প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

শিক্ষা খাতে করোনার নজিরবিহীন কালো থাবা : চিন্তিত শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও শিক্ষক সমাজ : উত্তরণের উপায় খুঁজছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের শিক্ষা খাতে করোনা মহামারী নজিরবিহীন কালো থাবা বিস্তার করেছে। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসমাজ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। শিক্ষা খাতে স্থবিরতা নিরসনে উপায় খুঁজছে সরকার। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১৫ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান ছুটি আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’ আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘৬ আগস্ট পর্যন্ত সব
ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন বন্ধ থাকবে।’
দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। পরে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির আওতায় সারা দেশে সব অফিস-আদালত ও গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় পর ৩১ মে থেকে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধই রাখা হয়। ইতোমধ্যে করোনা মহামারীর কারণে ১ এপ্রিল থেকে নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে।
করোনাকালে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে সর্বস্তরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকার মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে তা বিভিন্ন মেয়াদ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সর্বশেষ ৬ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়োজনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখার আভাস দিয়েছেন। অবশ্য সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার জন্য সংসদ টিভির মাধ্যমে পাঠদান কর্মসূচি চালু করেছে। প্রথম দিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাদান কর্মসূচি শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক শিক্ষাদান কার্যক্রম চালু করা হয়। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিশোর বাতায়ন নামক একটি শিক্ষামূলক সাইটে সংসদ টিভিতে সম্প্রচারকৃত ভিডিও আপলোড করা হয়। এর মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী লাভবান হলেও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা এ প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে যায়। বাস্তবিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকলে দেশ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রদান উৎস টিউশন ফি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের কাছে ৩৯০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি করেছে। তাছাড়া কিন্ডারগার্টেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যার শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন না পাওয়ার কারণে দুস্থ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাদের সংগঠনের নেতারাও সরকারের কাছে এসব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ৫০ কোটি টাকা প্রণোদনা দাবি করেছেন, অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১০ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীও তাদের দৈন্যদশা তুলে ধরে প্রণোদনা দাবি করেছেন। এ অবস্থা অব্যাহত
থাকলে এসব প্রতিষ্ঠানের বাড়িভাড়া, আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার বহন করা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে। ফলে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার বেড়ে যাবে।
এসডিজি-৪ অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষাকে পুরোপুরি সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার কথা থাকলেও সরকার অর্থনৈতিক কারণে তা করতে পারছেন না। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে যারা সরকারের এই ব্যবস্থায় সহযোগিতা করছেন, তাদের অবশ্যই বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শুধু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই নয়, অদূর ভবিষ্যতে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি। এতে চাকরির সংকট দেখা দেবে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে।
দেশে প্রতিবছর বিশেষজ্ঞ ও পরমর্শ ফি বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যায়,
