প্রতিবেদন

পেশাদারিত্বের সঙ্গেই করোনা সংকট মোকাবিলার অঙ্গীকার সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেশাদারিত্বের সঙ্গেই করোনা সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের দেয়া দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। ১৮ জুন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৭৮তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্স এবং ৫৩তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় গণমাধ্যকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো জানান, করোনা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে দেশের সকল সামরিক হাসপাতালে। জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘প্রতিটি সিএমএইচে আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমাদের রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন ও পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট আছে। আমাদের পরীক্ষার জন্য কোথাও যেতে হয় না। আমরা আমাদের সার্ভিং ও রিটায়ার্ডদের টেস্ট সুবিধা নিশ্চিত করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে অনেক মেশিন কিনেছি। প্রতিনিয়ত বিদেশ থেকে কিট আনছি। আমাদের সিএমএইচগুলোকে করোনা রোগীদের মোকািেলার জন্য অনেক মেশিন বিদেশ থেকে এনেছি। শুরুতেই আইসিইউতে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়ার সুযোগ সুবিধা রয়েছে আমাদের।’
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৭৮তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্স এবং ৫৩ বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ২৫৫ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ২৩১ জন পুরুষ ও ২৪ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন, যারা সেনাবাহিনীর চলমান অপারেশন কোভিড শিল্ড-এ উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন।
ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মূর্ত প্রতীক হিসেবেই সর্বদাই দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সাথে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে কেউ হুমকির মুখে ফেলে তাহলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার সমুচিত জবাব দেয়ার জন্য সদা প্রস্তুত এবং সক্ষম।’
বাংলাদেশে মিলিটারি একাডেমির উদ্বোধন ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কঠিন সংগ্রামের মধ্যেও দেশের জন্য একটি আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তোলার উপর জোর দেন। একটি স্বাধীন দেশের সেনাবাহিনী কোন মূল্যবোধকে ধারণ করে গড়ে উঠবে সে ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর সেই দিক নির্দেশনাসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবন করা এবং সেই অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ১৯৭৪ সালে, কুমিল্লা সেনানিবাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির শুভ উদ্বোধন করেন; যা ছিল এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনা।’
ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিদায়ী ক্যাডেটদের পেশাগতভাবে দক্ষ, নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, যা তোমরা কিছুক্ষণ আগেই শুনেছ। তোমাদের মনে রাখতে হবে যে, বঙ্গবন্ধু কেবল স্বপ্নদ্রষ্টাই নন, স্বপ্ন বাস্তবায়নেও তাঁর দক্ষতা দৃষ্টান্তমূলক। তাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, কেবল কথা নয় বরং মহান এই নেতার দিক নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা
সম্ভব।’
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশপ্রেম, প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং দৃঢ় সাংগঠনিক ভিত্তিতে বলীয়ান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা মেনেই সেনাবাহিনীর অভিযান পরিকল্পনায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে যা আমাদের সমরনীতির একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’
সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ বলেন, ‘১৯৭১ সালে রণাঙ্গনেই অভ্যুদয় হয়েছিল আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর। জাতির পিতার নির্দেশনায় প্রণীত হয় ‘প্রতিরক্ষা নীতি-১৯৭৪’ এবং পরবর্তীতে এই নীতির উপর ভিত্তি করেই ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ২০১৮ প্রণীত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথ ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের সেনাবাহিনী আজ একটি শক্তিশালী ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত প্রায়।
এদিন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছলে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস.এম.শফিউদ্দিন আহমেদ, বিএমএ’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মতিউর রহমান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।