খেলা

মুশফিকের সেরা ১০

স্বদেশ খবর ডেস্ক
মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের সেরা ১০ করা বেশ কঠিন। তিনি ব্যাটসম্যান হিসেবে দারুণ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে উইকেটকিপার হিসেবে অনেক কীর্তি। আবার কয়েক বছর জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন। তাই তার সেরা ১০ রেকর্ডের তালিকা বানাতে গিয়ে রীতিমতো গলদঘর্ম অবস্থার শিকার হবেন যেকেউ।
যতটা ধারণা করা যায় বিশ্ব ইতিহাসের বইয়ে তারও চেয়ে অনেক বেশি অধ্যায়ে মুশফিকের নাম। তার ওপর ২০০৫ সাল থেকে খেলছেন। তার সমসাময়িক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের সংখ্যাও এখন কম। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের সংখ্যা আরও বেশি কম। তারপরও বাছাই করে শেষে স্বদেশ খবর পাঠকদের জন্য মুশফিকের সেরা দশের এই রেকর্ড তালিকা উপস্থাপন করা হলো।
১ ক্যাপ্টেন কাম উইকেটকিপার হিসেবে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চের বিশ্বরেকর্ডে ২ নম্বর: কোনো দেশের ক্যাপ্টেন ও উইকেটকিপার হিসেবে খেলে টেস্টে সেঞ্চুরির রেকর্ডের তালিকায় মুশফিকুর রহিমের নাম ৪টি ভিন্ন অবস্থানে। তবে অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক হিসেবে টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের বিশ্বরেকর্ডের ২ নম্বরে মুশফিকের নাম। ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কায় খেলেছিলেন ২০০ রানের ইনিংস। ভারতের এমএস ধোনির ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির ২২৪ রানের ইনিংসটি বিশ্বরেকর্ড। ১৬ সেঞ্চুরির এই রেকর্ড তালিকার চতুর্থ, দশম ও ১১তম স্থানেও মুশফিক।
২ ক্যাপ্টেন কাম উইকেটকিপারের যুগল দায়িত্বের রেকর্ডে বিশ্বের নাম্বার টু: ক্যাপ্টেন। আবার উইকেটকিপারও। এমন রেকর্ডে টেস্ট ইতিহাসে মুশফিকুর রহিম নাম্বার টু। ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক হিসেবে ২৮ ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্ব ইতিহাসে মুশফিকের চেয়ে বেশি ম্যাচে ক্যাপ্টেন কাম উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলার রেকর্ড মাত্র একটি। ভারতের এমএস ধোনি ৬০ ম্যাচে এই যুগল দায়িত্ব পালন করেছেন।
৩ উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসে নাম্বার ফোর: বর্তমান বিশ্বে যারা খেলার মধ্যে আছেন তাদের মধ্যে উইকেটকিপার হিসেবে টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটির মালিক মুশফিকুর রহিম। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন ২১৯ নটআউট ইনিংসটি। তবে বিশ্ব ইতিহাসে তার অবস্থান নাম্বার ফোরে। এমএস ধোনির ২২৪, কুমার সাঙ্গাকারার ২৩০ ও অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের অপরাজিত ২৩২ কেবল মুশফিকের চেয়ে বেশি।
৪টেস্টের এক সেশনে সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটসম্যান: প্রায় দেড়শো বছরের টেস্ট ইতিহাসে এক সেশনে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড আছে মোট ৮২টি। বাংলাদেশের পক্ষে এমন এক সেশনে সেঞ্চুরি করার গৌরব আছে কেবল মুশফিকুর রহিমের। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে দিনের দ্বিতীয় সেশনে এটি করেছিলেন মুশফিক। ওটা অবশ্য স্ট্যান্ডার্ড ১২০ মিনিটের সেশন নয়, ছিল এক্সটেনডেড সেশন।
৫ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলায় ১ নম্বর: বাংলাদেশের ইতিহাসে টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডে মুশফিকুর রহিম ১ নম্বরে। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত খেলেছেন মোট ৩৭৪টি ম্যাচ। এর মধ্যে ৭০টি টেস্ট, ২১৮টি ওয়ানডে এবং ৮৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
৬ দেশকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডে ২ নম্বর: তিন সংস্করণের ম্যাচ মিলে দেশকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ডে মুশফিকুর রহিম ২ নম্বরে। সব মিলে ১১৭ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা ১ নম্বরে। মুশফিক ৯৪ ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪টি টেস্ট, ৩৭টি ওয়ানডে এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
৭ দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ডে ১ নম্বর: বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর থেকে ২০১৭র ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩৪ টেস্টে দেশকে নেতৃত্ব দেন। ভেঙেছিলেন হাবিবুল বাশার সুমনের ১৮ টেস্টে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ড। বাংলাদেশকে টানা সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ডও মুশফিকের। সংখ্যাটা ২৭।
৮ তিন সংস্করণেই সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালে দেশের ১ নম্বর: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই উইকেটকিপার হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি ডিসমিসালের রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের। ৩৯৭টি। ৩০৯ ক্যাচ। ৮৮ স্টাম্পিং। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টিতেও আলাদা আলাদা করে রেকর্ডটা তার। টেস্টে ১১৩, ওয়ানডেতে ২২৩ এবং টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের ৬১ ডিসমিসালের কীর্তি।
৯ ওয়ানডে ডিসমিসাল, স্টাম্পিং ও ক্যাচের রেকর্ডে এখন ১ নম্বর: এখনো খেলছেন এমন উইকেটকিপারদের মধ্যে ওয়ানডের ডিসমিসাল, স্টাম্পিং ও ক্যাচিংয়ের রেকর্ডে মুশফিকুর রহিম বিশ্বের ১ নম্বর। ২২৩ ডিসমিসালে বিশ্ব ইতিহাসে এই রেকর্ডে ৮ নম্বর। ৪৪ স্টাম্পিংয়ে ওয়ানডের ইতিহাসে যুগ্মভাবে ষষ্ঠ। আর ১৭৯ ক্যাচিংয়ে দুনিয়ার ইতিহাসে ১১তম স্থানে মুশফিক।
১০ দেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডে ২, টেস্টে ১ নম্বর: টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলে বাংলাদেশের পক্ষে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রান করার রেকর্ডে মুশফিকুর রহিম ২ নম্বরে। ২০০৫ থেকে এ পর্যন্ত ৩৭৪ ম্যাচে ১১ হাজার ৮৬৯ রান মুশফিকের। ১ নম্বরে থাকা তামিম ইকবালের ১৩ হাজার ৩০৮। অবশ্য ৪ হাজার ৪১৩ রান নিয়ে টেস্টে মুশফিক ১ নম্বরে। দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানে ওয়ানডেতে তিনি ৩ ও টি-টোয়েন্টিতে ৪ নম্বরে।