বিশ্বমানের শিক্ষা অর্জিত হলে হয়তো এই টাকা দেশেই থেকে যেত। উপরন্তু দেশে বসেই বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি ডলার উপার্জন সম্ভব হতো। বিশ্বমানের শিক্ষার জন্য বাজেট পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দসহ মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে না পারলে এই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
এমনিতেই বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন মতে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। এই প্রতিষ্ঠানের মতে, শিক্ষার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিতে গুরুত্ব দিলেও দক্ষভাবে ব্যবহারে বিশ্বের ১৪৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৫তম। এমনকি শিক্ষার গুণগত মান নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। কেননা, তৃতীয় শ্রেণির ৩৫ ভাগ শিশু ভালোভাবে বাংলা পড়তে পারে না। তাছাড়া বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে শিক্ষায় খরচ কম। এ অবস্থায় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করলে শিক্ষার গুণমান আরো নিম্নমুখী হবে। স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষার পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সেশন জটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকার এই ব্যবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য তৎপর। সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঐচ্ছিক ছুটি কমিয়ে বাকি দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিতে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে আগ্রহী। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের ক্লাস ৪০ মিনিটের পরিবর্তে ১ ঘণ্টা করার পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন। তবে লকডাউনের কারণে মাসের পর মাস শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ছাড়া থাকতে পারে না। ২০ থেকে ২৫ লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষাবঞ্চিত হলে এবং শিক্ষা গ্রহণের স্বাভাবিকতা নষ্ট হলে এই সংকট দূর করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। তাই বিদ্যালয়ভিত্তিক, অঞ্চলভিত্তিক বাস্তব পদক্ষেপ অবশ্যই নিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, দূরশিক্ষণ পদ্ধতি, অনলাইন পদ্ধতি, রেডিও, টিভি যেখানে যে পদ্ধতি বাস্তবসম্মত, তা বিবেচনা করে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। তবেই এ জাতি অপূরণীয় ক্ষতি থেকে রেহাই পাবে।

করোনা-পরবর্তী শিক্ষাভাবনা
করোনা-পরবর্তী সময়ে পৃথিবী, সমাজ আর আগের মতো হবে না। এখন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, কিন্তু ন্যানোমিটার দৈর্ঘ্যরে করোনা ভাইরাস ঠিকই পরীক্ষা নিচ্ছে। পরীক্ষার বিষয় মানবিক গুণাবলি। এই পরীক্ষায় অনেক সমৃদ্ধ, সম্পদশালী দেশ পাস মার্ক পায়নি। কাজেই এই বৈশ্বিক সমস্যা সফলভাবে মোকাবিলা করতে মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে, কাজ করতে হবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।
বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। মধ্যম কিংবা উচ্চ আয়ের দেশ হতে হলে জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ানের মতো দক্ষ হতে হবে। এই দক্ষতা অর্জনের চাবিকাঠি হলো শিক্ষা। তাই শিক্ষায় জোর দিতেই হবে। বাংলাদেশের ছাত্রসংখ্যা অনেক বেশি; পৃথিবীর ২০০টি দেশের জনসংখ্যা বাংলাদেশের ছাত্রসংখ্যার থেকে কম। বিশ্বায়নের যুগে দেশে যোগ্য কর্মী না থাকলে বিদেশিরা দেশের কাজ নিয়ে যাবে এবং এখন নিচ্ছেও। প্রতিবছর বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকদের ফি বাবদ ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। এই টাকায় মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতনে ১৫ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান করা যায়। দেশের সব বড় প্রকল্পেই বিদেশি বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি। দেশে অনেক মানুষ, কিন্তু যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষের বড় অভাব। তাই নিজের দেশের কাজ নিজেদের আয়ত্তে রাখার জন্য বিশ্বমানের শিক্ষা চাই। তবে বিশ্বমানের শিক্ষার জন্য হঠাৎ করে যথেষ্ট পরিমাণে যোগ্য-অভিজ্ঞ শিক্ষক পাওয়া যাবে না। তবে যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, তাহলে সমস্যাটি অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব। সরকার এখন টিভির মাধ্যমে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সময়সূচি করে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের পাঠদান করানো সম্ভব। করোনার ফলে শিশু, কিশোর, তরুণেরা মাসের পর মাস পড়ালেখা ছাড়া থাকতে পারে না। এটি মানসিক বিকাশের জন্য অনুকূল নয়। এদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে পাঠ্য বিষয়ের উপস্থাপনা তৈরি করে বছর ধরে পরিবেশন করা যেতে পারে। উপস্থাপনা তৈরির জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেয়া প্রয়োজন, যাতে তা ২০ থেকে ২৫ লাখ ছাত্রের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে, তাদের মধ্যে জ্ঞানপিপাসা জাগাতে পারে এবং পাঠ থেকে যেন তারা আনন্দ পেতে পারে।
