কলাম

লকডাউন কী ও কেন

আরফাতুন নাবিলা
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে এসে বেশ কয়েকটি দেশ লকডাউন ঘোষণা করেছে। সংক্রমণের সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টায় এমন সিদ্ধান্ত। লকডাউন কী, এ সময় কী নিয়ম মেনে চলতে হয়, কোন কোন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকে তা জানানো হচ্ছে এই প্রবন্ধে।

লকডাউন কী
লকডাউন একটি জরুরি ব্যবস্থা, যা সাধারণত মানুষকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর মানে, যে যেখানে বাস করছেন, সে এলাকা ছেড়ে বের হওয়া যাবে না। সাধারণত রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে। জনসাধারণকে বড় দুর্যোগ থেকে বাঁচানোর জন্য লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পূর্ণ লকডাউনের অর্থ, একই ভবনে থেকেও মানুষ নিজের বাসা থেকে বের হতে পারবে না। জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন ও জরুরি কাজ না হলে কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। এটা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নয়, প্রশাসনিক, আইনগত বা সরকারি ব্যবস্থা। বিমান, সীমানা ও চলাচল বন্ধ থাকবে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষ যা বলবে, তা শুনতে হবে।

অনুসরণীয়
লকডাউন অর্থ ঘরবন্দি হলেও কিছু কাজের জন্য বাইরে বের হওয়ার অনুমতি আছে। যেমন জরুরি কাজ: লকডাউনের মধ্যে থাকলেও প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বা দরকারি জিনিস যেমন ওষুধ কিনতে এবং চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যাবে। যদি হাঁটা পথ হয়, তবে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেবা প্রদান-সংক্রান্ত কোনো কাজে যারা জড়িত থাকেন, তারা লকডাউনের নিয়মের বাইরে থাকেন।
নিয়ম না মানলে: লকডাউনে থাকাকালীন পুরো দেশ বা নির্দিষ্ট এলাকা একটি নিয়মের মধ্যে চলে আসে। কেউ এ নিয়ম ভঙ্গ করলে জরিমানাসহ জেল হতে পারে।
কাজের ক্ষেত্রে: বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বাসা থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বেসরকারি কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। লকডাউন যত দিন চলে, অফিসের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে অথবা কম কর্মী দিয়ে কাজ করানো হয়।
জরুরি প্রয়োজনে: হাসপাতাল, ফার্মেসি এগুলো সব সময় খোলা রাখা হয়। লকডাউন চলার সময় অসুস্থ ব্যক্তি যেকোনো সময় এসব জায়গায় সেবার জন্য যাওয়া-আসা করতে পারবেন।
দ্রব্য মজুদ করা: লকডাউন অর্থ বাড়িতে থাকা। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। ১৫ দিনের জন্য টানা ঘরবন্দি নয়। শুধু চলাচল সীমিত করে দেয়া। কাজেই প্রচুর জিনিস একসঙ্গে কিনে ঘরে মজুদ করে রাখার প্রয়োজন নেই। নিত্যদিনের জন্য যতটুকু দরকার, ততটুকু কেনাই ভালো। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান খোলা থাকে এ সময়। যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনে চলাচলে কঠোরতা মানা হয়।
জনসমাগমপূর্ণ এলাকা বন্ধ: মহামারী বা দুর্যোগ ঠেকাতে প্রধান চেষ্টা থাকে সমাজে মানুষের চলাচল, ভিড় কমিয়ে আনা। এ ক্ষেত্রে যেসব স্থানে ভিড় বেশি থাকে, যেমনÑ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রার্থনার স্থান, রেস্টুরেন্ট, কমিউনিটি সেন্টার, সিনেমা হল, মার্কেট, পার্ক ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়া হয়। মহামারী মানুষের সংস্পর্শে বৃদ্ধি পায় বলে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রয়োজনীয় কাজে বের হলেও কয়েকজন মিলে একত্রিত হওয়া যাবে না।

