ফিচার

মাইগ্রেন নিয়ে কিছু কথা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
মাইগ্রেন পরিচিত একটি রোগ। অনেকের কাছে মাথা ব্যথার সমার্থক হলেও এটি মাথাব্যথার একটি বিশেষ ধরন। মাইগ্রেন যেকোনো বয়সেই শুরু হতে পারে। ব্যথা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেন বংশানুক্রমে প্রবাহিত হয়।

লক্ষণ
মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণÑ মাথার যেকোনো একপাশে প্রচ ব্যথা অনুভূত হওয়া। শব্দ ও আলোর প্রভাবে ব্যথা আরও বৃদ্ধি পায়, তাই রোগী অন্ধকার ও কোলাহলবিহীন পরিস্থিতিতে থাকতে আরামবোধ করে। সামান্য চলাফেরা বা সামান্য নড়াচড়ার কারণেও অনেক সময় ব্যথা বৃদ্ধি পায়। ব্যথার সঙ্গে বমিবমি ভাব বা বমিও হয় অনেকের। এ ব্যথা দুই বা চার ঘণ্টা থেকে শুরু করে কখনো দুই থেকে তিনদিন পর্যন্ত থাকতে পারে। মাসে তিন থেকে চারবার এমন ঘটে, বাকি সময় রোগী সম্পূর্ণ ব্যথামুক্ত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা শুরুর কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন আগে থেকে শারীরিক অস্বস্তিবোধ হতে পারে। কিছু রোগী এ সময়ে চোখে আলোর ঝলকানি অনুভব করেন, যা রূপালি জিগ-জ্যাগ’ লাইন আকারে চোখের সামনে ভাসে; কারও কারও সাময়িক দৃষ্টি ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

কারণ
মাইগ্রেন রোগীদের ব্যথা কিছু প্রভাবকের কারণে শুরু হতে পারে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (যেমন কফি), দচকলেট ও পনীরযুক্ত খাদ্য খাওয়ার ফলে হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়ে থাকে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও ব্যথা শুরুর একটি অন্যতম নিয়ামক, কিন্তু দুশ্চিন্তার কারণে ‘টেনশান-টাইপ হেডেক’ নামে আরেক ধরনের মাথাব্যথাও হয়ে থাকে যা সাধারণত কপাল ও মাথার দুপাশ জুড়ে হয়; যাকে মাইগ্রেন ভেবে ভুল করেন অনেকে। নারীদের মাসিকের সময়েও মাইগ্রেন বৃদ্ধি পায়। মাইগ্রেনের রোগীদের জন্মনিরোধক পিল গ্রহণে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, কেননা এটি ব্যথা বৃদ্ধির সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কিছুটা বৃদ্ধি করে।

করণীয়
মাইগ্রেনের ব্যথা মৃদু থেকে মধ্যম হলে বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নেয়া সম্ভব। রোগীকে একটি কোলাহলমুক্ত ও অন্ধকার কক্ষে রাখতে হবে। তাকে কোনো প্রকার বিরক্ত করা যাবে না। সাধারণত অল্পবয়সীদের ব্যথা হলে পরিবারের বড়রা সেটিকে অগ্রাহ্য করতে চায়, কিন্তু এটি করা উচিত নয়। ব্যথানাশক হিসেবে প্যারাসিটামল ব্যবহার করাই ভালো। তবে ব্যথা গুরুতর হলে চিকিৎসকের কাছে নেয়া আবশ্যক, কেননা সে ক্ষেত্রে শক্তিশালী ট্রিপটান জাতীয় ওষুধ দিতে হতে পারে। এ ছাড়াও পরবর্তী সময়ে মাইগ্রেনের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে চিকিৎসক আরও কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন, যার জন্য তার ক্রমাগত পর্যবেক্ষণে থাকা প্রয়োজন। এর সঙ্গে যেসব খাদ্যে মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে পারে, সেগুলো পরিহার করতে হবে।

সাবধানতা
মাথাব্যথা মৃদু, মধ্যম বা গুরুতর হোক না কেন, কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে; সাধারণ মাইগ্রেন ভেবে অবহেলা করা যাবে না। যেমন, মাথাব্যথার সঙ্গে মুখের বা দেহের একপাশ অবশ হয়ে গেলে, দৃষ্টিশক্তি লোপ পেলে বা চোখ নাড়াতে অক্ষম হলে, এক পাশের চোখ ও নাক থেকে অনবরত পানি পড়লে এবং চোখ লালবর্ণ ধারণ করলে, জ¦র ও ঘাড়ব্যথা থাকলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে। মাথাব্যথার ওষুধ গ্রহণকালে সাবধান থাকতে হবে, কেন না ওষুধ একটানা অনেকদিন ব্যবহারের প্রভাবেও মাথাব্যথা হয়ে থাকে, যাকে ‘মেডিকেশান ওভারইউজ হেডেক’ বলে। এ জন্য নির্ধারিত ডোজে ওষুধ গ্রহণ করতে হবে ও নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।