করোনার মতো মহামারি সমস্যায় যখন স্কুল-কলেজে উপস্থিত হওয়া নিরাপদ নয়, তখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার এই ধারাকে অব্যাহত রাখাই বড় সমাধান। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা যে অনলাইনে কার্যকরভাবে দেয়া যায়, তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। এই পদ্ধতি আরও কার্যকর করার জন্য দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় যে কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা সমাধান করতে হবে। এই দুঃসময়ে শিক্ষাব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। উন্নত বিশ্বে দূরশিক্ষণ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদেরও এই পথ অনুসরণ করতে হবে।
আমাদের তরুণ-কিশোরদের বুঝতে হবে যে জীবন গড়ার বেলায় পরিবার, সমাজ, দেশ ও সরকার কেবল পরিবেশ তৈরি করে দেবে। তাই করোনার দিনগুলোকে কাজে লাগাও। যে বিষয়গুলো শ্রেণিকক্ষে রপ্ত করা সম্ভব হয়নি, এখন তা শিখে নাও। অখ- অবসরে পছন্দের বিষয়গুলো আত্তস্থ করে নিজেকে সমৃদ্ধ করো। জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে শুধু নিজের জীবন গড়াই নয়, দেশ-সমাজের অগ্রগতিতেও অবদান রাখো।

উচ্চশিক্ষাতেও পড়বে বড় প্রভাব
অদৃশ্য এক শত্র“র হাতে জিম্মি আজ সারা বিশ্ব। খুদে এই করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে বিশ্বের সব দেশ আর সব মানুষ লকডাউনে আটকা পড়ে আছে। সারা পৃথিবীর শিক্ষাব্যবস্থাই একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থীরা না হয় বাড়ি চলে যেতে পেরেছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা? তাঁরা পড়েছেন দুরবস্থায়। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে এখন লকডাউন চলছে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা পরিবার-পরিজনবিহীনভাবে আটকে আছেন ঘরে। আবার যাদের পড়ার ফান্ডিং বা বৃত্তি নেই, তারা খ-কালীন কাজ করে পড়ার ও থাকার খরচ চালান। কিন্তু করোনা ভাইরাসের লকডাউনে সেই কাজ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক চাপে পড়েছেন তারা। অস্ট্রেলিয়ায় যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর খরচ চালানোর সামর্থ্য নেই, তাদের বলা হয়েছে নিজের দেশে ফেরত চলে যেতে। যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপে কর্মক্ষেত্রে ঢোকার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের অনেকেই কোনো চাকরি পাননি। কয়েক মাস আগেও যা ছিল অবিশ্বাস্য।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বার্ষিক বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এর প্রভাব পড়বে শিক্ষার্থীদের ওপরও। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা পিএইচডি বা স্নাতকোত্তর করছেন, গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ বা ফেলোশিপ যদি কারও থাকে, তাহলে সেটা আপাতত সুরক্ষিত। কিন্তু সরকারের দূরবস্থা যখন হয়, তখন তার প্রভাব গবেষণা খাতের বরাদ্দের ওপরও পড়ে। কাজেই আগামী দুই বছর নন-মেডিকেল খাতে রিসার্চ গ্র্যান্টের তহবিল কম আসবে আন্দাজ করা যায়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই আগামী কয়েক বছর তহবিলের ঘাটতি থাকায় পিএইচডি বা স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ কমে যাবে অনেকাংশে। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শেষ করে বেরোচ্ছেন, তাঁদের জন্য কাজের সুযোগও কমবে। গত দুই মাসে সব কোম্পানির অবস্থার বারোটা বেজেছে, তাই চাকরির সংখ্যা কমবে। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে গেছে, বেকারের সংখ্যাটা আরও বাড়ছে প্রতিদিন। একাডেমিক কার্যক্রমে নিয়োগ স্থবির হয়ে গেছে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে।
নিজের মানবিক গুণাবলির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সময় এখন
