প্রতিবেদন

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের অনুদান প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রদান করা অনুদান গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ এপ্রিল তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই অনুদান গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের হাতে পিএমওতে অনুদানের চেক তুলে দেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্ণধার এবং শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।
এ উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করে এগিয়ে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। কেননা আপনারা এই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। জাতি আপনাদের এই অবদানকে সবসময় স্মরণ করবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃপক্ষ (বিএসইসি), পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, কোষ্টগার্ড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, অগ্রণী ব্যাংক, সরকারি ব্যাংকসমূহ, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, পিএইচপি, মেঘনা গ্রুপ, ইউনাইটেড গ্রুপ, মোমেন গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, রূপায়ন গ্রুপ, ফ্রেস গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি), বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড, মিডল্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড, আইডিকোল পো ফোরাম লিমিটেড, ড্রিম হলিডে পার্ক নরসিংদী, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, মাধবদী ডাইং লিমিটেড, কেসিজে অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লি, ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্ট্রাকো, ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ, বায়রা, কারা অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, বেসিক বিল্ডার্স লিমিটেড, বেপজা, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মহাখালী, এ এম গ্রুপ এবং ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করে।
ত্রাণ তহবিলে প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের অনুদানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই নীতি অনুসরণ করে সবাই যদি তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে দেশে বর্তমানে যে সমস্যাটি রয়েছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে।
এই ভাইরাসটি ধনী এবং গরিব উভয়ের জন্যই হুমকি নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাইরাসটি ধনী বা দরিদ্রদের জন্য একই ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না থাকার বিষয়টিই প্রমাণ করেছে।
একইভাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ত্র এবং অর্থের দিক থেকে যে দেশ যতই শক্তিশালী হোক না কেন সকলেই এই ভাইরাসের একই ধরণের শিকারে পরিণত হয়েছে এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা সর্বশক্তিমান ব্যতীত কারো নেই।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পুনরায় পবিত্র শবে বরাতের রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করেই দেশবাসীকে ইবাদত-বন্দেগী করার এবং দেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে করোনার কবল থেকে রক্ষার জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা করার আহবান জানান।
তিনি করোনা ভাইরাস ছাড়ানো প্রতিরোধের জন্য বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ, কোথাও জনসমাগম না করে বরং ঘরে অবস্থান করে রেডিও, টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সাহায্যে উদযাপনের আহবানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
করোনা ভাইরাসের বিপক্ষে লড়াইয়ে অবদান রাখার জন্য সংগঠনগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আপনারা যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের সবাইকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। জাতি আপনাদের এই অবদান চিরকাল স্মরণ করবে।
করোনা ভাইরাসের মহামারি প্রাদুর্ভাব বিশ্বব্যাপী বিরূপ প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি সকলে স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে চললে এই পরিস্থিতি আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে
৩১ কোটি টাকা অনুদান
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের
করোনা পরিস্থতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রায় ৩১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ১ দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এবং অনুদান বাবদ ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার ১১৮ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নিকট অনুদানের চেক প্রদান করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
এ সময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদানের চেক হস্তান্তর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের
করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের কাছে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিবের অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন এবং মেরিন ফিশারিজ একাডেমির কর্মকর্তাগণ বৈশাখী ভাতা ও কর্মচারীগণ একদিনের বেতন মিলিয়ে মোট ১ কোটি ১১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করে।
চেক হস্তান্তরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে অনুদান প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অনুদান
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দিলেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিগণ।
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর তার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিগণের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এ চেক হস্তান্তর করেন।