লকডাউনের আরও কিছু চিত্র
স্কুল: বিভিন্ন স্কুলের ক্ষেত্রে লকডাউন পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হয়। সাধারণত লকডাউন অর্থ ভিতরের এবং বাইরের দরজা বন্ধ থাকা বোঝায় এবং শিক্ষার্থী ও স্টাফদের রুমের ভেতরেই থাকতে হয়। জানালার পর্দা ঢেকে দেয়া থাকে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য তাদের ক্লাসরুমের শেষপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তবে ১৯৯৯ সালের কলম্বিয়ার বন্দুকযুদ্ধের পর স্কুলের লকডাউনে কিছুটা পরিবর্তন আসে।
জেলখানা: জেলখানার কয়েদীদের কাজকর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাকে লকডাউন বলা হয় সেখানে। শাস্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল কয়েদীকে ‘লকডাউন পিরিয়ড’ পার করতে হয়। জেলখানায় দাঙ্গা বা অশান্ত অবস্থা হলে তখন সকল কয়েদীকে এক জায়গায় রাখাকে বলা হয় ‘ফুল লকডাউন’।
হাসপাতাল: ভূমিকম্প, বন্যা, আগুন, বোমা নিক্ষেপ, জিম্মি অথবা বন্দুকযুদ্ধের কোনো ঘটনায় হাসপাতালে লকডাউন করা হয়।
ডিজিটাল লকডাউন: ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে তথ্য পাওয়া যায় সেটিকে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে ডিজিটাল লকডাউন। কম্পিউটার থেকে ভাইরাল ইনফেকশন অথবা হ্যাকার যদি তথ্য চুরি করতে চায় তখন এই লকডাউন হয়।

বিশ্বের প্রথম লকডাউন
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলায় সেন্টারটি ভেঙে পড়ার পর আমেরিকায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিউ ইয়র্কে ২ হাজার ৭৫০ জন, পেন্টাগনে ১৮৪ জন, পেনসিলভানিয়ায় ৪০ জনসহ আনুমানিক ৩ হাজার মানুষ মারা যান। এ ছাড়া উদ্ধারকাজ চলাকালীন ৪ শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও অগ্নিনির্বাপককর্মী প্রাণ হারান। ২০১৩ সালে বোস্টন এবং ২০১৫ সালে প্যারিসে হামলার পর ব্রাসেলসে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল।

