রাজনীতি

করোনা প্রতিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোতে বাহাস চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনা প্রতিরোধ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাহাস চলছেই। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বলছে, করোনা প্রতিরোধে তারা জনগণের জন্য অহোরাত্র কাজ করছেন। অপরদিকে বিএনপি বলছে, করোনা প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ কোনো কাজই করছে না, উল্টো তারা বিএনপিকে ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। কিছু দল সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি তুলছে। অনেকে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এমন অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে বলেছেন, কর্মভীরু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন। ১৫ জুন দলটির দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা ভাইরাসের আগ্রাসী তা-বে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্রতিদিনের যাপিত জীবন পতিত হয়েছে এক অবর্ণনীয় সংকটে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকা এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। করোনার ফলে সৃষ্ট সংকটময় এই সময়ে সাংবাদিক বন্ধুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে চলেছেন। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে
সংবাদকর্মীরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে অগ্রগণ্য। অধিকাংশ গণমাধ্যমের কর্মীরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে চলেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল এইসব সাংবাদিক বন্ধুদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণমাধ্যম সত্য প্রচারে শঙ্কিত। আমরা বলতে চাই, গণমাধ্যম হলো চলমান সমাজের দর্পণ। তারা সত্য প্রচারে নির্ভীক। বরং বিএনপির সৃষ্ট গুজব প্রচারে অনীহ। দেশবাসী লক্ষ্য করেছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন আন্দোলনে সরকারবিরোধী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে বিএনপি কীভাবে গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং গুজবভিত্তিক রাজনীতির বৈধতা দিয়েছে। সেই কারণে সংকটময় এই সময়ে জনগণের পাশে না দাঁড়ানো বিএনপির মিডিয়াবাজির রাজনীতিতেও ভাটা পড়ায় তারা গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মভীরু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বাক্যালাপে বীরত্ব প্রদর্শন করছেন।
বিবৃতিতে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতার পর পর সদ্য স্বাধীন দেশে দেশবিরোধী নানা অপতৎপরতা শুরু হয়। দেশের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ না থেকে বিদেশের টাকায় রাতারাতি সংবাদপত্র প্রকাশ করে জাতীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে জাতিকে রক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান হয়ে সাম্যভিত্তিক সমাজ নির্মাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘গণতন্ত্র’ প্রত্যয়টির চেয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি কায়েম না হলে গণতন্ত্র টেকসই হবে না। বাকশাল ছিল সেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রা এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজেই বাকশালের কার্যকরী সদস্য ছিলেন। বাকশাল কোনো একদলীয় ব্যবস্থা ছিল না। এটি ছিল সব মত-শ্রেণি-পেশার সমন্বয়ে একটি জাতীয় দল।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৪টি পত্রিকা ছাড়া সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। তার জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য মিলে ১২৬টির মতো সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কথায় কথায় বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেন দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে যদি গণতন্ত্র না-ই থাকে তাহলে বিএনপির নেতারা কীভাবে সরকারের বিরুদ্ধে এত মিথ্যাচার করার সুযোগ পান?
অন্যদিকে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা মো. হারুনুর রশীদ। ১৫ জুন সংসদ অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
হারুনুর রশীদ বলেন, করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। পৃথিবীর চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অবশ্যই জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা রাখি। এ সময় তিনি জাতির মধ্যে থাকা ক্ষতগুলো দূর করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় হারুনুর রশীদ আরও বলেন, ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা সংসদে আসছি। ১৩ জুনও দুজন মন্ত্রী-এমপি মারা গেছেন। সারা বিশ্ব নিঃসন্দেহে একটি কঠিন অবস্থায় পড়েছে।
হাসপাতালগুলোর দূরবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘এমপি-মন্ত্রীরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন না। সিএমএইচ বা প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছেন। এটিই বাস্তবতা।’ এ দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা কী? সরকারি হাসপাতালগুলোর কী অবস্থা? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মতো একটি স্পেশালাইজড হাসপাতালে এখন পর্যন্ত করোনা চিকিৎসা চালু করা যায়নি, আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। সেখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই। অথচ গণস্বাস্থ্যের মতো একটি প্রতিষ্ঠান কডিড-১৯ পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছে। সেই কিটের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার, কী কারণে দিচ্ছে না তারও কোনো ব্যাখ্যাও নেই। অনুমোদন দিতে কেন এত সময় লাগছে?
হারুনুর রশীদ বলেন, ‘গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত কিট অনুমোদন দিতে পারলে উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারতাম। গণস্বাস্থ্যের মতো প্রতিষ্ঠান যদি এ ধরনের কিট উদ্ভাবন করতে পারে, বিএসএমএমইউতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক-গবেষকদের দিয়ে সেখানে কী কাজ হচ্ছে?’
