প্রতিবেদন

দুর্বল হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন : কমছে সামাজিক সম্প্রীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক বিজ্ঞানে বিয়ে ও পরিবারের ধ্র“পদি সংজ্ঞাগুলোতে সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার মতো বিষয়াবলীকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধন বাঙালির অনেক পুরাতন ঐতিহ্য।
বাঙালির পারিবারিক ও সামাজিক যুথবদ্ধতার প্রতিচ্ছবি হাজার বছর ধরে চর্চিত। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এ চর্চায় যেন কিছুটা ছেদ পড়েছিল। পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক অনেক সংবাদ এ সময়ে দৃষ্টিগোচর হয়েছে। বিবাহ বিচ্ছেদ, ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব, মা বাবার সঙ্গে সন্তানের অমিল, নিকটাতœীয়দের মধ্যে হিংসায় এমনকি খুনাখুনির সংবাদও আমরা দেখেছি। করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট চলমান লকডাউন এর প্রেক্ষিতে এ সম্পর্কগুলোর পুনর্পাঠ করার সুযোগ তৈরি হলেও অবাক হয়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক সম্প্রীতি কমে যাচ্ছে।
বিবাহবিচ্ছেদের কথা বলতে গেলে, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, সম্পর্কে তিক্ততা তৈরি ও বিচ্ছেদ ঘটার পেছনে অনেক ধরনের কারণ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, একজন আরেকজনকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা, স্বামী ও স্ত্রীর সাথে সাথে তাদের পরিবারের অন্যদের সাথে বোঝাপড়া তৈরি না হওয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ তথ্যপ্রযুক্তির উপর অধিক নির্ভরশীলতা, মাদকাসক্তি ও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক। মূল বিষয় হল এক বা দুটি নির্দিষ্ট কারণের উপর ভিত্তি করে দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ হয় না বললেই চলে। দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হতে থাকা ছোট ছোট অভিমান অভিযোগে রূপান্তরিত হয়, অভিযোগগুলো অবিশ্বাসের জন্ম দেয়, অবিশ্বাস বড় সমস্যার তৈরি করে। তা এক পর্যায়ে তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদে রূপ নেয়। করোনাকালে বিষয়টি বেশি দেখা যাচ্ছে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমেই পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করা সম্ভব হলেও করোনাকালে তা সম্ভব হচ্ছে না আর্থিক অসঙ্গতিগত কারণে।
করোনাকালে অপ্রত্যাশিত ও অনিচ্ছাকৃত এই গৃহবন্দিত্বকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের বন্ধন ও বোঝাপড়ায় কাজে লাগাতে সরকার ও রাষ্ট্র এখানে বৃদ্ধদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ও চিকিৎসার পাশাপাশি সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। অর্থাৎ জীবনের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্যই বাংলাদেশের মত সমাজে পরিবার ও দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা জরুরি। পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বন্ধন নিশ্চিত করতে না পারলে কয়েক বছর পর হয়তো সমাজে সম্মানিত বয়স্ক নাগরিকদের বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট, রেল স্টেশন, পার্ক ও ফুটপাতে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখব।
