অর্থনীতি

যে কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও নগদ জমার হার কমল

নিজস্ব প্রতিবেদক
মহামারী করোনা ভাইরাসের সংকটে দেশের আর্থিক খাতে তারল্য বাড়াতে ব্যাংকের পর এবার ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান মেয়াদি আমানত গ্রহণ করে, সেই সব প্রতিষ্ঠান সিআরআর মাত্র দেড় শতাংশ রাখতে পারবে। এর আগে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আড়াই শতাংশ হারে সিআরআর রাখতে হতো। ২১ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিআরআর কমানোর সুবিধা দিয়েছে, যা ১ জুন থেকে কার্যকর ধরা হবে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল ও ২৩ মার্চ দুই দফায় ব্যাংকগুলোর সিআরআর দেড় শতাংশ কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ব্যাংকঋণের সুদহারও ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
জানা গেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নগদ টাকার সংকটে থাকায় সিআরআর কমানো হয়েছে। তবে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো হলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জন্য সুদহার নির্ধারণ করে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। এমনিতেই অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংকটের মধ্যে আছে। করোনা ভাইরাসের কারণে ঋণের অর্থ যথাসময়ে ফেরত না আসায় এসব প্রতিষ্ঠান তারল্য সংকটে রয়েছে। এ ছাড়া লেনদেন সংকটে পুঁজিবাজারেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণের বিনিয়োগ আটকে রয়েছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে সিআরআর কমানো হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মেয়াদি আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে দ্বিসাপ্তাহিক ভিত্তিতে গড়ে দেড় শতাংশ হারে সিআরআর রাখতে হবে। আর দৈনিক সংরক্ষণের হার কোনো দিন ১ শতাংশের কম হবে না। এর আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্বিসাপ্তাহিক ভিত্তিতে গড়ে আড়াই শতাংশ এবং দৈনিক ২ শতাংশ হারে সিআরআর সংরক্ষণ করতে হতো। তবে মেয়াদি আমানত গ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসএলআর সংরক্ষণের হার বর্তমানের মতো ৫ শতাংশ এবং আমানত গ্রহণ করে না এ রকম আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসএলআর আড়াই শতাংশে অপরিবর্তিত থকবে।
করোনা ভাইরাসের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির হাত থেকে দেশকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এসব প্যাকেজের মধ্যে দুটি প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং শিল্প ও সেবা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা বিতরণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিতে পারবে। এ প্যাকেজের আওতায় বিতরণ করা ঋণের অর্ধেক পুনঃ অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর সুদের একটি অংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। যদিও ঋণ আদায়, গ্রাহক নির্বাচনসহ সব দায়দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর।