আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সামনে কঠিন সময়

স্বদেশ খবর ডেস্ক
মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে ইতালি ও স্পেনে মৃত্যুহার আগের দিনগুলোর চেয়ে কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আর যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে এই মহামারী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে ফের ‘কঠিন দুই সপ্তাহের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। আর যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের দেশে ভাইরাসটির সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় সামনের সপ্তাহ। ফ্রান্সে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। ৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কেই আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার পেরিয়ে গেছে, মৃত্যুর সংখ্যা অতিক্রম করেছে ৪ হাজার।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল চীনে, গত বছরের শেষ দিনে। এরপর গত ৩ মাসে করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২০৩টি দেশ ও অঞ্চলে।
বাংলাদেশ সময় ৫ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ২৬ হাজার ৬৫০ জনে। আর মারা গেছে ৬৬ হাজার ৫৫০ জন। আরোগ্য লাভ করেছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৬৪ জন। আর এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৯ লাখ ৩৬ হাজার জন। এদের মধ্যে ৪৪ হাজার ৭০৪ জনের অবস্থা গুরুতর।
৬ এপ্রিল সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৩ লাখ ১২ হাজার জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ৪৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে এসেছে স্পেন। দেশটিতে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৯ জন। মারা গেছে ১২ হাজার ৪১৮ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি এখনো সবার ওপরে। দেশটিতে মারা গেছে ১৫ হাজার ৩৬২ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৩২ জনে। ফ্রান্সে মারা গেছে ৭ হাজার ৫৬০ জন। আর আক্রান্ত ৮৯ হাজার ৯৫৩ জন।
অবশ্য ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানি আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে আছে ফ্রান্সের চাইতে। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৯৭ হাজার ৩৫১ জন। তবে সে তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। দেশটিতে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ৪৭৯ জন। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৩ জন।
ইউরোপের আরেক দেশ যুক্তরাজ্যেও মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজার ছুঁই ছুঁই। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সেখানে মারা গেছে ৪ হাজার ৯৩৪ জন। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৮০৬ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২১ হাজার ১০০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের। নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬৬ জনের। বেলজিয়ামেও রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ১ হাজার ৪৪৭ জন। তুরস্কে ২৩ হাজার ৯৩৪ আক্রান্ত। মারা গেছে ৫০১ জন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ২২৬ আর মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৬০৩ জনের।
অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, সুইডেন, নরওয়ে, আয়ারল্যান্ড, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, রাশিয়া, লুক্সেমবার্গেও রোগীর সংখ্যা প্রতি দিনই বাড়ছে। ওই সব দেশে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। আমেরিকার কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, পানামা, পেরু, আর্জেন্টিনায় রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার রোগীর সংখ্যাও প্রায় আড়াই হাজার।
এশিয়ায় চীন ও ইরানের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দক্ষিণ কোরিয়ায়। রোগী বাড়ছে ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, লেবানন, বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে। মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও ঝুঁকির বাইরে নেই কোনো দেশই।