করোনা হয়তো এই পৃথিবী থেকে চলে যাবে একদিন। এর আঁচড় থেকে যাবে সভ্যতায়। বাংলাদেশ সরকার মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার কিছু পাঠদানও। তবে খুব সহজেই ধারণা করা যায় যে বাংলাদেশের যেখানে সব পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই; সেখানে সবার টেলিভিশন থাকবে এবং সবাই এই পাঠদানে অংশ নিতে পারবে, সেটিও আশা করা যায় না।
এখন তাহলে আমাদের উপায় কী হবে? আমরা নিশ্চিত যে সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক অবস্থা মোকাবিলা করতে গিয়ে আমাদের সব স্তরের অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়বে। সেসব বিষয় আমলে নিয়ে কীভাবে আমাদের করণীয় ঠিক হবে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকটি বিভাগ নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের ক্রমাগত আলাপচারিতার ফল হিসেবে শিক্ষক সমিতিও একটি তহবিল তৈরি করেছে, যা থেকে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হবে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েরও লক্ষ্য হওয়া উচিত এই ধরনের শিক্ষা তহবিল তৈরি করা। করোনা-পরবর্তী অবস্থায় শিক্ষার ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেয়া হবে, সেটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এখনই পরিকল্পনা করতে হবে।
প্রতিটি দেশে যেকোনো সংকটের সময়ই বুদ্ধিজীবীদের কাজ থাকে সংকট-পরবর্তী শিক্ষা খাত নিয়ে পরিকল্পনা ও রূপরেখা প্রণয়ন। কিন্তু আমাদের দেশে সেটিও গড়ে ওঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রয়োজন দেশের শিক্ষাবিদদের নিয়ে করোনা-পরবর্তী শিক্ষা কর্মসূচি তৈরি করা, যাতে এই ক্ষত তাড়াতাড়ি সারানো যায়।
করোনার ভয় তো আছেই, তবু সময়টিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে জন্য বাড়তি পরিকল্পনা দরকার। নিজের নিরাপত্তা অটুট রেখে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সময়ও এটি। নিজেকে শাণিত করা এবং নিজের মানবিক গুণাবলির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের সময়ই এখন।

শিক্ষায় অনলাইন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ১০টি মাধ্যম
নোভেল করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বজুড়ে যে সংকট তৈরি করেছে তাতে মানুষের জীবন যাপন প্রণালিতে নেমে এসেছে এক ঘোর অমানিশার তীব্র যাতনা। জাতীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপর যতটা প্রভাব পড়েছে তার থেকে বেশি ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরে। করোনার ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সকল ক্ষেত্রে লকডাউন, শাটডাউন ও সংগনিরোধ বিধি জারি করা হলেও সেক্ষেত্রে রয়েছে কিছুটা শিথিলতা এবং আংশিকভাবে হলেও স্বাভাবিক কার্যক্রম রক্ষণশীলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ম মাফিক পড়াশোনা করার এক আবশ্যকীয় মিলন ক্ষেত্র এবং সামাজিক দুরত্ব পালন বিধির অন্তরায়, তাই জাতীয়ভাবেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। কাঠামোবদ্ধভাবে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষাদান বা শিক্ষাগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করাকে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান এ জাতীয় কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের সরকারি হুশিয়ারি প্রদান করা
হয়েছে।
বাংলাদেশে এ লকডাউন ও সামাজিক দুরত্ব অবলম্বন বিধি ঘোষনা করা হয়েছে গত ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে তারও পূর্বে ১৬ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় এটি এমন একটি সময় যখন শিক্ষার সকল স্তরে টার্ম/সেমিষ্টারের শুরু কিংবা শেষ। আমাদের দেশের শিক্ষা ধারার এ সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। স্কুলগুলিতে ন্যাশনাল শিক্ষাক্রমে শিক্ষাবর্ষের কেবল শুরু এবং ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষাক্রমে শিক্ষাবর্ষের প্রায় শেষ। কলেজেগুলিতেও এমনই অবস্থা। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার এক ভারী পাহাড়। অভিভাবকদের মাঝে ভীষণ সংশয় ও তীব্র আশংকা যে কি হবে তাদের সন্তানের শিক্ষার ভবিষ্যৎ এবং কেমন হবে পরীক্ষা পদ্ধতি। এদিকে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যেও নানা কৌতুহল যে তারা আদৌ পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, স্কুল কতদিন এভাবে চলবে, পড়াশোনার কি হবে ইত্যাদি।