করোনার নমুনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘরে ঘরে উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, নমুনা পরীক্ষা হার বাড়াতে। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ, প্রতিদিন মাত্র ৮-১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করছি, তার ফল প্রকাশ করছি। এটি খুবই সীমিত। এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালগুলোতে কোনো ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের ১০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এটি দুঃখজনক।
বাজেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হারুনুর রশীদ বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের ফেব্র“য়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর প্রায় ৩৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত আয়-ব্যয় প্রায় সমান। মার্চ থেকে সমস্ত কিছু বন্ধ। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার কোটি টাকা, সেখান থেকে প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে সরকার। বৈদেশিক সাহায্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮ হাজার কোটি সেখানে পেয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা কীভাবে সমন্বয় হবে বাজেটে তা বলা হয়নি।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন আগে খরচ করব, টাকা কোথা থেকে আসবে জানি না। একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে এরকম বক্তব্য আসতে পারে। বাজেট কী জন্য তাহলে? বাজেট দিয়েন না, টাকা খরচ করতে থাকেন। টাকা খরচ করার পর বাজেট দিয়েন।
এদিকে, করোনা মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ব্যর্থ। ১৬ জুন জাতীয় প্রেস
ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর গণফোরামের এক মানববন্ধনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. কামাল হোসেন বলেন, করোনা মহামারীর এই দুর্দিনে প্রস্তাবিত বাজেট সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষা পূরণে ও জনগণের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ব্যর্থ। এ সময় বিনা চিকিৎসায় করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মানববন্ধনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে গণফোরাম নেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সরকারের নানা অবহেলা, অযোগ্যতা ও অব্যবস্থাপনায় আমি হতবাক। এমন ক্রান্তিকালেও ত্রাণ লুটপাট ও দুর্নীতির খবরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে লজ্জাবোধ করি।’ এ সময় করোনা মোকাবিলায় যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গতানুগতিক ও বড়লোকদের স্বার্থরক্ষা’র বাজেট হিসেবে অভিহিত করেন গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘এ বাজেটে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অপর্যাপ্ত, বেকারদের কর্মসংস্থানের কোনো দিকনির্দেশনা নেই।’ গণফোরামের আরেক নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, থোক বরাদ্দের নামে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার নিজেদের অপরিপক্বতা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে।
অপরদিকে, আওয়ামী সরকারের বারবার একই রকম প্রতিশ্রুতিকে ‘কাজীর গরু কেতাবেই থাকছে, গোয়ালে নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কাটছে মানুষের দিন। মানুষ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। করোনা ভীতিতে আচ্ছন্ন দেশের জনগণ। মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিন। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল অবস্থায় জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। ল্যাবে নমুনার স্তূপ জমা হয়ে আছে।
বিএনপি মুখপাত্র বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান দুর্দশায় প্রমাণিত হয়েছে, এই সরকার জনগণের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে ধাপ্পাবাজি করেছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭টি জেলাতেই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট নেই। করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বাস্থ্যখাতের বিপন্ন ও ভঙ্গুর ছবি প্রকাশ হয়ে পড়েছে।
রিজভী বলেন, তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মরহুম মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, চলতি মাসেই অর্থাৎ ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকেই জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র (সিসিইউ) এর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মোহাম্মদ নাসিমের প্রতিশ্রুতির ঠিক ছয় বছর পর ২০২০ সালে এসেও আওয়ামী সরকারের মুখে সেই একই কথা। একই প্রতিশ্রুতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেছেন, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) স্থাপন করা হবে। আওয়ামী সরকারের বারবার একইরকম প্রতিশ্রুতি ‘কাজীর গরু কেতাবেই থাকছে, গোয়ালে নেই’-এর মতো।
তিনি বলেন, আমরা যখনই আওয়ামী লীগের দুর্নীতি-দুরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, আমাদের পেছনে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে র‌্যাব-পুলিশ। আর অপবাদ দেয়ার জন্য গণমাধ্যমকে বাধ্য করা হচ্ছে রক্তচক্ষু প্রদর্শন করে।
বিএনপি মুখপাত্র বলেন, বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ওপর তাদের প্রণীত সকল কালাকানুন নির্বিচারে প্রয়োগ করছে। কেউ আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা আর দুর্নীতির কথা মনে করিয়ে দিলে তাকে তাড়াহুড়ো করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গুম করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করার কারণে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিএনপি এবং ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, আর যদি বলা হয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জন্য নয়, বরং একজন মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্তব্য করার কারণেই আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হওয়ার পরও উল্লিখিত দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাহলেও দেশের জনগণ সাক্ষী- মৃত মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, অপবাদ দেয়া, এমনকি কবরে হামলা করার মতো অশোভন, অধার্মিক এবং নোংরা কাজটি ক্ষমতাসীন দলের লোকজনরাই করে আসছে।