লকডাউনের কারণে সারা পৃথিবীতে পারিবারিক নির্যাতন ও সহিংসতা বৃদ্ধির আশংকা করা হচ্ছে। বিবিসি, এএফপি, রয়টার্সের মত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। ফিনল্যান্ড থেকে জানা যাচ্ছে, ‘সেখানে লকডাউনের কারণে ডিভোর্স এতটাই বেড়ে গেছে যে সরকার লকডাউন তুলে নেয়ার কথা চিন্তা করছে’। জাতিসংঘের মহাসচিবও সারা পৃথিবীতে লকডাউন সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। পৃথিবীব্যাপী বেড়ে যাওয়া পারিবারিক সহিংসতা ও বিবাহ বিচ্ছেদের বিপরীতে বাংলাদেশে আমরা ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা ভাবছি বা ভাবতে পারছি আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে। আমাদের সমাজে পারিবারিক পরিম-লে মাদকের ব্যবহার, পর্নগ্রাফি আসক্তি, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো চর্চিত নয়। এ ধরনের সামাজিকভাবে অগ্রহনযোগ্য আচরণ সমূহ পারিবারিক পরিসরের বাইরে থেকে ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করোনার কারণে একসাথে সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের বিপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে অপরাধপ্রবণতা কমে আসে। ধর্মীয় ও সামাজিক চর্চাগুলো বৃদ্ধি পায়। এমন প্রেক্ষাপটে করোনাকাল পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নে আশীর্বাদ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
দাম্পত্য সম্পর্কের সাথে সাথে পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নের অফুরন্ত সুযোগ এনে দিয়েছে করোনা ভাইরাসের কারণে অনেকের জন্য তৈরি হওয়া অফুরন্ত অবসর। সন্তানের সামাজিকীকরণ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে পিতা-মাতার সাহচর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার কারণে অনেকেই সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারতেন না। যে কারণে সন্তানের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলশ্র“তিতে বাবা মার সাথে সন্তানের মধ্যে ইনফরমাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিবর্তে একটা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একইভাবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যোগাযোগের অভাবের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক নেতিবাচক সংবাদ সামনে এসেছিল।
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও টানাপড়েন সত্বেও তুলনামূলক অবসরের এই সময়টাতে অনেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে এই যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছেন। যা ভবিষ্যতে ইতিবাচক পারিবারিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী পারিবারিক বন্ধনকে ফিরিয়ে এনে ব্যক্তি পরিবার ও সমাজ জীবনকে আরও বেশি সুসংহত করবে।

কমছে পারিবারিক বন্ধন
বাড়ছে অশান্তি
বাংলাদেশ পুলিশ অপরাধ বিভাগের তথ্য মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে খুন হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ জন। আর এর অধিকাংশই পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে। বছরে মোট হত্যাকা-ের প্রায় ৫০ শতাংশ সংঘটিত হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে।
পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতার কারণ খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে অপ্রিয় অনেক কঠিন সত্য ও নানা তথ্য। পারিবারিক কলহের প্রধান কারণ যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠন, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, অন্য দেশের সংস্কৃতির আগ্রাসন, স্বল্প সময়ে ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা ও অতিমাত্রায় ইন্টারনেট আসক্তি। একসময় দেশে কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ছিল। গ্রামে ৭০ ভাগ মানুষ আর শহরে ৩০ ভাগ মানুষ বাস করতো। পরিবারগুলো ছিল যৌথ ও কৃষি নির্ভর। প্রতিটি পরিবারে বাবা-মা, দাদা-দাদী, চাচা-ফুফুসহ অনেক সদস্য বাস করতো। সবার মধ্যে আন্তরিকতা আর ভালোবাসার বন্ধন ছিল। এমন পরিবেশে একজন মানুষ বেড়ে উঠে বহুমুখী শিক্ষা নিয়ে। সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সবই থাকে। কিন্তু একক পরিবারে এসব কিছুই দেখা যায় না। একক পরিবারে অধিকাংশ স্বামী-স্ত্রী উচ্চ শিক্ষিত এবং চাকরিজীবী হয়ে থাকে। বর্তমানে শহরে প্রায় ৮০ ভাগ একক পরিবার রয়েছে। চলতি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ও উন্নয়নে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজ ব্যবস্থায় বেড়ে চলেছে নানাদিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা ও হতাশা।
প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে
ধর্ষণ, আত্মহত্যা, খুন ও মারামারি। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মূল্যবোধ তথা মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়। পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ঢিলে হয়ে যাওয়া। এছাড়া অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিও আছে। পরিবার আমাদের সমাজ ব্যবস্থার অন্যতম মূলভিত্তি। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটছে। বেড়ে গেছে পরিবারের এক সদস্যের হাতে আরেক সদস্যের খুন। স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুকেও। সাম্প্রতিক পারিবারিক কলহের কারণে পরিবারের সবাই একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। মানুষ এখন আপনজনের কাছেও নিরাপদ নয়।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলেন, সভ্যতার উন্নয়ন ও নগরায়ন হলে এমন সমস্যা দেখা যায়। আগে মানুষ বেশি গ্রামে বাস করতো আর এখন শহরে। শিক্ষাগ্রহণের জন্য শহরমুখী হচ্ছে মানুষজন। শিক্ষার হার বৃদ্ধি, নারী শিক্ষার প্রসার, অতিমাত্রায় ইন্টারনেট ব্যবহারে আসক্তি ও নারীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধিসহ আরো কিছু কারণে পারিবারিক কলহ বাড়ছে। নারীদের উন্নয়ন যেমন একটি দেশকে উন্নয়নের দিকে ধাবিত করে, তেমনি পারিবারিক অশান্তির কারণও হয়ে উঠে। তাই বলে নারীদের উন্নয়নই শুধু পারিবারিক কলহই একমাত্র কারণ না। একটি পরিবারে অশান্তির পিছনে আরো অনেক কারণ আছে। অভাব-অনটন, অর্থের প্রতি দুর্বলতা, চাওয়া পাওয়ার অসঙ্গতির কারণ, দাম্পত্য কলহ নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্থিরতা, বিষন্নতা ও মাদকাসক্তিসহ বিভিন্ন কারণে সামাজিক অশান্তি বাড়ছে। এছাড়া বিবাহপূর্ব সম্পর্ক, বিয়ের পরে পরকীয়া, যথাসময়ে বিবাহ সম্পন্ন না হওয়া, একক সিদ্ধান্তে বিবাহ, ন্যায় বিচারের অনুপস্থিতি, নারীদের বৈচিত্র্যময় খোলামেলা উগ্র পোশাক সামাজিক অবক্ষয়ের মূল কারণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এই সামাজিক অবক্ষয় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক কলহ কিংবা অশান্তি সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি, হতাশা বা দূরত্ব বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হল শারীরিক চাহিদা অপূর্ণ থাকা। আমাদের দেশের অধিকাংশ ছেলে জানে না, একটা মেয়েকে কীভাবে শারীরিকভাবে সুখী করতে হয়। আগে যখন কোনো বিয়ে হতো