খেলা

সর্বকালের সেরা তিন ফুটবলার

স্বদেশ খবর ডেস্ক
যেকোনো খেলার ক্ষেত্রেই সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা খুব কঠিন। ফুটবল মহারথিদের অনেকেই তাদের সময় ছাড়িয়ে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়ার দাবিদার। কিন্তু সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্বাচন করা খুব কঠিন। কারণ যদি আপনি কোনো আর্জেনটাইনকে জিজ্ঞেস করেন, তবে সে হয়তো ম্যারাডোনা বা মেসিকে বেছে নেবে, আবার কোনো ব্রাজিলিয়ানকে বললে তারা বলবে, পেলে। তেমনি ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে ববি চার্লটন, ফ্রান্সের ক্ষেত্রে জিদান।
এ ক্ষেত্রে সর্বকালের সেরা ৩ ফুটবলার নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বদেশ খবর যতটা সম্ভব নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছে। আর খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের স্কিল, ট্রফি, খেলাটির ওপর তার কর্তৃত্ব, জনপ্রিয়তা ইত্যাদি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

পেলে
অনেকের মতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলে। তিনি ২৩ অক্টোবর ১৯৪০ সালে ব্রাজিলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শুধু ফুটবল খেলার গ্রেটই না, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ১৯৯৯ সালে তাকে ‘অ্যাথলেট অব দ্য সেঞ্চুরি’ সম্মানে ভূষিত করে। তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতেন এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন।
পেলে ছিলেন একজন কমপ্লিট ফুটবলার। তিনি একাধারে অ্যাথলেট, কৌশলী, বুদ্ধিমান, গতিময় এবং একজন সত্যিকারের গোল স্কোরার। বাইসাইকেল কিকের মতো আরো অনেক কঠিন মুভও তিনি সহজেই করে ফেলতেন। ফুটবলের ওপর তার প্রভাবের কারণেই তাকে গ্রেটেস্ট বলা হয়। ১৬ বছর বয়সে প্রথম ম্যাচ থেকে ক্যারিয়ারজুড়েই ফুটবল খেলার ওপর তিনি কর্তৃত্ব করেছেন। তার সময়ে তিনি ছিলেন একচ্ছত্র রাজা।
পেলে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে ১৩৬৩ ম্যাচে ১২৮১টি গোল করেছেন, যে রেকর্ডটি এখনও কেউ ভাঙতে পারেনি। এর মধ্যে তিনি ৬ বার ৫ গোল, ৩০ বার ৪ গোল এবং ৯২ বার ৩ গোল নিয়ে ম্যাচ শেষ করছেন। তার ১০০০তম গোলটি আসে মারাকানা স্টেডিয়ামে পেনাল্টি গোলের মাধ্যমে। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ এবং ১৯৫৯ সালের কোপা আমেরিকা জিতেছেন।

ডিয়াগো ম্যারাডোনা
সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে সব সময়ই বিতর্ক থাকবে। পেলে নাকি ম্যারাডোনা? কাকে রেখে কাকে রাখা হবে? তবে দুজনের স্কিল, ট্রফি, খেলাটির ওপর কর্তৃত্ব, জনপ্রিয়তা ইত্যাদি বিবেচনা করে পেলের সমকক্ষই বলা চলে ডিয়াগো ম্যারাডোনাকে।
তিনি আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আয়ার্সের ভিয়া ফিওরিটোতে জন্মগ্রহণ করেন। ম্যারাডোনা এমন একজন আর্জেন্টাইন গ্রেট ফুটবলার যার পুরো ক্যারিয়ারে সাফল্য ও বিতর্ক Ñ দু’টোই আছে। তিনি ছিলেন একজন চমৎকার প্লে মেকার। ম্যারাডোনার নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জেতে। ক্লাব পর্যায়ে তিনি ইতালির ন্যাপোলি দলের হয়ে খেলেছেন।
ম্যারাডোনা ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। বল পায়ে তিনি ছিলেন দারুণ ড্রিবলার। উচ্চতায় ছোট হওয়ার কারণে তিনি দ্রুত নড়াচড়া করতে পারতেন। তাই তাকে থামানো ছিল অনেকটাই অসাধ্য। জাতীয় দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা ৩৪। অধিনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জেতে এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়। ক্লাব পর্যায়ে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে তিনি ১৯৮৩ লা লীগা শিরোপা জয় করেন। আর ইতালির দল ন্যাপোলির হয়ে দুইটি সিরি আ শিরোপা এবং একটি ইউয়েফা কাপ জিতেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডোপ টেস্টে ফেল করার পরই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে।
খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ নিযুক্ত হন। কোচ হিসেবে তার খেলানোর ধরন একেবারে খারাপ না হলেও ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে আর্জেন্টিনার ৪-০ গোলে হারের পরই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার ইতি হয়। এরপর তিনি সৌদি আরবের ক্লাব দল আল ওয়ালসের কোচের দায়িত্বও পালন করেন।

লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ২৪ মার্চ ১৯৮৭ সালে জন্ম নেন। মেসি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং ক্লাব পর্যায়ে বার্সেলোনার হয়ে খেলেন। মেসি নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলার। তিনি সাধারণত ফরোয়ার্ড হলেও প্লে মেকার এবং মিডফিল্ডার হয়েও খেলেন।
মেসির আছে অসাধারণ সব টেকনিক। অনেক ফুটবলপ-িত, খেলোয়াড় ও কোচের মতে, মেসিই ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবল খেলোয়াড়। বল পায়ে তার ড্রিবলিং আর গতিতে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব। এমনকি ডিফেন্ডাররা পর্যন্ত তার খেলা দেখে মেহিত হয়ে যায়। ড্রিবলিংয়ের সময় যেন মনে হয়, তার পায়ের সাথে হয়ত বলটি গ্লু দিয়ে লাগানো রয়েছে। ফ্রি কিকে গোল করাও তার অন্যতম সৌন্দর্য। আর ৫-৬ জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দৃষ্টিনন্দন গোলও তিনি কম করেননি।
খেলোয়াড় হিসেবে প্রায় সব ব্যক্তিগত রেকর্ড আর ট্রফিই মেসি জিতেছেন। ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি টানা ৪ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টপ স্কোরার হন। তিনি প্রথম প্লেয়ার হিসেবে টানা ৪ বার ব্যালন ডি’অর এবং মোট ৫ বার ফিফা ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। তিনি সবচেয়ে কম বয়সে লা লীগায় ২০০ গোল করা খেলোয়াড় এবং এই প্রতিযোগিতায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। বার্সেলোনার হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলও মেসিরই। ২০১২ সালে ৯১ গোল করে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি অফিসিয়াল গোল করার জন্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার নাম ওঠে।
শুধু গোল করাই নয়, গোল করানোতেও মেসি দারুণ পারদর্শী। আর তাই লা লীগায় সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট মেসির।