কলাম

তীক্ষè বুদ্ধিমত্তা আর অসাধারণ স্মৃতিশক্তির নিখুঁততম মানুষ

মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী এ দেশে প্রায় সবার কাছে ‘জেআরসি’ স্যার নামে পরিচিত। রাষ্ট্র তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে সম্মান দিয়েছে; তবে তিনি এর অনেক আগে থেকেই এ দেশের প্রায় সবার ‘স্যার’।
একজন মানুষ কী পরিমাণ সত্যিকারের কাজ করতে পারে সেটা প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরীকে নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই খবর পেয়েছি তিনি আর নেই।
খবরটা পাওয়ার পর থেকেই এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করছি। তার কথা নয়, আমাদের নিজেদের কথা মনে হচ্ছে। স্বার্থপরের মতো মনে হচ্ছে, এখন আমাদের কী হবে? কে আমাদের দেখেশুনে রাখবে? কে আমাদের বিশাল মহীরুহের মতো ছায়া দিয়ে যাবে? বিপদে-আপদে কে আমাদের বুক আগলে রক্ষা করবে?
আমাদের স্বপ্নগুলো সত্যি করে দেয়ার জন্য এখন আমরা কার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকব?
আমি জানি, তার শূন্যস্থান পূরণ করার মতো কেউ নেই। অনেকেই আছেন যারা একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ, কিন্তু জীবনের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের সবগুলোতে সমানভাবে দক্ষ এবং তাদের সবগুলোর মাঝে এক ধরনের বিস্ময়কর সমন্বয় আছে এরকম মানুষ আমি খুব বেশি দেখিনি।
তার প্রায় অলৌকিক মেধার সঙ্গে যোগ হয়েছিল সত্যিকারের বাস্তব অভিজ্ঞতা; সবচেয়ে বড় কথা, তিনি ছিলেন শতভাগ খাঁটি মানুষ। সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এ দেশের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, সবচেয়ে নির্ভরশীল একজন মানুষ। কর্মজীবনে প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
এ দেশের সব বড় বড় ভৌত অবকাঠামোর সঙ্গে তিনি কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন। তার পাশাপাশি দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের যে উদ্যোগ সেখানেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দেশে গণিত অলিম্পিয়াডের যে আন্দোলন সেখানেও তিনি আমাদের সামনে ছিলেন।
এ দেশের সবাই জানে, যে কোনোভাবে তাকে যদি কোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দিয়ে দেয়া যেত, তারপর আর সেটি নিয়ে কারও মাথা ঘামাতে হতো না।
প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৯৮ সালের দিকে, যখন তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে এসেছিলেন। এটি বিস্ময়কর যে, ঘটনাক্রমে তার সঙ্গে আমার শেষ কথাটিও হয়েছে সেই সমাবর্তনের বক্তব্যটি নিয়ে।
কিছুদিন আগে আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি কোনোভাবে তার সেই বক্তব্যটির একটি কপি সংগ্রহ করে দিতে পারব কিনা, তিনি তার নিজের কাছে সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না। কাগজপত্র সংরক্ষণের ব্যাপারে আমার থেকে খারাপ কেউ হতে পারে না; কিন্তু আমার কোনো কোনো সহকর্মী সে ব্যাপারে অসম্ভব ভালো।
সেরকম একজন আমাকে প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরীর সমাবর্তন বক্তব্যটি বের করে দিয়েছিল, আমি সেটাই তাকে পাঠিয়েছিলাম। প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী সেটা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন। সেটাই তার সঙ্গে আমার শেষ যোগাযোগ।
তিনি আমাদের সঙ্গে আর নেই খবরটি পাওয়ার পর সুদীর্ঘ ২২ বছর পর আমি তার সমাবর্তন বক্তব্যটি আবার পড়েছি। আমি এক ধরনের বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করেছি, প্রায় দুই যুগ আগে তিনি কত নিখুঁতভাবে আমাদের দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করেছিলেন।
সমস্যা চিহ্নিত করে তিনি সেগুলো নিয়ে অভিযোগ করে তার দায়িত্ব শেষ করে দেননি, তিনি তার সম্ভাব্য সমাধানগুলোর পথ দেখিয়ে ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা।
‘কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সেবা রফতানির সম্ভাবনা ও সমস্যা’ চিহ্নিত করার জন্য একটি কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, সেটি ব্যবহার করে আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তির ভিত্তি গড়ে উঠেছিল।
সমাবর্তন বক্তব্যে তিনি আমাদের ছাত্রছাত্রীদের সেই বিষয়গুলো নিয়ে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন (ঘটনাক্রমে এর ঠিক ২০ বছর পর জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের অনুরোধে আমি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে সমাবর্তন বক্তার বক্তব্য দিয়েছিলাম। তার বক্তব্যের তুলনায় আমার বক্তব্য ছিল সারবস্তুহীন প্রায় ছেলেমানুষি বক্তব্য!)।
আমি ভিন্ন শহরের ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম; কিন্তু নানা ধরনের কাজের কারণে তাকে আমি যথেষ্ট কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তার সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যেত এই সহজ-সরল অনাড়ম্বর মানুষটি কত তীক্ষè বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।
শুধু যে তীক্ষè বুদ্ধিমত্তা তা নয়, তিনি ছিলেন অসাধারণ স্মৃতিশক্তির অধিকারী। প্রফেসর মোহাম্মদ কায়কোবাদের একটি বইয়ের নাম ‘গণিতের সমস্যা ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে গল্প’, সেই বইয়ে তিনি পৃথিবীর অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী ও গণিতবিদের সঙ্গে প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তির কিছু উদাহরণ দিয়েছেন।
সেগুলো অবিশ্বাস্য, যেমন : তিনি ঢাকা কলেজে