সেই সম্পর্কের দায়ভার দুই পরিবারসহ অভিভাবকরা নিত। বর্তমানে মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের অনেক মাধ্যম হয়েছে ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা নিজেই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পরিবার এসব বিয়েতে সম্মতি দিলেও দায়ভার নিচ্ছে না। ফলে পারিবারিক অশান্তি বা স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে মুখোমুখি দাঁড় করাতে হচ্ছে ছেলেমেয়েকে। এসবের কারণে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পারিবারিক অনুশাসন মানার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে পারিবারিক কলহ।
একজন ভূক্তভোগী বলেন, পড়ালেখা শেষ করেই বাবা-মায়ের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করি। বরিশাল থেকে স্বামীর সঙ্গে চট্টগ্রামে আসি। স্বামী চাকরি করেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অফিস। কিন্তু অফিসের ব্যস্ততা শুরু হয় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আবার যেহেতু সকালে অফিসে যেতে হবে তাই রাতে ঘুমাতে হয় ১১টার মধ্যে। এদিকে সারা দিন বাসাতে একাই থাকতে হয়। ব্যস্ততার কারণে স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া, সিনেমা দেখতে নিয়ে যাওয়ার সময় করতে পারেন না স্বামী। এভাবেই কেটে যায় কয়েক বছর। প্রায় সময় ইচ্ছে করে সব ছেড়ে চলে যাই আগের জীবনে।
একটি উদাহরণ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অগণিত ভক্ত, ফ্যান-ফলোয়ার। রূপকে কাজে লাগিয়ে একটার পর একটা প্রেম করেছেন। একসঙ্গে কয়েকটি প্রেমও করেছেন অনায়াসে। তার সঙ্গে প্রেম করা ছেলেদের অনেকেই তার চরিত্রের বিষয়টি জেনেও শারীরিক সঙ্গ লাভের আশায় তার রূপের জালে জড়িয়েছেন। পেছনে তার চরিত্র নিয়ে কম বেশি সবাই কথা বলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা বলেন এটি সামাজিক অবক্ষয়ের আরো একটি প্রধান কারণ।

পারিবারিক বন্ধন আয়ু বাড়ায়
মানুষ জীবনের পরতে পরতে বিভিন্ন উপলক্ষে ক্রমশ যুক্ত হতে থাকে নানা সামাজিক বন্ধনে। এসব সম্পর্কের গাঁথুনি যার জীবনে যতটা সুনিবিড় ও দৃঢ়, জীবনটাও তার কাছে ততটা উপভোগ্য ও সহজ। মানসিক দিক থেকেও তারা অধিক উঁচু স্তরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সুষম পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনে যারা বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজে পান, তারা অপেক্ষাকৃত দীর্ঘায়ু হন।
গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে যারা বসবাস করে তাদের খাদ্যাভ্যাস তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর এবং সুস্থ্য জীবনধারায় অভ্যস্ত। তাদের গভীর বিশ্বাসÑ আসুক যতই কঠিন সময়, কেউ না কেউ পাশে এসে ঠিক দাঁড়াবেই।

পারিবারিক বন্ধনের সুফল
পারিবারিক একাত্মতার সুফল মানুষ পেতে শুরু করে জীবনের গোড়া থেকেই। যেসব পরিবারে বাবা-মা ও সন্তানদের মাঝে উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজমান, ক্যান্সারের মতো অসুখে পড়ার সম্ভাবনা তাদের কম এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যেসব পরিবারে একত্রে খাওয়া-দাওয়ার রীতি চালু আছে, তারা তুলনামূলক সুস্থ খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। সাম্প্রতিক আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব পরিবারের শিশুরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম।

মৃত্যু ঝুঁকি কমায়
প্রবীণদের মধ্যে যারা তাদের পরিবারের সদস্য ও আপনজনদের প্রতি গভীর সখ্যতা অনুভব করেন, তাদের মৃত্যুঝুঁকি কম। যারা একান্ত সম্পর্কগুলোতে উষ্ণতা খুঁজে পান না, তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বেশি। আমেরিকান সোশিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সভায় ৫৭ থেকে ৮৫ বছর বয়সী তিন হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণার ফল হিসেবে এই তথ্য প্রকাশ করে।
গবেষকরা মনে করছেন, পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের প্রতি দায়িত্ববোধই এসব মানুষকে দীর্ঘজীবন লাভের ব্যাপারে আশাবাদী ও অনুপ্রাণিত করে তোলে। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যালা-লানা স্কুল অব পাবলিক হেলথের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক জেমস ইভেন্যুক বলেন, আমাদের উচিত পরিবারের সদস্য-স্বজনদের সঙ্গে আরও একাত্মতা বাড়ানো, কখনোই একে অন্যকে এড়িয়ে চলা নয়।

হৃদ্যতা বাড়ায় তৃপ্তি ও আনন্দ
ভালো আছেন, সুস্থ সুন্দর আনন্দময় জীবনযাপন করছেন, এর কিছু কৃতিত্ব দিতে হবে ভাইবোনদেরও। ভাইবোনের সঙ্গে সম্পর্কটা যাদের মধুর, তারা দৈহিকভাবে তুলনামূলক সুস্থ এবং মানসিক দিক থেকেও প্রজ্ঞাপূর্ণ। এমনটাই মত গবেষকদের।
সম্প্রতি ২৪৬টি পরিবারের সন্তানদের নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভাইবোনের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এদের মধ্যে যারা যতটা ইতিবাচক ও একাত্ম, বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার হার এদের ততটাই কম। আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশেষত বোনদের সঙ্গে একাত্মতা রয়েছে যাদের- একাকিত্ব, ভালোবাসাহীনতা, আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব, উদ্বেগ, এমনকি ভয়ের মতো নেতিবাচক অনুভূতির আগ্রাসন তাদের জীবনে অনেক কম। আর বয়স এতে কোনো বাধা নয়। কারণ পরিণত বয়সের সুসম্পর্কধারী ভাইবোনদের নিয়ে পরিচালিত গবেষণাতেও দেখা গেছে, তারা অপেক্ষাকৃত সুখী ও আনন্দময় জীবনযাপন করেন। এ-ছাড়াও নিজেদের পাশাপাশি অন্য আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বজায় থাকে তাদের সম্পর্কের উষ্ণতা।

পারিবারিক একাত্মতা দেয় সুখী জীবন
বিশ্বজুড়ে আধুনিক ধারার সমাজবিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য-গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণার ভিত্তিতে এটা আজ এক প্রমাণিত সত্য যে, পারিবারিক ও সামাজিক একাত্মতা একজন মানুষকে সুস্থ সুখী সফল জীবনের পথে চালিত করে। তাই সকলেরই উচিত এ যূথবদ্ধ জীবনযাপনের প্রতিটি সুযোগকেই কাজে লাগানো এবং প্রয়োজন উত্তরপ্রজন্মকেও সাধ্যমতো এমন জীবনধারায় অভ্যস্ত করে তোলা।
যেকোনো বিষয়ে পারিবারিক আলোচনা, পরিবারের সবাই অন্তত একবেলা একসঙ্গে খাওয়া ইত্যাদি আচরণ-অভ্যাসের পাশাপাশি সঙ্ঘবদ্ধভাবে নৈতিকতার চর্চায়ও মনোযোগী হওয়া উচিত। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোরআন আলোচনা, ভালো কাজ করার প্রেরণা, বিনয়ের সঙ্গে ব্যবহার, সবার কল্যাণ কামনা ইত্যাদির চর্চা প্রতি সপ্তাহে করা উচিত।
পরিবারগুলোতে একটি সাধারণ অভিযোগ হলো, সন্তান মা-বাবার কথা শোনে না। অনেকে এ-ক্ষেত্রে শক্তি প্রয়োগ করে বসেন। আসলে জীবনের কিছু ক্ষেত্র আছে, যেখানে শক্তি প্রয়োগের বদলে কৌশল প্রয়োগ করাটাই সঙ্গত। ওখানে শক্তি প্রয়োগ করতে যাওয়াটাই ভুল। কারণ শক্তি প্রয়োগ করে এখনকার ছেলেমেয়েদের ভুল চিন্তা বা কর্মকা-কে থামানো যায় না। এর মোকাবিলা করতে হবে বুদ্ধি প্রয়োগ করে। এ জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়:
