প্রতিবেদন

একনেকে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ২০ কোটি করে টাকা বরাদ্দ পাচ্ছেন স্থানীয় সাংসদরা। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী রাস্তাঘাট, সেতু- কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামতে এই অর্থ কাজে লাগানো হবে। করোনা ভাইরাসের কারণে গ্রামীণ অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামাাঞ্চলে অর্থ প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এ কারণে শুধু গ্রামাঞ্চলের সাংসদদের মাধ্যমেই অর্থ দেয়া হবে। শহরাঞ্চলের সাংসদরা এই সুবিধা পাবেন না। তবে এ অর্থ ব্যয়ে সাংসদদের গুণগত মান নিশ্চিতে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২১ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হন তিনি। এ সময় ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩’ নামে এই প্রকল্প অনুমোদনকালে এ নির্দেশ দেন তিনি। এমপিদের জন্য বছরে ৫ কোটি টাকা করে মোট ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। এ মাসেই শুরু হচ্ছে প্রকল্পটি। শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে।
শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেকের সভা শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে একনেকে অনুমোদিত সব প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামকে অগ্রাধিকার দেন। গ্রামীণ জনপদকে উন্নত করতে চান তিনি। এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ নিয়ে চিন্তিত। তিনি চান, মানসম্পন্ন কাজ। এ জন্য কাজের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এই দায়িত্বে কাজ জোরদার করবে। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতে সাশ্রয়ের চিন্তা না করে এই সময়ে এ রকম কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নেয়ার কী প্রয়োজন ছিল এ প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতে অর্থ প্রবাহ বাড়বে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। এ ছাড়া সরকারের অর্থসংকট নেই। বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে ২৫ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা দিয়েছে।
এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকার করোনা ভাইরাসের মধ্যেও উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জানি করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও অন্ততপক্ষে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যে ধারাবাহিকতটা বজায় রেখে উন্নয়নের মূল গতিটা ধরে রাখার। যে কারণে আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
একনেকে মোট ১০ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থ জোগানের মাধ্যমেই প্রকল্পগুলো
বাস্তবায়ন করা হবে। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি (দ্বিতীয় সংশোধিত), মনু নদীর ভাঙন থেকে মৌলভীবাজার জেলার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলা রক্ষা প্রকল্প,অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩, বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত), হাওরাঞ্চলে টেকসই পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও হাইজিনব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জামালপুর জেলা কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত), টেকেরহাট-গোপালগঞ্জ (হরিদাসপুর)-মোল্লারহাট (ঘোনাপাড়া) আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তকরণ, রেলওয়ের ১০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ পুনর্বাসন (দ্বিতীয় পর্যায়), বিএএফও বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ।
এনইসি সম্মেলন কক্ষের সভায় অর্থমন্ত্রী
আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ অন্যান্য মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।