তার ১২০ জন সহপাঠীর নাম ও রোল নম্বর ৫০ কিংবা ৬০ বছর পরও হুবহু বলে দিতে পারতেন। একবার জাপান সরকারের উদ্যোগে ব্যাংককের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তার সঙ্গে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তখন বেশ কয়েকটি দিন তাকে আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি।
নানা বিদেশির ভেতর শুধু আমরা দুজন বাংলাদেশের, তাই বেশ কয়েকটি দিন আমি তার সঙ্গে খুব অন্তরঙ্গভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখন অসাধারণ প্রতিভাবান একজন অত্যন্ত সফল মানুষের ভেতরকার সহজ-সরল মানুষটির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল।
প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী তার উপস্থাপনার কারণে বলা যায় তিনি একাই পুরো সম্মেলনটি নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরকম একজন মানুষকে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নেতৃত্ব দিতে দেখলে যেকোনো মানুষের বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা পাল্টে যেতে বাধ্য। তিনি প্রায় অলৌকিক একটা মস্তিষ্কের অধিকারী ছিলেন এবং তিনি নিজে সেটাকে শানিত রাখতেন, কখনই এই মহামূল্যবান জিনিসটির অপব্যবহার করেননি।
অন্য কিছু করার না থাকলে তিনি আপন মনে সুডোকোর জটিল ধাঁধা সমাধান করে যেতেন। তার সঙ্গে কথা বলা কিংবা তার কথা শোনা একটা আনন্দময় অভিজ্ঞতা, পৃথিবীর এমন কোনো চমকপ্রদ তথ্য নেই যেটি তিনি জানতেন না। একজন মানুষ কেমন করে এত কিছু জানতে পারে সেটি তাকে নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হতে চায় না।
আমার জন্য তার সম্ভবত এক ধরনের দুর্ভাবনা ছিল। সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে যখন মাঝে মাঝেই নানা ধরনের বিপদের মুখোমুখি হতে শুরু করেছি, তখন একবার তিনি আমাকে ফোন করে জানতে চেয়েছিলেন আমি ঢাকা চলে আসতে চাই কিনা।
ততদিনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের জন্য এক ধরনের মায়া জন্মে গেছে, তাই আমি আর সিলেট ছেড়ে যাইনি। আমার মতো এরকম আরও কত মানুষকে তিনি না-জানি কত বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন!
মনে আছে, একবার তিনি ফোন করে আমার বাসার ঠিকানা জানতে চাইলেন। আমি কারণ জিজ্ঞেস করলাম। স্যার বললেন, তিনি তার মেয়ের বিয়ের কার্ড দিতে আসবেন।
ঢাকা শহরে শুধু বিয়ের কার্ড দেয়ার জন্য একজনের বাসায় যাওয়ার মতো দুঃসাধ্য কাজ আর কী হতে পারে? আমি স্যারকে বললাম, কার্ড দিতে হবে না, আমাকে শুধু বিয়ের দিনক্ষণটি জানিয়ে দেন, আমি হাজির হয়ে যাব। কিংবা খামের উপর ঠিকানা লিখে কুরিয়ার করে দেন, আমি পেয়ে যাব।
স্যার রাজি হলেন না, তিনি আমাদের বাঙালি ঐতিহ্য মেনে নিজের হাতে মেয়ের বিয়ের কার্ডটি পৌঁছে দেবেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি নিজে আমার বাসায় এসে তার মেয়ের বিয়ের কার্ডটি আমার হাতে তুলে দিয়ে গেলেন (জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের এই মেধাবী মেয়েটি এমআইটিতে তার বাসায় দাওয়াত করে আমাদের পুরো পরিবারকে রান্না করে খাইয়েছিল।
করোনা ভাইরাসের কারণে পুরো পৃথিবী আটকা পড়ে আছে, মেয়েটি এখন নিশ্চয়ই কত মন খারাপ করে কোনো দূর দেশে বসে আছে। ছেলেটিও এখানে নেই, শুধু স্যারের স্ত্রী আছেন। তার জন্য খুব মন খারাপ হচ্ছে, কারণ তিনি শুধু স্যারের স্ত্রী নন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আমাদের সবার এমি আপা)।
আমি জানি না, জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যারের মাথায় মৃত্যুচিন্তা এসেছিল কিনা। আন্তর্জাতিক আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতাটি স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে ২০২১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন করার মূল কাজটি তিনি করেছিলেন। তার একজন আপনজন যখন একবার তাকে এই প্রতিযোগিতাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল, তখন তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, জানি না, তখন আমি বেঁচে থাকব কিনা।
তিনি কি অনুমান করেছিলেন যে তিনি আর বেশিদিন থাকবেন না? এই নিখুঁততম মানুষটি ছাড়া আমরা কেমন করে এ দেশের তরুণদের নিয়ে, কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস করব?

