খেলা

করোনাপরবর্তী বদলে যাবে বল শাইনিং ও উদযাপন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
সেই পুরনো যুগ থেকেই ক্রিকেটে এ দুটি প্রচলন চলে আসছে। বোলার বলে সুইং আনার জন্য এক পাশ শাইন দিচ্ছেন। তাতে লালা ব্যবহার করা হয়। বোলারকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে ফিল্ডাররাও সাহায্য করেন। আরেকটি ব্যাপার হলো উইকেটের পর উদযাপন করা। কোনো উইকেট নেয়ার পর পুরো দল এক হয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। হাতে হাত মেলান। কিন্তু করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি ঠিক হয়ে ক্রিকেট আবার মাঠে ফিরলে এসব বদলে যাবে বলে মনে করেন শচিন টেন্ডুলকার। ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি এই পরিবর্তনগুলোর মধ্য দিয়ে ক্রিকেটকেই বদলে যেতে দেখছেন।
করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায় সামাজিক দূরত্ব রাখা। নিজেকে পরিষ্কার রাখা। কিন্তু ক্রিকেট মাঠে এই দুটি ব্যাপারের কোনোটাই মানা যায় না। তাই বর্তমান সময়ের অভ্যাসটা সবার মাঝ থেকে যেতে পারে ক্রিকেট ফিরলেও।
৪৭-এ পা দেয়া শচিন রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, বল শাইনিংয়ের ধরন বদলে যাবে বলে মনে হচ্ছে। সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে সচেতন থাকবে, নিজেদের মধ্যে হাই-ফাইভ (হাত মেলানো) দেয়া থেকেও বিরত হবে। আর সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন যেখানে আসবে সেটি হলো উইকেট পড়ার পর একে অপরকে আলিঙ্গন। মনে হয় না আর এই বিষয়গুলো ফিরে আসবে। অসচেতনভাবে কেউ কেউ এসব করতে পারে কিন্তু সচেতন থাকলে সব ক্রিকেটারই চাইবে এই অভ্যাসগুলো ধরে রাখতে। কারণ করোনা ভাইরাসের এই সময়ে সবাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলো মেনেছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মধ্যেই গত মার্চে নিউজিল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফর চলছিল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের মাত্র একটি হতে পেরেছিল। ওই ম্যাচেই বেশ সচেতন ছিলেন দু’দলের ক্রিকেটাররা। ম্যাচের আগে টসের সময় দুই অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও কেন উইলিয়ামসন হ্যান্ডশেকের পরিবর্তে করেন এলবো শেক (কনুইশেক)। ম্যাচ শেষে দু’দলের ক্রিকেটারদের সৌহার্দ্য বিনিময়ের পুরনো রীতি সারিবদ্ধ হয়ে হাত মেলাতে দেখা যায়নি। তারা সারিবদ্ধ হয়ে একে অপরকে সাধুবাদ দিচ্ছিলেন ঠিকই কিন্তু হাত মেলাননি। এ রকম অভ্যাস ক্রিকেট মাঠে ফিরলে আবারও দেখা যাবে নিশ্চিত।
ক্রিকেটসহ বাকি সব খেলাই মার্চের শেষ থেকে একে একে বন্ধ রয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে পৃথিবীজুড়ে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত সব দেশকেই নিজ নিজ সিরিজ পেছাতে হয়েছে। অতিসম্প্রতি ভারতের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ আইপিএল পিছিয়ে গেছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ টেস্ট সিরিজও পিছিয়েছে করোনার কারণে। শচিন টেন্ডুলকারের বিশ্বাস, এই সিরিজগুলো পরিস্থিতি ঠিক হলে আবার হবে। এগুলোকে বাতিল বলতে চান না তিনি, এটা ঠিক ক্রিকেটসহ সব খেলাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রিকেটে অনেক সিরিজ হয়নি। আমি বিশ্বাস করি, এই সিরিজগুলো আবার হবে। এগুলো বাতিল না বলে স্থগিত করা হয়েছে বলে আমরা জানি। দর্শকরা এই সিরিজগুলো অবশ্যই আবার দেখতে পাবে।
করোনা ভাইরাসের বিভীষিকার কারণে নিজের ৪৭তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানও স্থগিত করেছেন শচিন। তার ভক্তরা অবশ্যই চান এই ব্যাটিং গ্রেটের জন্মদিন অনুষ্ঠান আবার হবে। জন্মদিনে কিংবদন্তি ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট মৌসুম দেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্বই স্থবির হয়ে গেছে। সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের জন্যই এই অবস্থা, সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদেরকে এখন পুরো ক্রিকেটপঞ্জিই বদলাতে হবে। এজন্য অনেক কিছুই ছাড় দিতে হবে সবাইকে। বিশেষ করে আমরা জানি ক্রিকেট নির্দিষ্ট মৌসুম ছাড়া খেলা কঠিন। আর বিশ্বের সব দেশেই আলাদা আলাদা ক্রিকেট মৌসুম আছে। আমার বিশ্বাস, ক্রিকেট মাঠে ফেরার পর সব দেশের ক্রিকেট মৌসুমকে টার্গেট করে একটা সময়োপযোগী ক্রিকেটপঞ্জি আসবে।
সামনের অক্টোবর-নভেম্বরে এ বছরের সবচেয়ে বড় আয়োজন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। করোনা ভাইরাসের কারণে শঙ্কায় পড়ে গেছে এই আসরও। টুর্নামেন্টটি নির্ধারিত সময়ে হবে কি না তা নিয়ে জল্পনা চলছে। শচিন অবশ্য এখনই এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি নন। সেঞ্চুরির সেঞ্চুরিয়ান জানান এই চিন্তাটা সবার, বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়ে হবে কি না এ নিয়ে চিন্তায় সবাই, শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়। টুর্নামেন্টে খেলা সব দলই ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া নিরাপদ হবে কি না এটা ভাবছে। তাছাড়া এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি যে আসরটি নিয়ে কিছু বলা যাবে।