এ সকল জল্পনা-কল্পনা ও আশঙ্কার কিছুটা অবসান ঘটাতে আমাদের সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষাধারা অব্যাহত রাখার বিকল্প পদ্ধতির উপর বেশ জোর দিয়েছেন। চালু করেছে ‘আমার ঘরে আমার বিদ্যালয়’ স্লোগান নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প ধারা। ইতোমধ্যেই সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার কিছুটা অবসান ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ইউজিসি কর্তৃক কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হলেও স্কুল কলেজগুলোতে বিকল্প পদ্ধতি তথা অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ধারা অব্যাহত রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সকল ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে সত্য। কিন্তু জাতির এ সংটকালীন মুহূর্তে ছাত্র ছাত্রীদেরকে পড়াশোনায় সক্রিয় রাখতে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব যে অনেক বেড়েছে তাতেও কোন সন্দেহ নেই। এটিকে মনে করা যায় করোনার ইতিবাচক প্রভাব।
অনলাইন শিক্ষা আসলে কি? অনলাইন শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যা সাধারণ শ্রেণি শিক্ষা থেকে ব্যতিক্রম এবং এটি একটি ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি যা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন হয় আধুনিক প্রযুক্তি তথা কম্পিউটার বা মোবাইল কিংবা এ জাতীয় কোন ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ তা হতে পারে নেট ডাটার মাধ্যমে বা ওয়াই-ফাই বা ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে সংযোগকৃত।
মোটকথা, ইন্টারনেট নির্ভর এ যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে কোন ক্লাশ পরিচালনা করাই হলো অনলাইন ক্লাশ যেখানে একজন শিক্ষক ক্লাশরুমের বাইরে সুবিধাজনক যেকোনো স্থান থেকে পাঠদান করেন এবং শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ বাড়িতে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লাইভ ক্লাশে অংশগ্রহণ করে ও পারস্পারিক মতবিনিময় করে থাকে। শুধুমাত্র স্বশরীরে উপস্থিতি ছাড়া একাডেমিক
বাস্তব ক্লাশের সাথে অনলাইন ক্লাশের কোন পার্থক্য নাই। এখানে অনুমতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থী একই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকেই ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারে। শিক্ষক সরাসরি ক্লাশ নেন আর শিক্ষার্থীর কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনই হবে তার ক্লাশ। শিক্ষার্থী বাস্তব ক্লাশের মতো এখানেও শিক্ষককে প্রশ্ন করে তাৎক্ষনিক সমাধান পেতে পারে। এ যেন ফেইস টু ফেইস ক্লাসের মতই। এমনকি, এ ক্লাশসমূহ সেভ করা যায় বলে নোট করার প্রয়োজন হয় না এবং কেউ লাইভে উপস্থিত হতে না পারলেও পরে তা দেখতে পাবে। এছাড়াও ইমেজ, ভিডিও আপলোড, গ্রাফিক্স কিংবা এনিমেশনের মতো জীবন্ত উপস্থাপনা পাঠদান প্রক্রিয়াকে আরোও প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলে।
গতানুগতিক শিক্ষা ধারায় আমাদের ছেলে মেয়েরা বই গুছিয়ে ও কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে দলবল বেধে একসাথে স্কুলে যাওয়ার মাঝে অনেক আনন্দ পায়। একই শ্রেণিকক্ষে বসে সরাসরি শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদ্যা নেয়ার তৃপ্তিই আলাদা। কিন্তু, করোনা সংকট যদি চলতে থাকে দীর্ঘকাল তাহলে তো আমাদেরকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। তাই আবশ্যক হয়ে উঠেছে অনলাইনে শিক্ষা
ধারা অব্যাহত রাখার।
আপদকালীন এ সময়ে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি যে অতি গুরুত্বপূর্ণ তা ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। পৃথিবীর সকল দেশই এখন এ পদ্ধতির উপর ভর করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম দিকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখন অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীরা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। কারণ, কোন বাধাই যেন আমাদের শিক্ষা ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে তা আজ কোভিড-১৯ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে।
কোভিড-১৯ এর ফলে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক যেখানে ঘরবন্দি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহও তালাবদ্ধ এবং কাঠামোবদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ একেবারে অসম্ভব, সেক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থাই এখন অন্যতম উপায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছেলে মেয়েরা ঘরে বসে অনায়াসেই সামনা-সামনি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে।
