ফিচার

প্রস্রাবে সংক্রমণ বা ইউরিন ইনফেকশন

ডা. হিমেল ঘোষ
আমাদের শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ প্রতিনিয়তই আমাদের বৃক্কের ছাঁকনি পেরিয়ে মূত্রনালি দিয়ে মূত্র হিসেবে বের হয়ে যায়। কিডনি বা মূত্রনালির যেকোনো এক বা একাধিক অংশে যদি জীবাণুর সংক্রমণ হয়, তাহলে সেটাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা সংক্ষেপে প্রস্রাবের ইনফেকশন বলা হয়। এটি বেশ পরিচিত একটি সংক্রমণ। প্রস্রাবে ইনফেকশন নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে হলেও নারীদের মধ্যে এই ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

কারণ
জননতন্ত্রের ইনফেকশন ও দীর্ঘ সময় যাবৎ মূত্র ত্যাগ না করা বা আটকে রাখা প্রস্রাবেরইনফেকশনের বড় কারণ। এ ছাড়া খুব কম পানি খেলে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে না পারলে এবং দিনের পর দিন এ সমস্যা চলতেই থাকলে, এ সমস্যা দেখা দেয়। এর জন্য দায়ী প্রধানত ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া পাকস্থলী ও খাদ্যনালিতে থাকে। রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে গেলে এই ব্যাকটেরিয়া মূত্রতন্ত্রে বাসা বাঁধতে পারে। সঠিক সময়ে মূত্র ত্যাগ না করলে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখলে ই. কোলাই দ্রুত আক্রমণ করে। বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন ক্যাথেটার থাকলে এবং তা সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে, কিডনি বা জননতন্ত্রের কোথাও পাথর থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বসবাস, অতিরিক্ত নোংরা টয়লেট ব্যবহার করা, নিয়মিত গোসল না করা, যৌন রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি।

প্রাথমিক লক্ষণ
প্রস্রাবের বর্ণ গাঢ় হলুদ হওয়া, প্রস্রাব করার সময় প্রস্রাবের রাস্তায় জ্বালা, ব্যথা বা চুলকানি অনুভব করা, কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হলেও প্রস্রাবের পরিমাণ কম হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ এবং অনেক সময় ফেনাযুক্ত প্রস্রাব হতে পারে। এমনকি অনেক সময় মূত্রের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে, বমি-বমি ভাব বা বমি হওয়া, হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর বা জ্বর জ্বর অনুভূত হওয়া, তলপেটে বা কোমরের নিচের দিকে দুপাশে ব্যথা অনুভূত হওয়া। অনেক সময় ঊরুর দুই কোনাতেও ব্যথা থাকতে পারে।

কার্যকর ঘরোয়া ব্যবস্থা
প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত।
প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি-যুক্ত খাবার, যেমন পেয়ারা, কমলা, লেবু, কামরাঙা ইত্যাদি খাওয়া উচিত। এ ছাড়া ক্যানবেরি জুস, ব্রোকলি, পেঁপে, রসুন ইত্যাদিও সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আনারসে আছে ব্রোমেলিন নামক একটি এনজাইম, যা সংক্রমণ প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন এক কাপ করে আনারসের রস খেতে পারেন।
দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব আটকে রাখবেন না।
প্রস্রাবে ইনফেকশনের ফলে সৃষ্ট ব্যথা উপশমে কুসুম গরম পানিতে গোসল অনেক ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
এই ইনফেকশন থেকে প্রতিকার পেতে ঢিলেঢালা পোশাক পরা, নিয়মিত গোসল করা, সংশ্লিষ্ট অঙ্গ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি।
শসায় প্রচুর পানি আছে। তাই প্রতিদিন কমপক্ষে একটি শসা স্লাইস করে খেতে পারেন।
হট ওয়াটার ব্যাগে গরম পানি নিয়ে তলপেটের ওপর রাখলে খুব দ্রুত জ্বালাপোড়া ও ব্যথা দূর হয়।
লেখক: মেডিকেল অফিসার
ডুমুরিয়া, খুলনা