প্রতিবেদন

করোনার উৎস তদন্ত নিয়ে চলছে রাজনৈতিক খেলা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
করোনা ভাইরাসের সূত্রপাত নিয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। কারণ হিসেবে যুক্তরাজ্যে চীনের একজন শীর্ষ কূটনীতিক চেন ওয়েন বলেন, দাবিটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটা করা হলে এই মহামারি মোকাবিলায় চীন যেভাবে কাজ করছে, তা ব্যাহত হবে।
কোভিড-১৯ এর উৎস এবং প্রথমদিকে কীভাবে তা ছড়িয়েছে, সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে তা এই রোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে। গত বছর উহান শহরে একটা বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়। এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি রিপোর্টে অভিযোগ আনা হয়েছে, চীন এই সংকট সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছিল। ওই রিপোর্টে বলা হয়, রাশিয়া এবং কিছুটা কম করে হলেও চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তার প্রতিবেশি দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ ছড়ায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চীনের ভূমিকা নিয়ে বারবার বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ এই ভাইরাসের বিস্তার বন্ধে চীন যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি, এমন অভিযোগে চীনা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে। তবে উহানের এক গবেষণাগারে এই ভাইরাস তৈরি করা হয়েছিল, এমন জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেছেন, এই ভাইরাস প্রাকৃতিক, কোনো গবেষণাগারে তৈরি হয়নি।
এই মহামারির প্রায় শুরুর সময় থেকে আহ্বান জানানো হয়, আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের চীনে যেতে দেওয়া হোক, যাতে তারা তদন্ত করে দেখতে পারে, কোথা থেকে এই ভাইরাস ছড়াল। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য চাপ অব্যাহত রাখবেন।
তবে চীনা কূটনীতিক চেন ওয়েন বলেন, তার দেশ আন্তর্জাতিক তদন্তের বিষয়ে মত দেবে না। কারণ নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, আমরা এই মুহূর্তে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছি। এই ভাইরাস দমন করার জন্য আমরা পুরোমাত্রায় মনোযোগ দিচ্ছি। এখন তদন্তের কথাবার্তা কেন উঠছে? এই তদন্ত শুধু আমাদের লড়াইয়ে ব্যাঘাত ঘটাবে তাই নয়। আমাদের সম্পদও অন্য খাতে ব্যবহার করতে হবে। এই উদ্যোগ রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এতে কেউ রাজি হবে না। এই তদন্ত কারও কোনো কাজে আসবে না।
চেন ওয়েন বলেন, এই ভাইরাসের উৎস নিয়ে অনেক গুজব ছড়িয়েছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বিপজ্জনক দাবি করে তিনি আরও বলেন, এটা একটা ‘রাজনৈতিক ভাইরাস এবং করোনা ভাইরাসের মতো একই রকম বিপজ্জনক।’ তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ইইউ তাদের এক রিপোর্টে দাবি করেছে, চীনা কর্মকর্তারা এবং দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম এই ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে তাদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। উহান থেকে এই ভাইরাসের উৎপত্তির কথা তারা এড়িয়ে গেছে।
বিবিসির নিরাপত্তাবিষয়ক সংবাদদাতা গর্ডন করেরা বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকাররা এই স্পর্শকাতর সময়ে চীনের সঙ্গে একটা কূটনৈতিক বিবাদে জড়াতে এখন পর্যন্ত অনাগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপের অনেক দেশ এই সংকট সামাল দেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের জন্য চীনের ওপর নির্ভর করছে। তারা চায়, চীনের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদানের পথগুলো খোলা রাখতে, যার মাধ্যমে তারা বোঝতে চায়, এবারের ভাইরাস প্রাদুর্ভাব কীভাবে ঘটল এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো যাবে।
এই আদানপ্রদানও যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গেই তাদের করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন একটি ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থার চীনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ। ‘রুসি’ নামে এই সংস্থার বিশেষজ্ঞ চালর্স পার্টন বলেন, বাগাড়ম্বর এবং সংঘাতের পথে হাঁটার সময় এখন নয়। কারণ বিষয়টি অনেক জটিল।
তবে গর্ডন করেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে রাজনীতি করা হচ্ছে, বিশেষ করে সেখানে নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক ‘পয়েন্ট স্কোর’ করতে চীনের বিরুদ্ধে কে কতটা কঠোর হতে পারে এবং ভাইরাস কোথা থেকে এলো, কীভাবে ছড়ালÑ এসব দাবি কে কতটা জোর গলায় করতে পারে, তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।