আন্তর্জাতিক

করোনার ভয়াল রূপ দেখছে বিশ্ব

স্বদেশ খবর ডেস্ক
প্রতি দিনই বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা। গেল বছর শেষ দিন চীনের উহানে ভাইরাসটির প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম মাস তুলনামূলক কম ছড়ালেও ফেব্রুয়ারি থেকে ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করে ভাইরাসটি। এরপর থেকে প্রতি দিনই ক্রামান্বয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্ত আর মৃত্যু। ভাইরাসটির বিস্তার দেখে ৩১ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব দেশের সরকারকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বানও জানায় সংস্থাটি।
ফেব্রুয়ারিতে ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ ছড়ানোয় নতুন মাত্রা পায়। চীনে অবস্থা ভয়াবহ হতে শুরু করে। মার্চে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত আর মৃত্যুর পালে লাগে হাওয়া। ১১ মার্চ করোনা ভাইরাসকে ‘বৈশ্বিক মহামারী’ ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। মার্চ মাসেই রোগটিতে বিশ্বে আক্রান্ত হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার ২৮৫ জন। আর মারা যায় ৩৮ হাজার ২৩ জন। মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩০০ জন করে মানুষ মারা গেলেও এপ্রিলে এসে সে হার বেড়ে যায় আরও ভয়ঙ্কর রূপে। চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনেই মারা গেছে প্রায় ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ। আর আক্রান্ত হয়েছে ১২ লাখ ৩২ হাজার ৬২০ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, গত ৩১ মার্চ বিশ্বে মোট করোনা রোগী ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৮ জন। আর ওইদিন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৩২০ জন। অথচ এপ্রিলের ১৫ তারিখ শেষে এ মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬১৯ জনে। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৭ জনে। আলোচ্য মাসে গড়ে প্রতিদিন ৬ হাজার ১৫০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের মধ্য থেকে শনাক্ত হয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৮২ হাজারের বেশি।
এর মধ্যে ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে নিয়ন্ত্রণে এলেও ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল ও ইরানে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯।
মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত ইউরোপের অবস্থার কিছুটা উন্নতির আভাস দেখা গেলেও ফের রোগী ও মৃত্যু বেড়েছে স্পেনে। গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে সর্বোচ্চ মৃত্যু। যুক্তরাষ্ট্রে ওই ২৪ ঘণ্টায় মারা যায় ২ হাজার ৪৮২ জন। আর ফ্রান্সে মারা যায় ১ হাজার ৪৩৮ জন। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্য বলছে, বাংলাদেশ সময় ১৬ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৫১২ জনে। আর মারা গেছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩০৮ জন। আরোগ্য লাভ করেছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ২৮০ জন। আর চিকিৎসাধীন ১৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৪ জন। তাদের মধ্যে ৫৭ হাজার ২৬৭ জনের অবস্থা গুরুতর।
১৬ এপ্রিল সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭২ জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৯০৩ জনে। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১৬ জন। মারা গেছে ১৯ হাজার ১৩০ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছে ২২ হাজার ১৭০ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৪১ জনে। ফ্রান্সে মারা গেছে ১৭ হাজার ১৬৭ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৩ জন। ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬৩ জন।
দেশটিতে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছে ৩ হাজার ৮৬৭ জন। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৩৪১ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৪২ জন। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৭২৯, আক্রান্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩ জন। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ২১৪ আর মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩১৫ জনের। বেলজিয়ামেও রোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৮০৯ জন। মারা গেছে ৪ হাজার ৮৫৭। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৬ হাজার ৭৩২, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২৮১ জনের। তুরস্কে ৭৪ হাজার ১৯৩ জন আক্রান্ত। ১ হাজার ৬৪৩ জন মারা গেছে। সুইডেনে ১২ হাজার ৫৪০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ১ হাজার ৩৩৩ জন। রাশিয়ায় ২৭ হাজার ৯৩৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে মারা গেছে ২৩২ জন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৯৯৫, মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৮৬৯ জনের।
কানাডায় রোগীর সংখ্যা ২৯ হাজার ৯২৫। মারা গেছে ১ হাজার ১৯১ জন। ব্রাজিলে ২৯ হাজার ২১৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৭৬৯ জন। এছাড়া আরও অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, মারা গেছে ৫ শতাধিক মানুষ।