খেলা

ক্রিকেটের যেসব রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রিকেট খেলায় প্রায়ই কিছু রেকর্ড গড়তে দেখা যায় খেলোয়াড়দের। এর মধ্যে কিছু রেকর্ড সময়ের সঙ্গে, বছরের ব্যবধানে ভেঙে যায়, হয় নতুন রেকর্ড। আবার কিছু রেকর্ড কয়েক দশক পর্যন্তও টিকে থাকে। কিন্তু এই খেলায় এমন কিছু অসাধারণ রেকর্ড আছে, যা ভেঙে নতুন রেকর্ড করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হয়। নিচে এমন কিছু রেকর্ড তুলে ধরা হলো:

ডন ব্রাডম্যানের ৯৯.৯৪ টেস্ট
ব্যাটিং এভারেজ
ডন ব্রাডম্যান তার অসাধারণ ক্রিকেট নৈপূণ্যের জন্য ‘দ্য ডন’ নামে খ্যাত। অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটার ক্যারিয়ারের ৮০টি টেস্ট ইনিংসে ৯৯.৯৪ গড়ে রান তোলার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসে বিস্ময়কর ঘটনা। আজ পর্যন্ত তার ধারেকাছেও যেতে পারেননি কেউ। তালিকায় থাকা দ্বিতীয় খেলোয়াড় গড়ে ৬০ এর কিছু বেশি রান তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

মুরালির ১,৩৪৭ আন্তর্জাতিক উইকেট
শ্রীলঙ্কার হয়ে মুত্তিয়া মুরালিধরনের যখন ক্রিকেট অভিষেক হয়, তখন তার বয়স ছিল ২০। অসাধারণ বোলিং নৈপূণ্যে অল্প সময়েই ক্রিকেটে দারুণ সাফল্য পান তিনি, যদিও তার অস্বাভাবিক বোলিং স্টাইল বেশ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আইসিসি থেকে অনাপত্তিপত্রও পেয়ে যান তিনি। আর তার বোলিংয়ে কুপোকাত হতে থাকেন বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানরা।
অভিষেকের প্রায় ২০ বছর পর ডান হাতি অফ-ব্রেক বোলার মুরালির ঝুলিতে জমা হয় ৮০০ টেস্ট এবং ৫৩৪ ওয়ানডে উইকেট, যা স্ব স্ব বিভাগে অসাধারণ রেকর্ড হিসেবে নথিবদ্ধ। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে রয়েছে তার ১৩টি উইকেট।

জ্যাক হবসের ৬১ হাজার ৭৬০
প্রথম-শ্রেণির রান
জ্যাক হবস বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৯০৮ থেকে ১৯৩০ পর্যন্ত ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৬১টি ম্যাচ খেলেন তিনি। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৮৩৪টি, রান তুলেছেন ৬১ হাজার ৭৬০।

জিম লাকারের ১৯/৯০
টেস্ট ম্যাচ বোলিং ফিগার
১৯৪৮ সালের ২১ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিম লাকারের টেস্ট অভিষেক হয়। এরপর তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৪৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ১৯৫৬ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিরল কৃতিত্ব গড়েন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার ২০ উইকেটের মধ্যে তিনি একাই ১৯টি উইকেট তুলে নেন। এতে খরচ হয় মাত্র ৯০ রান।

রোডসের ৪,২০৪ প্রথম শ্রেণির উইকেট
উইলফ্রেড রোডস ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ১৮৯৯ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ৫৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ব্যাট হাতে এতে তিনি করেছেন ২ হাজার ৩৩৫ রান। আর বল হাতে পেয়েছেন ১২৭ উইকেট।
তার এই রেকর্ডটি এখানে আলোচ্য নয়। এখানে তার প্রথম শ্রেণির উইকেট রেকর্ডই আলোচ্য বিষয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি ৪ হাজার ২০৪ উইকেট পেয়েছেন।

২ বার অস্ট্রেলিয়ার টানা ১৬ টেস্ট জয়
ক্রিকেটবিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া। টেস্ট ইতিহাসে দু’বার টানা ১৬ টেস্ট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড অর্জন করেছে দেশটি।
প্রথমটি ছিল স্টিভ ওয়াহ এর নেতৃত্বে ১৯৯৯-২০০১ মেয়াদে। আর দ্বিতীয়টি ২০০৫-০৮ মেয়াদে রিকি পন্টিংয়ের অধীনে।

চামিন্দা ভাসের ৮/১৯ ওয়ানডে
আন্তর্জাতিক বোলিং ফিগার
ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা বোলিং রেকর্ডটি বাঁ-হাতি শ্রীলঙ্কান পেসার চামিন্দা ভাসের দখলে। তিনি ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বকালের সেরা এই বোলিং রেকর্ড করেন।
চামিন্দা ভাসই একমাত্র বোলার যিনি এখন পর্যন্ত একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক ম্যাচে ৮টি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হন।
২০০১ সালের ৮ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার কলোম্বোতে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে চামিন্দা ভাসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে মাত্র ৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বনিম্ন স্কোর।

গ্রাহাম গুচের এক টেস্টে ৪৫৬ রান
ঘটনা ১৯৯০ সালের। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে এক টেস্টে ৪৫৬ রান তোলার গৌরব অর্জন করেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক গ্রাহাম অ্যালান গুচ। ওই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে তিনি করেন ৩৩৩ রান। এরপর আউট হয়ে যান। দ্বিতীয় ইনিংসে অল্প সময়েই ১২৩ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেন। এক টেস্টে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ রান।

একদিনের ম্যাচে সিমন্সের ০.৩ ইকোনমি রেট
১৯৯২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার ফিল সিমন্স মাত্র ৩ রান খরচ করে ০.৩ ইকোনমি রেটে ১০ ওভার বল করেন। তার এই অসাধারণ বোলিং পারফম্যান্স আজও পর্যন্ত রেকর্ড হয়ে আছে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ইতিহাসে।

গেইলের ৩০ বলে টি-টোয়েন্টি শতক
২০০৪ সালে ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি সংস্করণের শুরুর দিকে ইংলিশ কাউন্টি দল কেন্টের হয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস মাত্র ৩৪ বলে শতক হাঁকিয়ে রেকর্ড করেন। তার এই রেকর্ডটি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০১৩ পর্যন্ত অক্ষুণœ ছিল। কিন্তু ওই বছর আইপিএলে রয়েল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরুর হয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল অপরাজিত ১৭৫ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার এই অবিশ্বাস্য রান আসে মাত্র ৩০ বলে। সেদিন থেকে এটি ক্রিকেট ইতিহাসে দ্রুততম শতক হিসেবে রেকর্ড বুকে স্থান পায়। এর মাধ্যমে গেইল নিউজিল্যান্ডের ব্র্যান্ডন ম্যাককুলামের অপরাজিত ১৫৮ রানের রেকর্ডও ভেঙে দেন।