অনলাইনে শিক্ষা ধারার সবচেয়ে বড় উপকার হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাদের পাঠদান ও গ্রহণ ব্যবহৃত ডিভাইস এ সেভ করে রাখতে পারেন, যা পরবর্তীতে পুনরায় ডাউনলোড করে পাঠ অনুস্মরণ করতে পারে।
আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন লালন করি তার পূর্ণ বাস্তবায়নের পথ আরো সহজ করে দিয়েছে বর্তমানের এ মহাসংকট। যেহেতু এখন আর স্কুল-কলেজে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং বাসাতেই পড়তে হবে, তাই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাই এখন গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। এ জন্য প্রয়োজন আবশ্যকীয় কিছু শিক্ষাদানের মাধ্যম যা ব্যবহার করে পড়াশোনার ধারা অব্যাহত রাখা যায়। এ ধরনের কিছু অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা পোর্টাল বা সাইটের নাম উল্লেখ করা হলো যা ছাত্র ছাত্রীদের ঘরে বসে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে বেশ সহায়ক হবে:
জাগো অনলাইন স্কুল
িি.িলধধমড়.পড়স.নফ,
টেন মিনিট স্কুল
িি.ি১০সরহঁঃবংপযড়ড়ষ.পড়স,
শিক্ষক ডটকম
িি.িংযরশশযড়শ.পড়স,
এডুটিউববিডি ডটকম
িি.িবফঁঃঁনবনফ.পড়স,
সৃজনশীল ডটকম
িি.িংৎরলড়হংযরষ.পড়স,
ই-ইশ‹ুল
যঃঃঢ়://বংযশঁষ.পড়স
এছাড়া সরকারি উদ্যোগে নির্মিত কয়েকটি ওয়েব সাইট রয়েছে যা থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠগ্রহণ
করা যেতে পারে। যেমন; শিক্ষা
বাতায়ন িি.িঃবধপযবৎং.মড়াঃ.নফ, ই-বুক িিব.বনড়ড়শ.মড়াঃ.নফ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটসমূহ।
জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশোনার সংস্পর্শে রাখতে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা হলো একমাত্র মাধ্যম। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন নামে নানাবিধ অ্যাপ্লিকেশনস আবিষ্কার করেছেন যা অনলাইন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিচে এ ধরনের কিছু মাধ্যম সম্পর্কে অবহিত করা হলোÑ
১. জুম (তঙঙগ)
অনলাইন লাইভ ক্লাশ পরিচালনায় বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেবা হচ্ছে জুম। মিটিং বা শ্রেণি ভেদে ১০০ হতে ১০০০ জন পর্যন্ত ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির একটি ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারে। অংশগ্রহনকারীরা পরস্পরকে দেখতে ও শিক্ষককে প্রশ্ন করতে পারবে। এখানে ব্যক্তিগত মিটিং এবং গ্র“প মিটিং এর সুবিধা আছে। এ ছাড়া ক্লাস চলাকালীন সময়ে কেউ কিছু লিখে বোঝাতে চাইলে প্রতিটি স্ক্রিনে একটি হোয়াইট বোর্ড ভেসে উঠে, যেখানে প্রাসঙ্গিক যে কোন প্রশ্ন করা যেতে পারে।
২. গুগল ক্লাসরুম
(এড়ড়মষব ঈষধংংৎড়ড়স)
এটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় বহুল প্রসিদ্ধ একটি পাঠদান মাধ্যম। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক শিক্ষকই এখন গুগল ক্লাসরুম (পষধংংৎড়ড়স.মড়ড়মষব.পড়স) ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছেন। বিনা মূল্যে কোনো শিক্ষক চাইলে গুগল স্যুটে নিবন্ধন করতে পারেন। তারপর নির্ধারিত কোড দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন ওই ক্লাসে। একটি কোর্সে অসংখ্য ক্লাসের পাশাপাশি ২০ জন শিক্ষক তাঁদের ক্লাস যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য গুগল ফরম, গুগল ডক, গুগল ড্রাইভ ও ইউটিউব ভিডিও যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। ক্লাসরুমে থেকে যাওয়া ক্লাসের ভিডিওগুলো পরেও দেখা যাবে। শুধু
কম্পিউটার নয়, যেকোনো ডিভাইস থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন অনলাইন ক্লাসে। কোন শিক্ষার্থী ক্লাস মিস করলে পরে তার সুবিধামত সময়ে পাঠ গ্রহণ করতে পারে।
৩. কোর্সেরা (ঈড়ঁৎংবৎধ)
এটি একটি উন্নতমানের প্লাটফর্ম যা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী-শিক্ষক এক হওয়ার সুযোগ পান। কোর্সেরা (িি.িপড়ঁৎংবৎধ.ড়ৎম) প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নামী দামী শিখক ও প্রফেসরদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।
৪. ইউটিউব লাইভ (ণড়ঁ ঞঁনব খরাব)
এটি একটি সরাসরি কোন শিক্ষা পদ্ধতি না হলেও শিক্ষক তার বক্তব্য রেকর্ড করে আপলোড করেল শিক্ষার্থী তার পছন্দমত সময়ে দেখে নিতে পারেন। এটি ভিডিও শেয়ারিংভিত্তিক সবচেয়ে বড় সাইট। কেউ চাইলে তাঁর নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একটি চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। এটিতে একটি প্রাইভেট অপশন আছে যা দিয়ে শুধু নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের দেখানো যায়। আবার একবারে সব ভিডিও আপলোড করে কোর্সের নির্ধারিত সময়ে ভিডিও প্রিমিয়ার করা যায়। এটি অনলাইন ভিত্তিক চমৎকার একটি শিক্ষাদানের মাধ্য।