জামিলুর রেজা চৌধুরী
তাঁর অবদান অতুলনীয়

চলে গেলেন জাতীয় অধ্যাপক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জামিলুর রেজা চৌধুরী। ২৮ এপ্রিল ভোররাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। জানা যায়, ২৭ এপ্রিল রাতে ধানমন্ডির বাসায় জামিলুর রেজা চৌধুরী ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে সেহরির সময় তার স্ত্রী তাকে ডাক দেন। কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। জামিলুর রেজা চৌধুরীর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। জামিলুর রেজা চৌধুরী সর্বশেষ ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
জামিলুর রেজা চৌধুরী বাংলাদেশের প্রকৌশল জগতে সবার পরিচিত নাম। বাংলাদেশের অগ্রগণ্য প্রকৌশলী তিনি। একাধারে তিনি গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী ছিলেন। তার জন্ম ১৯৪৩ সালে, সিলেটে। তার বাবা আর ভাইসহ পরিবারের অনেক সদস্যই প্রকৌশলী ছিলেন। স্বাধীনতার পর এ দেশে যত বড় বড় ভৌত অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, তার প্রায় প্রতিটির সঙ্গেই জামিলুর রেজা চৌধুরী কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিলেন। যুক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে। হাত দেন পদ্মা সেতু নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞে। জামিলুর রেজা চৌধুরী এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাজের ডাক পেয়েছিলেন বিখ্যাত আরেক বাংলাদেশি প্রকৌশলী এফ আর খানের কাছ থেকে। দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অবদানের জন্য সমাদৃত জামিলুর রেজা চৌধুরীর প্রায় ৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার আর সম্মাননা। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট স্বর্ণপদক, ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে পাওয়া সম্মানসূচক ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি। এক সময় বুয়েটে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। দায়িত্ব পেয়েছিলেন ১৯৯৬ সালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও। উপাচার্য ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির। এ ছাড়া বাংলাদেশে আর্থকোয়াক সোসাইটি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অনেক দিন ধরে। একুশে পদক পাওয়া এই শিক্ষককে ২০১৮ সালে সরকার জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। ব্যক্তি জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও সদালাপী। নিরহংকার ও সাদামাটা জীবনযাপনের অধিকারী এই মানুষটির অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।