করোনায় লকডাউনে যেসব দেশ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের আগ্রাসী সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ লকডাউন করা হয়েছে। চীনে কভিড-১৯-এর বিস্তার শুরু হলেও বিশ্বব্যাপী রোগটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে। ২০ মার্চ পর্যন্ত ইতালি, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, চেক রিপাবলিক, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নরওয়ে, চীন, স্লোভেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া, এল সালভাদর, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, ভারত, নেপালসহ বেশ কয়েকটি দেশ লকডাউন করা হয়েছে।
ইতালি: ২৪ মার্চ নাগাদ ইতালিতে মৃত্যুসংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। দিনে সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে হাজারে। এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে মৃতের সংখ্যা চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে। করোনার প্রকোপ কমাতে দেশের ভেতর সব ধরনের যাতায়াত এবং ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো দেশ লকডাউনের অধীনে। ইতালির মোড়ে মোড়ে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে সাধারণ মানুষ। নিতান্ত প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি নেই কারো। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লকডাউন থাকলেও মৃত্যু এবং সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মার্চ মাসের শুরু থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ আছে খেলাধুলার সব বড় আয়োজন, মিউজিয়াম, কালচারাল সেন্টার, সুইমিং পুল, স্পাসহ সব প্রতিষ্ঠান। জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন এবং এয়ারপোর্টে চলাচলেও মানতে হচ্ছে কঠোর নিয়ম। বিশেষ ক্ষেত্রে পুলিশের অনুমতি নিতে হচ্ছে। খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব কিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলখানায় কয়েদিদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করার অনুমতি মিলছে না। স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইতালি বেশির ভাগ ব্যবসাবাণিজ্য এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে ১২ মার্চ থেকে, তবে পূর্বঘোষিত তারিখের চেয়ে আরও বেশি দিন থাকতে পারে লকডাউন অবস্থা।
ভারত: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে ভারতের ৮০টি শহরে একযোগে শুরু হয়েছে লকডাউন। ভারতে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ৪০০-এর বেশি লোক করোনা ভাইরাস সংক্রামিত হয়েছেন, মারা গেছেন ৭ জন। এই লকডাউন ভারতের নানা শহরে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ পর্যন্ত চলবে। লকডাউনের সময় ওষুধের দোকান, পেট্রলপাম্প, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান খোলা থাকবে। রাজধানী দিল্লিতে লকডাউন চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের নানা শহর ও জেলাতেও লকডাউন শুরু হয়েছে। ২২ মার্চ ভারতজুড়ে পালিত হয়েছিল ‘জনতার কারফিউ’ এবং সেদিনই বিকেলে এই লকডাউন পালনের কথা ঘোষণা করা হয়।
স্পেন: ৪৭ মিলিয়ন জনসাধারণকে নিজ বাড়িতে অন্তত ১৫ দিন অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে স্পেন। এ সময় আরও বাড়তে পারে। অফিসের কাজ, ব্যাংক, মেডিকেল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রয়োজনীয় জিনিস যতটুকু সম্ভব বাড়িতে বসে ইন্টারনেটের সাহায্যে করতে হবে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বার, রেস্টুরেন্ট, হোটেল সবকিছু বন্ধ।
ফ্রান্স: করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ৬ হাজারেরও বেশি লোক সংক্রামিত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৫০ জনের। ভাইরাস সংক্রমণের কারণে পুরো ফ্রান্সের জীবন ও সমাজ অচল হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে সব স্কুল ক্যাফে-রেস্তোরাঁ এবং ছোট দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু সুপার স্টোর, ফার্মেসি, টোব্যাকো শপ, ব্যাংক আর পোস্ট অফিস খোলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ফ্রান্সে লোকজনকে ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। সরকারি আদেশে বলা হয়, কেউ ঘরের বাইরে বের হলে তার কারণ উল্লেখ করে একটা ফরম সঙ্গে রাখতে হবে, যা অমান্য করলে ১৩৫ ইউরো জরিমানা করা হবে। এ আদেশ মানা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে এক লাখ সরকারি কর্মকর্তা এবং সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে সারা দেশে।
নিউজিল্যান্ড: ১৪ মার্চ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন ঘোষণা দেয়ার পর থেকে পুরো দেশ লকডাউনে চলে যায়। নিউজিল্যান্ডে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীর সংখ্যা বেশি। এখন পর্যন্ত সেখানে ভাইরাসের আক্রমণ হয়নি। তাই তাদের সুরক্ষার জন্য সব জাহাজকে ৩০ জুন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ড স্বেচ্ছা আইসোলেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে দ্বীপপুঞ্জের অধিবাসীর ওপর লকডাউনের নিয়ম মানার বাধ্যকতা নেই। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত ১০২ জনের সবাই চিকিৎসাধীন। প্রাণহানির কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি। দেশটির নতুন বিধিনিষেধের আওতায় পণ্য আসবে না। আকাশ ও নৌপথে অপরিহার্য পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চলবে।
অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় এর বিস্তার ঠেকাতে পাব, ক্লাব, জিম, ক্যাফে, সিনেমা হল ও উপাসনালয়ের মতো সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় হাজারে। লকডাউনের ফলে অনেক ব্যবসাবাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, অনেকেই চাকরি হারাবেন। তবে সুপার মার্কেট, পেট্রল স্টেশন, ফার্মেসি ও হোম ডেলিভারি সার্ভিস চালু থাকবে।
নেপাল: করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট কভিড-১৯-এ আক্রান্ত দ্বিতীয় ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে নেপালে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউন থাকবে পুরো নেপাল। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। লকডাউন চললেও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে। ভিড় বাড়ার আশঙ্কায় দোকান খোলা রাখার জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে না। করোনার প্রথম রোগী শনাক্তের পরই নেপালের সব সিনেমা হল, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, স্টেডিয়াম, জাদুঘর, সুইমিং পুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে মডেল কোয়ারেন্টাইন জোন তৈরি করা হয়। প্রথম রোগী সুস্থ হলেও সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে পুরোপুরি লকডাউনে চলে যায় দেশটি। বন্ধ রয়েছে অফিস-আদালত, চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অভ্যন্তরীণ সব ধরনের যানচলাচল, অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট।
জার্মানি: জার্মানিতে প্রকাশ্যে দু’জনের বেশি একসঙ্গে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। এই পদক্ষেপের আওতায় মানুষের মধ্যে কমপক্ষে দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। রেস্তোরাঁ, সেলুন ইত্যাদি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে মার্চের শেষ নাগাদ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল নিজে কোয়ারেন্টাইনে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
যুক্তরাজ্য: করোনা ভাইরাসের হুমকি রুখতে ব্রিটেনে সব বার, পাব ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সব নাগরিকের উদ্দেশে অতিপ্রয়োজনীয় নয়, এমন ভ্রমণ বন্ধ রাখার আবেদন করেছেন। সেইসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য মানুষে-মানুষে সরাসরি যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
মাদারীপুর, বাংলাদেশ: মার্চের শেষ দিকে বাংলাদেশের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য লকডাউন করা হয়। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে। লকডাউন চলাকালীন শিবচর উপজেলায় কেউ প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কোনো ব্যক্তি বের হচ্ছেন কি নাÑ তা নিশ্চিত করতে রাস্তায় পুলিশি টহল রাখা হয়েছে। নিয়ম না মানলে জেল-জরিমানার শাস্তি বিধান করা হয়েছে। এই উপজেলায় সম্প্রতি ৬৩৯ জন ইতালি, গ্রিস, স্পেন কিংবা জার্মানি থেকে এসেছেন। ইতালিতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার সময় অনেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন। শিবচর উপজেলায় শুধু ওষুধের দোকান এবং অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া বাকি সবকিছু বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর পর রাজধানীর টোলারবাগ এলাকার ৪০টি বাড়ি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। ওই এলাকার বাকি বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।