৫. ফেসবুক লাইভ ক্লাস (ঋধপবনড়ড়শ খরাব পষধংং)
এটি খুবই সহজভাবে ব্যবহার উপযোগী একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা প্রয়োগ করে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ক্লাসরুম বানাতে পারে। কোর্সভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্র“পে লাইভ ক্লাস নেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, নোটস বিনিময়ের সুবিধা তো থাকছেই। লাইভ ক্লাস চলাকালে কমেন্টে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবেন তাঁদের সমস্যার কথা। ঠিক ওই সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না থাকতে পারলেও পরে গ্র“পে ভিডিও হিসেবে থেকে যাবে এই লাইভ ক্লাসগুলো। তাই কোনো শিক্ষার্থী লাইভ ক্লাস মিস করে গেলেও পরে আবার গ্র“পের ওয়াল থেকে জেনে নিতে পারবেন। এ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠ গ্রহন করে তা আয়ত্ব করতে পারে। এমনকি হোমওয়ার্ক, ক্লাসওয়ার্ক বা যেকোনো প্রজেক্ট জমা দিয়ে শিক্ষার্থী তার ফিডব্যাক নিতে পারে।
৬. টিম ভিউয়ার (ঞবধস ঠরববিৎ)
এটি অনলাইন ভিত্তিকক্লাশ পরিচালনার জন্য ছোট পরিসরের একটি মাধ্যম। এটি ব্যবহার করতে শিক্ষককে নির্ধারিত পাসকোড দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদেরকে আমন্ত্রণ জানাবেন এবং সুবিধামত পদ্ধতিতে ক্লাস নিতে পারেন।
৭. গুগল অ্যাপ্লিকেশনস (মড়ড়মষব ধঢ়ঢ়ষরপধঃরড়হং)
গুগল ক্লাসরুম ছাড়াও গুগলের রয়েছে আরো বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনস যা ব্যবহার করে খুব সহজেই সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এদের মধ্যে প্রসিদ্ধগুলি হলো, এ-ংঁরঃ, এ-সববঃ, ঐধহমড়ঁঃ, উঁড় ইত্যাদি।
৮. কে টু এডুকেশন (শ-১২ বফঁপধঃরড়হ)
এটি অ্যাপেলের একটি অ্যাপ্লিকেশন যা ব্যবহার করে ফলপ্রসু পাঠদান করা যায়। এটি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন।
৯. ফ্লাশব্যাক এক্সপ্রেস (ঋষধংযনধপশ ঊীঢ়ৎবংং)
তৈরিকৃত কন্টেন্ট স্ক্রীনে উপস্থাপনার পাশাপাশি এ বিষয়ে শিক্ষকের লেকচারও সরাসরি দেখা যাবে ফ্লাশব্যাক এক্সপ্রেস নামক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাশে।
১০. সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপস (ঝড়পরধষ গবফরধ অঢ়ঢ়ং) বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম যা ব্যবহার করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরামদায়কভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে পারেন। এ মাধ্যমগুলোর মাঝে প্রধান হলো, গবংংবহমবৎ, রসড়, খরহশবফরহ, ওহংঃধমৎধস, ঝশুঢ়ব, ডযধঃং অঢ়ঢ়ং প্রভৃতি।

শেষ কথা
করোনা আঘাত বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি
বিরাট চ্যালেঞ্জ যা থেকে নিজেদেরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার একটি মহান শিক্ষা তারা গ্রহণ করতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ যে কোনো বাধাই নয়, বরং তা আমাদেরকে শিক্ষা ধারায় একটি নব দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। ইতোমধ্যে শিক্ষা ধারাকে অব্যাহত রাখতে যে অত্যাধুনিক শিক্ষার মাধ্যম ও উপকরণ আবিস্কৃত হয়েছে তার সঠিক ও সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ছেলেমেয়েরা একবিংশ শতাব্দীর যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্টভাবে সফল হতে পারবে। একটি সুখের বার্তা হলো যে, আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ঢাকাতে অবস্থিত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস চালু করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সকল শাখাতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা ক্লাস টেস্ট ও ফাষ্ট টার্ম পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা শেষ করেছে। তারা গুগল মিট, হোয়াটআপস, মেসেঞ্জার, নিজস্ব মডিউল ঝধধঝ ও গুগল ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে বেশ সফলতা অর্জন করেছে বলে জাতীয় কয়েকটি নিউজ মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাদের দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এক সাথে একই পদ্ধতিতে অনলাইন শিক্ষার সুবিধাজনক যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আর কোন সংকট থাকবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সকল সংশয় দূর হবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকবে। ফলে জাতি হবে শিক্ষায় উন্নত এবং করোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।