প্রতিবেদন

এডিবির পূর্বাভাস: করোনার মধ্যেও এশিয়ায় সর্বোচ্চ জিডিপি হবে বাংলাদেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে বাংলাদেশের জন্য একটি সুখবর এলো। ফিলিপাইনের ম্যানিলাভিত্তিক সংস্থাটি বলছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবের মধ্যেও চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ৩ এপ্রিল এডিবি এই পূর্বাভাস দিয়েছে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৮ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এডিবি থেকে পাওয়া এমন খবর নিশ্চয়ই সরকারের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে আশা জাগাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির আবাসিক পরিচালক মনমোহন প্রকাশ বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথগতির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করবে। তবে এটা ঠিক, চলমান বৈশ্বিক মহামারিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এডিবির প্রাথমিক একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপির ০.২ থেকে ০.৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে বাংলাদেশে যদি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়, তখন ক্ষয়ক্ষতি আরো বেশি হবে। মনমোহন প্রকাশ সরকারের নেয়া কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, পোশাক খাতের জন্য সরকার একটি প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে, যা ইতিবাচক।
এডিবির আউটলুকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ভালোই ছিল। প্রথম আট মাসে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী ছিল। এর কারণ ছিল প্রবাসীদের পাঠানো টাকা। এডিবি বলছে, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। মূল্যস্ফীতির হার বছর শেষে ৫.৬ শতাংশের মধ্যে থাকবে। যদিও সরকার বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের হার নিয়ে এডিবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের হার খুবই কম। রাজস্ব আদায়ের হার বাড়ানো হবে চ্যালেঞ্জের। জিডিপির অনুপাতে রাজস্ব আদায় কম হলে দেশের জন্য টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচন কঠিন হয়ে পড়ে।
এডিবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এ বছর এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। চলতি অর্থবছর শেষে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি হবে ২.২ শতাংশ। গত বছর এশিয়ায় গড়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫.২ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীনে ২.৩ শতাংশ, ভারতে ৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে। অবশ্য অর্থবছরের আট মাসে রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় এডিবি এরই মধ্যে ৬৫০ কোটি ডলারের একটি তহবিল ঘোষণা করেছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ ৫০ কোটি ডলার চেয়েছে।