প্রথমত, সন্তান আপনার কথা শুনতে চায় না, কিন্তু কেন বন্ধুবান্ধবের কথা শোনে? কারণ সে মনে করছে, বন্ধুরা তার ব্যাপারে বেশি মনোযোগী। অথচ বাস্তবে তার ব্যাপারে মা-বাবার মনোযোগ যে অনেক বেশি, এটা সে বোঝে না। বুঝতে চায় না। এ জন্য সন্তানের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিতে হবে। সন্তানকে কথা শোনাতে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, আরেকটা কারণে সন্তান কথা শুনতে চায় না, সেটা হলো বাবা-মা-অভিভাবকদের কথাগুলো সে একইভাবে বহুবার শুনেছে। তাই তাকে বোঝাতে হবে একটু অন্যভাবে। পাশে বসিয়ে মমতা দিয়ে।
তৃতীয়ত, সব কাপড় কিন্তু সজোরে মাটিতে আছাড় দিয়ে ধোলাই করা যায় না, কিছু কাপড় খুব আস্তে আস্তে ঘষে পরিষ্কার করতে হয়। সন্তানও তেমনি। এজন্য আগে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তখনই সন্তান আপনার কথায় প্রভাবিত হবে, সে আপনাকে ভালোবাসতে শুরু করবে।
এই সুসম্পর্ক গড়ে তোলার একটি শক্ত ভিত্তি হতে পারে পরিবারে সালাম বিনিময়। সব ভালো কথারই শুভ প্রভাব আছে। প্রতিদিন হাসিমুখে এই নিরবচ্ছিন্ন কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে আমাদের পরিবারগুলোতে সূচিত হতে পারে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
আমাদের শান্তির উৎস আমাদেরই পরিবার। তাই পারিবারিক সম্পর্কগুলোকে যেন কোনোভাবে গুরুত্বহীন মনে করা না হয়। পরিবারে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, কিন্তু পারস্পরিক বোঝাপড়াটা যদি অক্ষুণœ থাকে তবে কোনো চ্যালেঞ্জ বা প্রতিকূলতা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে না।

করোনাকালে সামাজিক
সম্প্রীতি ও দূরত্ব
সম্প্রীতি হল পারস্পরিক সুসম্পর্ক। আর সামাজিক সম্প্রীতি হল সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক। এ দেশ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভরপুর এক দেশ। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক অথবা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হয়ে আসছে।
এই অঞ্চলে আচার অনুষ্ঠানের যতটা রীতিনীতি আছে তা পৃথিবীর কোথায়ও অতটা নেই। সনাতন ধর্মের দিক দিয়ে বললে বার মাসে তের পূজা। তারপর ইসলাম ধর্মসহ নিজস্ব কিংবা স্থানীয় অথবা জাতীয় অনুষ্ঠান আছেই।
আমাদের দেশকে বলা চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতা এসে এগুলো থেকে আমাদেরকে সরিয়ে নিয়েছে।
আসলে করোনা কি আমাদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব নিয়ে এসেছে, না এমনটাই হওয়ার কথা ছিল, করোনা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার রূপ দিয়েছে। করোনা পৃথিবীতে একমাত্র রোগ নয় যেটা ছোঁয়াছে। এ দেশে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াজনিত এমন অনেক রোগ আছে যা ছোঁয়াছে। আসলে করোনা আসার অনেক আগে থেকেই আমাদের মধ্যে অঘোষিত সামাজিক দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে। সামাজিক সম্প্রীতি হালকা হয়েছে।
একটা সময় যৌথ পরিবার আমাদের দেশের ঐতিহ্য ছিল। কালের বিবর্তনে এলো একক পরিবার। এখন কিছু কিছু মুক্তমনা মানুষ ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়ে লিভ টুগেদার করছে। পিতামাতাকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রধান কর্তব্য। কিন্তু সেই বৃদ্ধ পিতা মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসা হচ্ছেÑ এটাই কি আধুনিকতা? আধুনিকতা কি সামাজিক সম্প্রীতি নাকি সামাজিক দূরত্ব?
