প্রতিবেদন

বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। তিন প্রকল্পের আওতায় এই ঋণ অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ঋণ দাতা সংস্থাটি।
২০ জুন বিশ^ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনারশিপ’ (প্রাইড) প্রকল্পে ৫০ কোটি ডলার, ‘এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি’ প্রকল্পে ২৯ কোটি ৫ লাখ ডলার ও ‘সেকেন্ড প্রোগ্রামেটিক জবস ডেভেলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ প্রকল্পে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেমবন বলেন, কভিড-১৯ মহামারী বাংলাদেশের জনগণের জীবিকার উপায়সহ দারিদ্র্য বিমোচন ও সমৃদ্ধি অর্জনের বিশাল সফলতাকে বিপন্ন করে তুলেছে। এমন অবস্থায় এসব প্রকল্পের সুবাদে মানসম্পন্ন অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এসইজেড) সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকা- এ দেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।
৫০ কোটি ডলারের প্রাইড প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে সফটওয়্যার পার্কের ৪০ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান হবে নারীর।
এই প্রকল্প মিরসরাই-ফেনী অঞ্চলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর-২ এর উন্নয়ন করবে। এর মধ্যে থাকবে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সড়ক নেটওয়ার্ক, সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি স্থাপন ও জলবায়ু-সহনশীল পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপন। প্রকল্পটি জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ঢাকার প্রথম ‘ডিজিটাল অন্ট্রাপ্রেনার হাব’ গড়ে এটিকে সবুজ ভবনে পরিণত করবে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও তথ্যপ্রযুক্তি সমর্থিত সেবাসহ (আইটিইএস) স্থানীয় ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি কভিড-১৯ এর প্রভাব মোকাবিলায় অর্থনীতিকে সহায়তা করবে। ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রকল্প সরকারের সব সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত, অংশীদারত্বভিত্তিক এবং ক্লাউড-কম্পিউটিং ডিজিটাল প্লাটফর্ম স্থাপন করবে এবং সাইবার নিরাপত্তার উন্নতি ঘটাবে, যা সরকারি আইটি বিনিয়োগে ২০ কোটি ডলার খরচ বাঁচাবে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১ লাখ কর্মসংস্থান হবে। এটি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ৩০ কোটি ডলার আয় বাড়াতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে; মহামারীর ঝুঁকি কমাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনবে।
আর ২৫ কোটি ডলারের প্রকল্পটি করোনা মোকাবিলায় সরকারের স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপের সহায়তার জন্য সরকারের আর্থিক সংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতের অভিঘাত মোকাবিলায় শ্রমজীবী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে। এই অর্থায়ন নারী, যুব জনগোষ্ঠী, অভিবাসী শ্রমিক এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এটা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কারে সহায়তা করবে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে অধিকতর উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে সহায়তা করবে। এছাড়া এর লক্ষ্য হচ্ছে সম্প্রসারিত একটি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর শক্তিশালী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিশেষত মহামারীর সময় শ্রমিকদের ঝুঁকি কমানো।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারা ঝুঁকিতে থাকা গরিব মানুষকে রক্ষা, ব্যবসায়ে অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আগামী ১৫ মাসে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশকে ১৬ হাজার কোটি ডলার সহায়তা দেবে। এর মধ্যে আইডিএ নতুনভাবে অনুদান ও একেবারে সহজ শর্তের ঋণ হিসেবে দেবে ৫ হাজার কোটি ডলার।