ষ ৭৭৬টি।
এদিকে সরকারি এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ি নভেল করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ সকল নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
২৯ মার্চ চট্টগ্রামের পাশাপাশি বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনও হওয়ার কথা ছিল।
২১ মার্চ আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইসির সভার পর বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ২৯ মার্চের নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।
তিনি বলেন, করোনার প্রভাবে ইসি সবার স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে ২৯ মার্চের চট্টগ্রাম সিটি ও দুটি উপনির্বাচন স্থগিত করেছেন।
সচিব বলেন, নির্বাচন অনিদিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে বগুড়া-১, যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচন করতে হবে এপ্রিলের মধ্যে; জুলাইয়ের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট করতে হবে।