করোনা ভাইরাস এক সময় চলে যাবে। নতুন এক পৃথিবী ফিরে আসবে। এই নতুন পৃথিবী পুরোনো রীতিনীতি সব ভূলে এমন এক আধুনিক রীতিনীতি স্থাপন করবে যা কর্তব্য, সংস্কৃতি, ধর্ম এবং শেষে সামাজিক সম্প্রীতির এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

প্রয়োজন সহনশীলতা
বাহ্যিকভাবে মানুষের মধ্যে যেমন নানা অমিল রয়েছে, তেমনি চিন্তা-চেতনা, আচার-আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। এ কারণে মানুষের একে অপরের মধ্যে মতভেদ হতেই পারে।
এ অবস্থায় অন্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি ও তা বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো সহনশীলতা। সহনশীলতা মানে অন্যের চিন্তা-ভাবনা, রীতি-নীতি, চলাফেরা, ধারণা ও সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে শেখা। পৃথিবীতে কোনো একটা কাজ কিংবা কোনো একটা সমস্যার সামধান বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে এমনকি জীবন সম্পর্কেও মানুষের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্যের মতামতকে মর্যাদা দিতে পারা, সেটা শোনা এবং মেনে নিতে পারাই হলো সহনশীলতা।
জীবনকে আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে সহনশীলতা ও ধৈর্য্য অপরিহার্য। পারিবারিক সুখ-শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর কোনো বিকল্প নেই। সাধারণত সহনশীলতার অভাবেই পরিবারে নানা সমস্যা দেখা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ তৈরি হয়। সহনশীলতার অভাবে পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যেও ঝগড়া-বিবাদ বা হিংসা-বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে, সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। সুস্থ পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহনশীলতার ঘাটতি দেখা দিলে বাবা-মা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও বিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কারো সমস্যাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করে না। যেসব পরিবারে সহনশীলতার চর্চা নেই সেসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহজেই ঘরের ভেতরের ও বাইরের জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না। তারা নানা ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়। তারা আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে পড়ে। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুব সমাজের আচার-আচরণে অস্থিরতা ও বেপরোয়াভাব দেখা যায়, তার মূলে রয়েছে পারিবারিক সংস্কৃতি। পরিবার থেকে তারা সহনশীলতার উপযুক্ত শিক্ষা পায়নি। ইসলাম ধর্ম ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়সহ সকল ক্ষেত্রে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যেমন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তান ও ভাই-বোনের মধ্যে সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের ও সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সহনশীলতার শিক্ষা দেয় ইসলাম।
সহনশীলতা মানুষকে শেখায় কী করে অন্যের মতামত বা আচার-আচরণ সহজভাবে গ্রহণ করতে হয় বা সহ্য করতে হয় এবং ভিন্নধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতি ও সহানুভূতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। সামাজিক জীবনে নানা কাজকর্মে বিভিন্ন বাধা-প্রতিবন্ধকতা আসতেই পারে, সে কাজটি যদি হয় মহৎ, তাহলে সব বাধা ডিঙিয়ে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ও সহনশীলতা সহকারে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কেউ যদি বাধা-বিপত্তির কারণে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে তাহলে সে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।
সব ক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজন সহনশীলতা। সহনশীলতা না থাকলে পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অনুভূতি কাজ করে না। কাউকে নিজের চোখে যখন সম্মানিত মনে হয় না এবং নিজের পথটিই সঠিক বলে বিবেচনা করে সব ধরনের কাজ করে যায় মানুষ, তখনই সমাজে বড় ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। সমাজের কিছু কৃষ্টি আছে, প্রচলিত ব্যবস্থা আছে, মানিয়ে চলার জায়গা আছে, একসঙ্গে বসবাসের দায়বদ্ধতা আছে।

শেষ কথা
বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, খুবই তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বড় ধরণের হানাহানি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু একটু সহনশীল হলেই তা ঠেকানো যায়। কখনো কখনো একটি বাসে দু’জন যাত্রী জানালার গ্লাস লাগানো নিয়ে ঝগড়ায় মেতে উঠে, কে বাসে আগে উঠবে তা নিয়ে কথা কাটাকাটি করে, সালাম দেয়নি বলে ম্যানার শেখানো হয়Ñ সহনশীল হলে এসব ঘটনা অনেকটাই কমে যেত। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি পরস্পরের প্রতি সহনশীল হয়, তাহলে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হবেই।
এই বন্ধন যখন সব পরিবারে ছড়িয়ে যাবে তখনই সামাজিক সম্প্রীতির ভিত মজবুত হতে থাকবে।